বিবশ

রেমার্কের থ্রি কমরেডসের কথা মনে হচ্ছিলো। রবার্ট, গোটফ্রীড আর ওটোদের জীবন কেমন অদ্ভুত লেগেছিলো। প্রথমে ভালো লাগেনি প্যাট্রিসিয়া হফম্যানের অমন জীবনটার সাথে রবার্টের অমনভাবে জড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু বারবার মনে হচ্ছিলো, অমন বিধ্বস্ত পৃথিবীতে যে অর্থ খুঁজে পেয়েছিলো প্যাট কিংবা রবার্ট, তা হয়ত পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ পায় না, পায়নি। স্যানাটেরিয়ামে প্যাটের মূহুর্তগুলো অনেক অনেক বছর পর আমাকে বইপাঠপূর্বক অশ্রুসিক্ত করেছিলো। শুধুই কি কল্পনা? শুধুই কি মানুষের নিশ্চিত চলে যাওয়া, ভালোবাসার আর্তি আর শারীরিক ক্ষয়ের কাছে অসহায় নিশ্চুপ আত্মসমর্পণের ব্যাপারই ছিলো ওটা? মানুষের মাঝে হয়ত আরো বেশি কিছু থাকে, আরো অনেক গভীর কিছু বোধ থাকে। সম্ভবত সেগুলো এড়িয়েই বেঁচে থাকি আমরা।

বইটা পড়ার পর অমন অসাধারণ লাগেনি। আজ অনেকদিন পর, অনেক বছর পর মনে হলো রেমার্ক দারুণ লিখেছিলেন। আমাদের জীবনগুলোর অনুভূতিমালার প্রগাঢ় প্রবাহই ছুটে গিয়েছিলো তার লেখনীতে। আমার কেন যেন মনে হয়, প্যাটের স্যানাটেরিয়ামের সামনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে আমি বসে আছি। বিবশ হয়ে যাওয়া, নিথর হয়ে যাওয়া প্যাট্রিসিয়া হফম্যান আর রবার্টকে দেখতে পাচ্ছি, অনুভব করতে পারছি একেকটা গোটা জীবনের ওই মূহুর্তের অদ্ভুত জীবন। সম্ভবত এরিক মারিয়া রেমার্কের কষ্টগুলোও টের পাচ্ছি, টের পাচ্ছি সেই দৃশ্যপট, অনুসঙ্গ আর উপমার নান্দনিক উপস্থাপনের পেছনে কত ভীষণ জ্বালা মিশে ছিলো। প্রতিটা সৃষ্টিই বুঝি অমন জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে হয়?

২২/০৭/১৭

Advertisements

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in পরাবাস্তব. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s