পপুলিস্ট সোসাইটি

আজকে থেকে অনেকগুলো বছর আগে আমি প্রায়ই লিখতাম যে আমাদের দেশটা পচে-গলে-নষ্ট হয়ে গেছে। প্রচুর তিক্ত-জঘন্য-হীন ঘটনা দেখে-জেনে-শুনে লিখতাম ওসব। কিন্তু এতে অনেকে আমাকে সামনে-পেছনে ‘নেগেটিভ/পেসিমিস্ট’ ইত্যাদি নাম দিয়ে বলতে থাকায় আমি অনেক সমস্যাতে পড়েছিলাম। আমাকে আজো সেসবের কারণে খেসারত দিতে হচ্ছে।

যন্ত্রণাদগ্ধ হতে হতে একসময় ভাবলাম, কী দরকার? এই সোসাইটি পপুলিজমের জন্য পারফেক্ট। তাই আমিও ঠিক করলাম এইসব তিতা কথা বাদ, এখন থেকে পপুলার ট্রেন্ডে গা ভাসাবো। যেমন, মুভি দেখে শেয়ার দেয়া, গানের লিংক শেয়ার, বিভিন্ন মিম শেয়ার করে হা-হা-হা করে হেসে হিউমার করার পরমানন্দ পাওয়ার চেষ্টা করা। জাওয়াদ করিম, সালমান খান ইত্যাদি সেকেন্ড জেনারেশন বাংলাদেশিদের নিয়ে আভেগে আপ্লুত হওয়ার ভিডিও শেয়ার করাও ‘ইতিবাচক প্রজন্মের’ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অংশ। অথচ আমি প্রশ্ন তুলতে চাইনি স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও এদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কেউ কেন গর্বিত করতে পারেনা? আমার চেনাজানা অনেকগুলো মেধাবী ছেলে নিজেকে ছেঁচড়ে দেশের বাইরে নিয়ে গেছে শুধুমাত্র হতাশা কমাতে। জামাল নজরুল ইসলামদের মতন মহান মানুষগুলো এই দেশের কোথাও স্থান পায় না কেন সেই প্রশ্ন করে লজ্জিত হতেও চাইনা। বাংলাদেশ নাকি বহুত এগিয়ে গেছে সেই ব্যাপারে ‘আস্থা রেখে আগে বাড়ার’ প্রচেষ্টাতেও আমি সদাতৎপর থাকতে চেয়েছি।

দিনশেষে দেখলাম দেশবাসী চিন্তিত অপু-শাকিব, রেইনট্রি হোটেল এবং এই অতি বিশাল বাজেট থেকে এক লাখে ৩০০ টাকা এক্সাইস ডিউটি বৃদ্ধির মতন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ইস্যুতেই। বাজেটের সময় হয়েছে, নিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যমে, পত্রিকার প্রথম পাতায় এসে গেছে মাটির নিচে চাপাপড়া কিছু পুরোনো ইস্যু। আমি নিশ্চিত, এই সপ্তাহ শেষ হবার আগেই গরম কিছু ইস্যু চলে আসবে, জনগণ তাতে বুঁদ হয়ে থাকবে। ঘরে ঘরে এপ্লাসের বাম্পার ফলনে আরামের ঘুম ঘুমাবে। আছে লিভারপুল-চেলসি, রিয়াল-বার্সা, মাশরাফি-চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি–নেশায় ডুবে থাকার অনন্ত উপকরণ।

ইদানিং পুরোনো আগুণের আঁচ অনেকের গায়ে লাগছে, উপলব্ধি থেকে টের পাচ্ছে দেশ নষ্টদের অধিকারে গেছে। অথচ আমার ভয় লাগে আর হয়ত ক’টা বছর পরে দেখবো যারা এখন অর্থ-ক্ষমতা দিয়ে উঁচু অট্টালিকায় চড়ে নিত্য দগ্ধ হওয়া থেকে বেঁচে থাকছে– তারাও আর মুক্তি পাবে না। অন্যায়-অশান্তি-নির্মমতা-অত্যাচারের ঘটনা তাদের ‘সিকিউর্ড’ জীবনকেও বিষাক্ত করে ফেলবে। প্রতিটি ঘরে-ঘরে আহাজারি হবে। কেউ রক্ষা পাবেনা। আমি এই সময়ের সাক্ষী থাকতে চাইনা। ক্ষমা চাই পরের প্রজন্মকে এই দেশে এভাবে রেখে যেতে। আমি পরিপূর্ণভাবে নিরূপায়। দেশ ছেড়ে যেতেও ইচ্ছে হয়না এখনো। অথচ আমার দৃঢ় উপলব্ধি, এই দেশ একটা পিওর পলিটিক্যাল-ইকোনোমিক-কালচারাল কলাপ্স অবস্থায় আছে। খুবই নির্মম পরিণতি আসন্ন। সবদিক থেকে। সবদিক থেকে।

আল্লাহ যেন নির্বোধ-অসচেতন মানুষদের শীঘ্রই পথের দিশা দেন, জ্ঞান দেন, ক্ষমা করে দেন। যারা লোভ-ঘৃণা-হিংসার কারণে ক্রমাগত দেশকে ও দেশের মানুষকে যন্ত্রণা দিচ্ছে ও সমস্ত সিস্টেম নষ্ট করে ফেলছে, তারা যেন ধ্বংস হয় সমূলে, সপরিবারে; যেন অন্যায়ের ফল ভোগ করে অনন্তকাল ধরে।

০৭/০৬/১৭

Advertisements

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in দেশ. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s