বেশি ভালা কথা

হোমপেজ জুড়ে অনেক ভালো কথা, ভালো উপদেশ, ভালো লিংক। অর্থাৎ রমাদান সমাগত। খুবই দারুণ! কিন্তু ভালো কথা যেই অন্তরগুলার জন্য, তারা কি প্রস্তুত? যারা ফেসবুকে আসে তার মতই আরেক খুব অগভীর ঈমান ও জীবনবোধের লোকজনের লেখা পড়ে ইসলাম ও জীবনকে বোঝার তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে, তারা কতটা বোকা নিজেরা কি উপলব্ধি করে? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছে কি কেউ প্রকৌশল কিংবা চিকিৎসার শিক্ষালাভ করতে যায়?

ফেসবুকে গত ১২ ঘণ্টা ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতাল ভাংচুরের ভিডিও দেখলাম। দেশের তথাকথিত শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের নির্মম অন্তরের ছেলেগুলার ভাংচুর। এসব তো দেশেরই প্রতিচ্ছবি। মানুষ নামের নির্মম পিশাচ, দানব, হায়েনারা তাদের শ্বদন্ত লুকিয়ে আমাদের আশেপাশেই থাকে। সমাজ এখন নির্মমতা ও পাশবিকতার জন্ম দেয়, লালন করে।

ফেসবুকে যারা পড়ে থাকে, বেশিরভাগই সমস্যা নিয়ে আলাপ করে, মুখ খুলে গালি দেয়। ফেসবুক ঘৃণার চাষাবাদ করে। ঘৃণার নেশা ধরিয়ে দেয় সবাইকে। ডাক্তাররা কোথাও মাইর খেলে তারা দলবেঁধে শেয়ারিং শুরু করে ফেলেন –ঘৃণা। কেউ সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষেপে যান, কেউ ধর্মকেই দেখতে পারেন না, কেউ ভিন্ন রাজনীতিকে গালিগালাজ করেন। ইদানিং মুসলিম নামওয়ালারা যেভাবে ইসলামকে ধুয়ে দিতে থাকেন তাতে অবশ্যই তাদের নিজ ‘ধর্মধারণ’ নিয়ে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে। নিজের বাপ-মা নিয়ে এভাবে সমালোচনা করতে পারেনা কেন তারা? অথবা, স্রেফ বলে দিলেই হলো,” মরার পরে কবর দিয়ো না, গোসল দিয়োনা, জানাজা দিয়ো না।” ধর্ম কাউকে কিছু জোর করেনা। সবাই নিজের ঠেকায় আশেপাশে ঘুরঘুর করে। যারা ধর্ম বেইচ্চা খায়, সেটাও নিজের ভালো লাগে তাই। ধর্মকে ধুয়ে লাভ নাই। জগতে ধর্ম, বকধার্মিক, ধর্মবিদ্বেষী ছিলো হাজার কোটি বছর ধরেই। ক’জনা সে বিশ্বাসে দুনিয়াতেই শান্তি পায়? আখিরাত তো পরের ধাপ! তুমি কিছু না বলে সুখ পাও তো? সুখ খোঁজ, ধর্মে হোক, ধর্মহীনতায় হোক। পেলে চুপে যাও।

অনেক আগে পড়েছিলাম, ফেসবুকে এসে ধর্মের আলাপ করা হলো মদের বারে গিয়া ওয়াজ করার মতন। ব্যাপক ভালো লেগেছিলো। এখানে প্রায় সবাই ঘেন্না করতে আসে, অন্তরের গরল উদগীরণ করতে আসে, অপরকে হিংসা করতে আসে। অথচ এই কথাটা পড়েই অনেকে ক্ষেপে যাবে আমার উপর। অথচ দিনশেষে তারও এগুলোই হয়। ১০ বছর ধরে ফেসবুক জগত দেখলাম।

অন্তরগুলো মুক্তি পাক তাদের নিত্য ঘেন্নাচক্র থেকে, অস্থিরতা থেকে। চোখের দেখা জগতের বাইরে আরেকটা জগত আছে। সেই বিশ্বাস ও উপলব্ধি জাগ্রত হোক। আত্মার হোক উদ্বোধন। রমাদানে অন্তত সচেতন হতে শিখুক আমাদের হৃদয়। যারা জানেই না কী করছে জীবনভর, তার মোটিভেশনাল স্পিচে কোটি কোটি বছরেও কিছু হবে না। নতুবা সমাজে বাড়তেই থাকবে নিত্যনতুন পিশাচের সংখ্যা…

সেটাই হচ্ছে– অমানুষ, সেন্সলেস, অ্যারোগেন্ট পিশাচ তৈরির ইন্ডাস্ট্রি আমাদের চলমান সোস্যাল, কালচারাল, পলিটিক্যাল, ইকোনোমিক সিস্টেম।

২৮/০৫/১৭

Advertisements

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in যাপিত জীবন. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s