ব্লেইম গেম

অতঃপর দিনশেষে ফেসবুকে ঢোকা। সুখে থাকলেও সেটার প্রচার, কাজ না থাকলেও সময়ক্ষেপণ, কাজ থাকলেও ‘মনোযোগ প্রয়োজন না হওয়া’ কাজ হিসেবে পছন্দ হওয়ায় হোক –সকলেই ফেসবুকে আসে। নিজেকে জানান দেয়াটাই বেশি দরকার। ‘অন্যকে জানার’ মতন হাস্যকর ‘চালাকি’ নিয়েও কেউ কেউ আসে। কেউ আসে ‘প্রচারে’। ‘জনমত’ তৈরিতে, ‘ধর্মের দাওয়াত’ দিতেও আসে দলে দলে, ‘নির্ধার্মিকের সংশয়’ প্রচারেও আনন্দ। সকলের অ্যাজেন্ডা এই বিচিত্র হাস্যকর জায়াগায় সিরিয়াস হয়ে…

কী অদ্ভুত নেশা। ব্লেইম গেম। ‘কাফির/মুনাফিকদের’ মতন কিছু সম্ভাব্য ‘কাউন্টার পার্ট’ তৈরি করে ব্লেইমিং, কিছু হলো ‘এক্সট্রিম’ নামের কাউন্টার পার্টের, কেউ বলে ‘অপর পার্টির’ প্রতি ব্লেইম। কী অদ্ভুত পালিয়ে থাকার নেশা! নিজের কাছ থেকে। নিজের নোংরামির কাছ থেকে।

আমাদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, মুভি, হ্যাং-আউট, হোয়াটসঅ্যাপ — একের পর এক অ্যাডিকশনে ডুবে থাকার কারণ নিজ থেকে পালিয়ে থাকতে পারার অস্থির আকাঙ্ক্ষা। নিজেই তো আসল ‘শয়তান’। যে ‘পন্ডিতন্মন্য’ ধার্মিক অন্যদের ‘কাফের-মোশরেক’ ডেকে নিজের আত্মতুষ্টির আয়োজন করে, সে-ও পালিয়ে থাকে নিজের কাছ থেকে। যতই অন্যের প্রতি গালিগালাজ, ততই নিজের অন্তরের অশান্তি-কদাকার রূপের প্রতিফলন।

অনেক বড় প্রাপ্তি হয়েছে, সফল হয়েছি — লোকের লাইক না পেলে তাও শান্তি পাইনা বলেই লাইক। অনেক সুখে আছি, আনন্দের সংসার — শ’খানেক লাইক না পেলে ঠিক ফিল হয় না। অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, পুরষ্কার পেয়েছি, সম্মাননা পেয়েছি — হাজার খানেক লাইক পেলেও কি সুখ অনুভব হয়?

ম্যাডনা কেমন আছে এখন? ববিতা? শাবানা? সুবর্ণা মুস্তফা? আন্ডারটেকার? জিওফ্রি বয়কট? সালমা হায়েক? জেনিফার অ্যানিস্টন? কেমন আছে নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ, শহীদ কাদরী, কিংবা রুদ্র, সুনীল, সমরেশ? কার থাকায় আর না থাকার কার কী হয়ে গেছে?

দিনশেষে ব্লেইম গেইমে অনেকের শান্তি। নিজেকে, নিজের সত্ত্বাকে, নিজের নফসকে সহ্য করতে না পেরে ‘প্রতিপক্ষ’ খুঁজে বের করে তাকে দোষ দিয়ে নিজের দুর্বলতা/অক্ষমতা/দোষ স্বীকার করতে না চাওয়ার অপর নামই ‘ব্লেইম’। এখনকার দুনিয়ায় যে যত ব্লেইম দিতে পারে, সে তত সামাজিকভাবে ‘প্রতিষ্ঠা’ পায়। কীইবা আসে যায় কার… অত কথা বলে, লাইক দিয়ে, কমেন্ট করে, টকশো করে কেউ যখন ‘মরণব্যাধিতে’ ভুগতে থাকে হাসপাতালের বেডে লাকী আকন্দ, টেলিসামাদের মতন… কারো কি আদৌ কিছু আসে যায়?

০৩/০৫/১৭

Advertisements

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in যাপিত জীবন, স্মৃতিকথা. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s