কীসের ক্ষমা? কোন ক্ষমা?

হাত ভরে ঘুষের টাকা, লোককে বাটে ফেলে অর্জিত ‘উপরি লাভের’ টাকা নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা মোটামুটি সেরে পাঞ্জাবি গায়ে চাপিয়ে আতর মেখে মসজিদে গিয়ে কদরের রাত খোঁজার এক সামাজিক ‘স্টেইটাস’ ছাড়বেন না আজকে সোলেমান সাহেব। মসজিদ কমিটির সদস্য সচিব, পৌনে নয়টার নামাজে আটটা চল্লিশে গেলেও সবাইকে ডিঙ্গিয়ে, অ্যাকাব্যাকা হয়ে প্রথম কাতারে চলে এলেন। এদিকে ঈদ চলে এলেও বেতনটা না পাওয়া মোখলেস মন খারাপ করে মসজিদের বারান্দায় বসে থাকে যে কিনা সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরি করে। সে খুঁজবে আজ কদরের রাত। কোনো অ্যাডমিশন পরীক্ষায় চান্স না পেয়ে সবখানে খোঁটা খেয়ে তারেকের মন খুব খারাপ। আব্বু মারা যাওয়ার আগেও যেখানে বসতো, মসজিদের সেখানে এসে বসে আছে আজ। তারেক তার স্কুলজীবনের ক্লাসমেট সৌরভের সাথে আজকের আলাপের কথা ভাবছিলো। সৌরভ ভর্তি হয়েছে ইস্টওয়েস্টের বিবিএতে। ওর কয়েকটা গার্লফ্রেন্ড যাদের নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়, সেলফি তুলে। বন্ধুরা বলে ওদের সম্পর্ক বেশি ওপেন, আরো যা বলে সেসব কানে নিতে চায়না তারেক। সৌরভের আব্বু মসজিদে অনেক টাকা দেয়। তাই সবাই খুব সম্মান করে ওদের। সৌরভ জায়নামাজ হাতে করে মসজিদে ঢুকতেই খাদেম ওকে দরজা খুলে নিচতলার এসির অংশে ঢুকিয়ে দিলো। তারেক তাকালো মসজিদের গেইটের সামনের আজন্ম খোঁড়া ভিক্ষুকটার দিকে, তার নাম লাবু। লাবু আজকে নামাজ পড়বে না? লাবু কি কদরের রাত চায় না? লাবু কি ক্ষমা পেয়ে জান্নাতে যাবে না? তারেক লাবুকে প্রতিদিন দেখে, সে খেতে বসলে অন্যদেরকেও সাধে। তারেকের মনে হয়, আল্লাহ কাকে কাকে ক্ষমা করবেন? তার জীবনে কী হবে? কী করবে সে ভবিষ্যতে? তারেক চিন্তার কূলকিনারা করতে পারে না, অসহায় অনুভব করে অশ্রুসজল চোখ বুঁজে বিড়বিড় করে, ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি’…

২২/৬/১৭

Advertisements
Posted in ব্লগর ব্লগর | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

পপুলিস্ট সোসাইটি

আজকে থেকে অনেকগুলো বছর আগে আমি প্রায়ই লিখতাম যে আমাদের দেশটা পচে-গলে-নষ্ট হয়ে গেছে। প্রচুর তিক্ত-জঘন্য-হীন ঘটনা দেখে-জেনে-শুনে লিখতাম ওসব। কিন্তু এতে অনেকে আমাকে সামনে-পেছনে ‘নেগেটিভ/পেসিমিস্ট’ ইত্যাদি নাম দিয়ে বলতে থাকায় আমি অনেক সমস্যাতে পড়েছিলাম। আমাকে আজো সেসবের কারণে খেসারত দিতে হচ্ছে।

যন্ত্রণাদগ্ধ হতে হতে একসময় ভাবলাম, কী দরকার? এই সোসাইটি পপুলিজমের জন্য পারফেক্ট। তাই আমিও ঠিক করলাম এইসব তিতা কথা বাদ, এখন থেকে পপুলার ট্রেন্ডে গা ভাসাবো। যেমন, মুভি দেখে শেয়ার দেয়া, গানের লিংক শেয়ার, বিভিন্ন মিম শেয়ার করে হা-হা-হা করে হেসে হিউমার করার পরমানন্দ পাওয়ার চেষ্টা করা। জাওয়াদ করিম, সালমান খান ইত্যাদি সেকেন্ড জেনারেশন বাংলাদেশিদের নিয়ে আভেগে আপ্লুত হওয়ার ভিডিও শেয়ার করাও ‘ইতিবাচক প্রজন্মের’ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অংশ। অথচ আমি প্রশ্ন তুলতে চাইনি স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও এদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কেউ কেন গর্বিত করতে পারেনা? আমার চেনাজানা অনেকগুলো মেধাবী ছেলে নিজেকে ছেঁচড়ে দেশের বাইরে নিয়ে গেছে শুধুমাত্র হতাশা কমাতে। জামাল নজরুল ইসলামদের মতন মহান মানুষগুলো এই দেশের কোথাও স্থান পায় না কেন সেই প্রশ্ন করে লজ্জিত হতেও চাইনা। বাংলাদেশ নাকি বহুত এগিয়ে গেছে সেই ব্যাপারে ‘আস্থা রেখে আগে বাড়ার’ প্রচেষ্টাতেও আমি সদাতৎপর থাকতে চেয়েছি।

দিনশেষে দেখলাম দেশবাসী চিন্তিত অপু-শাকিব, রেইনট্রি হোটেল এবং এই অতি বিশাল বাজেট থেকে এক লাখে ৩০০ টাকা এক্সাইস ডিউটি বৃদ্ধির মতন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ইস্যুতেই। বাজেটের সময় হয়েছে, নিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যমে, পত্রিকার প্রথম পাতায় এসে গেছে মাটির নিচে চাপাপড়া কিছু পুরোনো ইস্যু। আমি নিশ্চিত, এই সপ্তাহ শেষ হবার আগেই গরম কিছু ইস্যু চলে আসবে, জনগণ তাতে বুঁদ হয়ে থাকবে। ঘরে ঘরে এপ্লাসের বাম্পার ফলনে আরামের ঘুম ঘুমাবে। আছে লিভারপুল-চেলসি, রিয়াল-বার্সা, মাশরাফি-চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি–নেশায় ডুবে থাকার অনন্ত উপকরণ।

ইদানিং পুরোনো আগুণের আঁচ অনেকের গায়ে লাগছে, উপলব্ধি থেকে টের পাচ্ছে দেশ নষ্টদের অধিকারে গেছে। অথচ আমার ভয় লাগে আর হয়ত ক’টা বছর পরে দেখবো যারা এখন অর্থ-ক্ষমতা দিয়ে উঁচু অট্টালিকায় চড়ে নিত্য দগ্ধ হওয়া থেকে বেঁচে থাকছে– তারাও আর মুক্তি পাবে না। অন্যায়-অশান্তি-নির্মমতা-অত্যাচারের ঘটনা তাদের ‘সিকিউর্ড’ জীবনকেও বিষাক্ত করে ফেলবে। প্রতিটি ঘরে-ঘরে আহাজারি হবে। কেউ রক্ষা পাবেনা। আমি এই সময়ের সাক্ষী থাকতে চাইনা। ক্ষমা চাই পরের প্রজন্মকে এই দেশে এভাবে রেখে যেতে। আমি পরিপূর্ণভাবে নিরূপায়। দেশ ছেড়ে যেতেও ইচ্ছে হয়না এখনো। অথচ আমার দৃঢ় উপলব্ধি, এই দেশ একটা পিওর পলিটিক্যাল-ইকোনোমিক-কালচারাল কলাপ্স অবস্থায় আছে। খুবই নির্মম পরিণতি আসন্ন। সবদিক থেকে। সবদিক থেকে।

আল্লাহ যেন নির্বোধ-অসচেতন মানুষদের শীঘ্রই পথের দিশা দেন, জ্ঞান দেন, ক্ষমা করে দেন। যারা লোভ-ঘৃণা-হিংসার কারণে ক্রমাগত দেশকে ও দেশের মানুষকে যন্ত্রণা দিচ্ছে ও সমস্ত সিস্টেম নষ্ট করে ফেলছে, তারা যেন ধ্বংস হয় সমূলে, সপরিবারে; যেন অন্যায়ের ফল ভোগ করে অনন্তকাল ধরে।

০৭/০৬/১৭

Posted in দেশ | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

আল-সৌদের নষ্ট রাজতন্ত্র

আল-সৌদের রাজতন্ত্র নজদ থেকে ‘সৌদি আরব’ নাম নিয়ে একটা ‘মধুর ব্যবসা’ শুরু করেছিলো। ‘মক্কা-মদীনা’ দুই হারামাইনের কাস্টোডিয়ান সেজে তারা বিশ্বের মুসলিমদের আবেগে সম্মান-শ্রদ্ধা-ভালোবাসা নিয়ে শতাব্দী ধরে খেলাধূলাও করেছে। অথচ মুসলিম মাত্রই জানে, আবরাহার হাতীবাহিনীর আগমনে আবদুল মুত্তালিব (যারা তখনকার কাস্টোডিয়ান ছিলেন) মোটেই বিব্রত হননি কাবা নিয়ে। তিনি জানতেন আল্লাহই তার উত্তম রক্ষাকারী।

ঢঙ্গী কাস্টোডিয়ান মুসলিমদের দরকার নেই। এককালের মেষপালকের বাচ্চাদের হঠাৎ তেল বেচা পেট্রোডলার দিয়ে অপচয়ের ও অন্যায়ের খরচের সার্ভিস বিশ্ববাসীর দরকার নেই। ওদের এয়ারফোর্সের বোমায় ইয়েমেনের মৃত শিশুদের কান্না এখনো আকাশে-বাতাসে অনুরণিত হয়। এগুলো ইসলাম নয়; পিওর পলিটিক্স, নষ্ট পলিটিক্স।
সৌদি আরবের সাথে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের চলমান এই মধুর সম্পর্ক দেখার পর এতটুকু উপলব্ধি দরকার মুসলিমদের যে আবদুল আজিজের এই সন্তানেরা তাদের পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতায় উসমানী খিলাফতের উপস্থিতি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে অন্য কোন মুসলিম উত্থান মেনে নিতে পারে না। কাতারের মতন উদার, আন্তরিক, সত্যিকারের মুসলিম জনপদকে আশেপাশের নষ্ট কুকুর-শেয়াল রাজতন্ত্র-প্রজাতন্ত্ররা এখন নাকাল করতে নেমেছে আমেরিকা-ইসরাইলের নেপথ্য চাহিদায়।

এই সৌদি আরবের নষ্ট রাজতন্ত্র আমাদের দরকার নেই। এর পেছনের নষ্ট ইতিহাস আমাদের কাঁদায়। অজস্র হত্যা, নির্যাতন, কারাভোগের ইতিহাস মিশে আছে এই রাজতন্ত্রের সাথে। এই সৌদি আরব এখন কাতারকে বয়কট করে, আমেরিকা ও ইসরায়েল তাকে ‘লাইক’ দেয়। তবু তাদের নিয়ে বিশ্বময় পেট্রোডলার ও তদসংলগ্ন পলিটিক্সের বেনিফিশিয়ারি স্কলাররা একদম চুপ!

সৌদি রাজতন্ত্রের ধ্বংস কামনা করি। মুসলিমরা সৌদি নিয়ে যে ফ্যান্টাসিতে ভুগে, আশা করি এই নগ্ন বাস্তবতা খুব শীঘ্রই ‘যারা বুঝার’ তারা দেখবে ও বুঝবে।

২২/০৫/১৭

* * * * * * * * * * * * * * *

আব্দুল আজিজ বিন সৌদের ছানাপোনারা তলোয়ার হাতে ‘ইসলামি জোশের নাচানাচি’ কইরা তাদের আব্বাহুজুর ট্রাম্প ও তার কইন্যা মেলানিয়ার মন জয় করার চেষ্টা কইরা দোজাহানের ব্যাপক সওয়াব হাসিল করলো। তোহ, প্রিয় ছালাফি হুজুরগণ, মক্কা-মদীনার ‘কাস্টুডিয়ান’ বাদশা সালমান গংদের এই নাচানাচি, পরনারীর সাথে ঢলাঢলি নিয়ে আফনাদের বইক্তব্য কী? নষ্ট জ্ঞানের কোন বিশেষ চিপাচাপায় আপনারা এই ঘটনাকে ‘জায়েজ’ বইলা ফতোয়া দিবেন?

আজকেও কি ঢাকার ‘বিশেষ সম্প্রদায়ের’ মসজিদগুলায় কাস্টোডিয়ানদের জইন্য দোয়ায় নাকের পানি-চোখের পানি এক করা হইতেসে? আহা! পেট্রোডলারের কী নিদারুণ প্রয়োগ বিশ্বময়!!

চুপ কইরাই ছিলাম। এখন সিএনেনের ফেসবুক পেইজের লাইভে দেখলাম নেতানিয়াহু (লা’নাতুল্লাহে আলাইহে) ‘আরব নেতাদের’ বিশেষ একজন হইয়া বিশেষ লাটভাইমার্কা বক্তব্য মারতেসে, পাশে মহামতি ট্রাম্প। পরম প্রেম!!

ট্রাম্প-ওবামা-বুশ-নেতানিয়াহু-এহুদ বারাক এবং আল-সৌদের ঔরশের নষ্ট প্রজন্ম– সকল খুনীরই যেন খোদা উপযুক্ত বদলা নেয়… তাদের সমর্থক চ্যালাচামুন্ডাগুলাও অভিশপ্ত হোক।

০৬/০৬/১৭

Posted in দেশ, ধর্ম | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

বেশি ভালা কথা

হোমপেজ জুড়ে অনেক ভালো কথা, ভালো উপদেশ, ভালো লিংক। অর্থাৎ রমাদান সমাগত। খুবই দারুণ! কিন্তু ভালো কথা যেই অন্তরগুলার জন্য, তারা কি প্রস্তুত? যারা ফেসবুকে আসে তার মতই আরেক খুব অগভীর ঈমান ও জীবনবোধের লোকজনের লেখা পড়ে ইসলাম ও জীবনকে বোঝার তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে, তারা কতটা বোকা নিজেরা কি উপলব্ধি করে? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছে কি কেউ প্রকৌশল কিংবা চিকিৎসার শিক্ষালাভ করতে যায়?

ফেসবুকে গত ১২ ঘণ্টা ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতাল ভাংচুরের ভিডিও দেখলাম। দেশের তথাকথিত শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের নির্মম অন্তরের ছেলেগুলার ভাংচুর। এসব তো দেশেরই প্রতিচ্ছবি। মানুষ নামের নির্মম পিশাচ, দানব, হায়েনারা তাদের শ্বদন্ত লুকিয়ে আমাদের আশেপাশেই থাকে। সমাজ এখন নির্মমতা ও পাশবিকতার জন্ম দেয়, লালন করে।

ফেসবুকে যারা পড়ে থাকে, বেশিরভাগই সমস্যা নিয়ে আলাপ করে, মুখ খুলে গালি দেয়। ফেসবুক ঘৃণার চাষাবাদ করে। ঘৃণার নেশা ধরিয়ে দেয় সবাইকে। ডাক্তাররা কোথাও মাইর খেলে তারা দলবেঁধে শেয়ারিং শুরু করে ফেলেন –ঘৃণা। কেউ সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষেপে যান, কেউ ধর্মকেই দেখতে পারেন না, কেউ ভিন্ন রাজনীতিকে গালিগালাজ করেন। ইদানিং মুসলিম নামওয়ালারা যেভাবে ইসলামকে ধুয়ে দিতে থাকেন তাতে অবশ্যই তাদের নিজ ‘ধর্মধারণ’ নিয়ে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে। নিজের বাপ-মা নিয়ে এভাবে সমালোচনা করতে পারেনা কেন তারা? অথবা, স্রেফ বলে দিলেই হলো,” মরার পরে কবর দিয়ো না, গোসল দিয়োনা, জানাজা দিয়ো না।” ধর্ম কাউকে কিছু জোর করেনা। সবাই নিজের ঠেকায় আশেপাশে ঘুরঘুর করে। যারা ধর্ম বেইচ্চা খায়, সেটাও নিজের ভালো লাগে তাই। ধর্মকে ধুয়ে লাভ নাই। জগতে ধর্ম, বকধার্মিক, ধর্মবিদ্বেষী ছিলো হাজার কোটি বছর ধরেই। ক’জনা সে বিশ্বাসে দুনিয়াতেই শান্তি পায়? আখিরাত তো পরের ধাপ! তুমি কিছু না বলে সুখ পাও তো? সুখ খোঁজ, ধর্মে হোক, ধর্মহীনতায় হোক। পেলে চুপে যাও।

অনেক আগে পড়েছিলাম, ফেসবুকে এসে ধর্মের আলাপ করা হলো মদের বারে গিয়া ওয়াজ করার মতন। ব্যাপক ভালো লেগেছিলো। এখানে প্রায় সবাই ঘেন্না করতে আসে, অন্তরের গরল উদগীরণ করতে আসে, অপরকে হিংসা করতে আসে। অথচ এই কথাটা পড়েই অনেকে ক্ষেপে যাবে আমার উপর। অথচ দিনশেষে তারও এগুলোই হয়। ১০ বছর ধরে ফেসবুক জগত দেখলাম।

অন্তরগুলো মুক্তি পাক তাদের নিত্য ঘেন্নাচক্র থেকে, অস্থিরতা থেকে। চোখের দেখা জগতের বাইরে আরেকটা জগত আছে। সেই বিশ্বাস ও উপলব্ধি জাগ্রত হোক। আত্মার হোক উদ্বোধন। রমাদানে অন্তত সচেতন হতে শিখুক আমাদের হৃদয়। যারা জানেই না কী করছে জীবনভর, তার মোটিভেশনাল স্পিচে কোটি কোটি বছরেও কিছু হবে না। নতুবা সমাজে বাড়তেই থাকবে নিত্যনতুন পিশাচের সংখ্যা…

সেটাই হচ্ছে– অমানুষ, সেন্সলেস, অ্যারোগেন্ট পিশাচ তৈরির ইন্ডাস্ট্রি আমাদের চলমান সোস্যাল, কালচারাল, পলিটিক্যাল, ইকোনোমিক সিস্টেম।

২৮/০৫/১৭

Posted in যাপিত জীবন | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

ব্লেইম গেম

অতঃপর দিনশেষে ফেসবুকে ঢোকা। সুখে থাকলেও সেটার প্রচার, কাজ না থাকলেও সময়ক্ষেপণ, কাজ থাকলেও ‘মনোযোগ প্রয়োজন না হওয়া’ কাজ হিসেবে পছন্দ হওয়ায় হোক –সকলেই ফেসবুকে আসে। নিজেকে জানান দেয়াটাই বেশি দরকার। ‘অন্যকে জানার’ মতন হাস্যকর ‘চালাকি’ নিয়েও কেউ কেউ আসে। কেউ আসে ‘প্রচারে’। ‘জনমত’ তৈরিতে, ‘ধর্মের দাওয়াত’ দিতেও আসে দলে দলে, ‘নির্ধার্মিকের সংশয়’ প্রচারেও আনন্দ। সকলের অ্যাজেন্ডা এই বিচিত্র হাস্যকর জায়াগায় সিরিয়াস হয়ে…

কী অদ্ভুত নেশা। ব্লেইম গেম। ‘কাফির/মুনাফিকদের’ মতন কিছু সম্ভাব্য ‘কাউন্টার পার্ট’ তৈরি করে ব্লেইমিং, কিছু হলো ‘এক্সট্রিম’ নামের কাউন্টার পার্টের, কেউ বলে ‘অপর পার্টির’ প্রতি ব্লেইম। কী অদ্ভুত পালিয়ে থাকার নেশা! নিজের কাছ থেকে। নিজের নোংরামির কাছ থেকে।

আমাদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, মুভি, হ্যাং-আউট, হোয়াটসঅ্যাপ — একের পর এক অ্যাডিকশনে ডুবে থাকার কারণ নিজ থেকে পালিয়ে থাকতে পারার অস্থির আকাঙ্ক্ষা। নিজেই তো আসল ‘শয়তান’। যে ‘পন্ডিতন্মন্য’ ধার্মিক অন্যদের ‘কাফের-মোশরেক’ ডেকে নিজের আত্মতুষ্টির আয়োজন করে, সে-ও পালিয়ে থাকে নিজের কাছ থেকে। যতই অন্যের প্রতি গালিগালাজ, ততই নিজের অন্তরের অশান্তি-কদাকার রূপের প্রতিফলন।

অনেক বড় প্রাপ্তি হয়েছে, সফল হয়েছি — লোকের লাইক না পেলে তাও শান্তি পাইনা বলেই লাইক। অনেক সুখে আছি, আনন্দের সংসার — শ’খানেক লাইক না পেলে ঠিক ফিল হয় না। অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, পুরষ্কার পেয়েছি, সম্মাননা পেয়েছি — হাজার খানেক লাইক পেলেও কি সুখ অনুভব হয়?

ম্যাডনা কেমন আছে এখন? ববিতা? শাবানা? সুবর্ণা মুস্তফা? আন্ডারটেকার? জিওফ্রি বয়কট? সালমা হায়েক? জেনিফার অ্যানিস্টন? কেমন আছে নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ, শহীদ কাদরী, কিংবা রুদ্র, সুনীল, সমরেশ? কার থাকায় আর না থাকার কার কী হয়ে গেছে?

দিনশেষে ব্লেইম গেইমে অনেকের শান্তি। নিজেকে, নিজের সত্ত্বাকে, নিজের নফসকে সহ্য করতে না পেরে ‘প্রতিপক্ষ’ খুঁজে বের করে তাকে দোষ দিয়ে নিজের দুর্বলতা/অক্ষমতা/দোষ স্বীকার করতে না চাওয়ার অপর নামই ‘ব্লেইম’। এখনকার দুনিয়ায় যে যত ব্লেইম দিতে পারে, সে তত সামাজিকভাবে ‘প্রতিষ্ঠা’ পায়। কীইবা আসে যায় কার… অত কথা বলে, লাইক দিয়ে, কমেন্ট করে, টকশো করে কেউ যখন ‘মরণব্যাধিতে’ ভুগতে থাকে হাসপাতালের বেডে লাকী আকন্দ, টেলিসামাদের মতন… কারো কি আদৌ কিছু আসে যায়?

০৩/০৫/১৭

Posted in যাপিত জীবন, স্মৃতিকথা | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

উপহার

যাযাবর অমনিবাসটা হাতে পাওয়া তো বছর পেরিয়ে গেলো। এরই মধ্যে আরেকটা হাজির। এমন নাটকীয়ভাবে সবচেয়ে প্রিয় বইগুলো উপহার হিসেবে পাওয়া খুবই অভাবনীয়। কোথায় কোন কমেন্টে লিখেছিলাম না-পড়া পছন্দের বইগুলোর কথা, ঠিকই খেয়াল করে হাতে ধরিয়ে দিলো সেই ‘রহস্যময়’ বন্ধু। একেকটা দিন না, অনেকগুলো দিনের হাসিমুখের কারণ ছিলো এই সুন্দর উপহার।

নাম চেপে রাখবো কথা দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। তাই তোর নাম বললাম না বন্ধু, ভালো থাকিস সবসময়। তোদের জন্য আমার প্রাণভরা প্রার্থনা… ❤

পুনশ্চ: বইয়ের সাথে পাঠানো তোর চিরকুটটা খুব পছন্দ হয়েছিলো। হাতে না লিখে টাইপ করায় খুশি কম হয়েছিলাম। সুনীলের এই কবিতাটাও আমার পছন্দের। 😛

Posted in ব্লগর ব্লগর | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

সাইকো মানুষে ভরা চারপাশ

আমরা এমন এক সময়ে বেঁচে আছি– আমাদের চারপাশে এখন প্রচুর সাইকো। সত্যি কথা বলতে গেলে, প্রায় সবাইই। সাইকো বলতে বুঝাচ্ছি অদ্ভুত, সামঞ্জস্যহীন এবং এক্সট্রিম আচরণের বিদঘুটে সমন্বয়।

স্বামী-স্ত্রীতে, প্রেমিক-প্রেমিকার দু’জনার ভালোবাসায়, ভ্রাতৃত্বে, বন্ধুত্ব, পিতৃত্ব, মাতৃত্বেও সাইকো আচরণ। অদ্ভুত খারাপ লাগে। ঘুরেফিরে শত-শত মানুষের সাথে মিশে তাদের অনুভূতিতে বিলীন হয়ে যাই। কিন্তু যার কাছেই নিজেরে বিলাই, দেখি বুকভরা হাহাকার।

এমন হবেই; য়োরোপে বিশ্বযুদ্ধগুলোর পর প্রচন্ড ডিপ্রেশন কাবু করেছিলো। রাজনৈতিক সমস্যা ও যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের হাত ধরে সামাজিক অরাজকতা এসেছিলো, প্রভাবিত করেছিলো পরিবার ও পারিবারিক সম্পর্ককে। এই বাংলাদেশের এই সময়টা এখন একটা ধ্বংসস্তূপ। আদর্শ-নীতি-উৎসাহ-জীবনবোধে আমাদের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। আমাদের আছে টেলিভিশন -মিডিয়া, ইন্টারনেট-ফেসবুক, ইউটিউবের প্রভাব। এত ডিস্ট্র‍্যাকশন, এত কম্প্যারিজন — সুখ অনুভব করার, নিজ আত্না ও নিজ জীবনটাকে নিয়ে ভাবার, নিজেকে ভালোবাসার সময় নেই কারো।

অতৃপ্ত আত্নার খেলা সবই। অতৃপ্ত ‘ক্কালবে’ ধর্ম পালনে গিয়ে সাইকোর এক্সট্রিম হয়ে যায়, নিধার্মিক হতে গিয়েও সব আগামাথা ভুলে ধর্মবিরোধী হয়, ভালোবাসতে গিয়ে বিধ্বংসী হয়, নেশায় ডুবে চুরচুর হয়, কেউ মনকে বুঝাইতে ছাড় দিয়ে সন্ন্যাসী হইতে গিয়ে সবকিছুতেই উদাস হয়। এরা কাউকে ভালোবাসতে পারেনা, নিজেকেও না।

ফেসবুকময়, ইন্টারনেটময় মানুষদের নিজের সংসারের রোমান্স এবং অন্য সামাজিক/রাজনৈতিক বিষয়ে ঘেন্না, গালিবাজির নোংরামির প্রসার আমাদের সেই সাইকো মনগুলোরই প্রতিচ্ছবি।

এত মোটিভেশনাল কোটেশন, ভিডিও, ফটো দিয়েও কারো শান্তি নেই কেন? কারণ, শান্তি ত আর ভালো কথায় নেই। শান্তি পেতে অন্তরগুলোকে আশ্বস্ত হতে হয়, তাকে পছন্দ করতে হয় –“আমি শান্তি পেতে চাই”…

এই লেখাতেও লাভ নেই। পড়ে তো কেউ বদলায় না। পড়া, চোখে দেখা, মনে গাঁথা, উপলব্ধি করারও পরের ধাপ আত্মার প্রভাবিত হওয়া। স্ক্রল করে নিচে নেমে লাইক দিতে চাওয়ার অস্থির মানুষের জীবনে অতটুকুন সময় নাই….

১৮/০৪/১৭

Posted in দেশ | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান