বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৯৯২ : স্মৃতির একাল-সেকাল

১৯৯২ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কিছু মূহুর্তের স্মৃতি আমার কাছে স্পষ্ট এখনো। এলাকাতে ভাইয়াদের বয়সের সবাই একটা বাসায় খেলা দেখতো, আমিও ভাইয়ার সাথে সাথে যেতাম মাঝে মাঝে। সেই বিশ্বকাপে মনোজ প্রভাকর, ডেভিড বুন, আলান বোর্ডার, ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, ইনজামাম, জাভেদ মিয়ানদাদদের চেহারা মনে আছে। তারও পরে ডেব্যু হলো সৌরভ গাঙ্গুলি। তখন আমি পুরোদস্তুর খেলার খবর রাখি। সৌরভ মাঠ কাঁপিয়ে রাজত্ব করে আজ অবসরে। কিংবদন্তী টেন্ডুলকারও এখন অবসরে। কালকে বাংলাদেশের খেলার পর হল-অফ-ফেমে সৌরভের সাক্ষাতকারের মূহুর্ত শুনছিলাম একটা ম্যাচের। আমার চোখের সামনে একটা নক্ষত্র পুরো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে এখন স্মৃতি হয়ে গেলো। ওয়াসিমের প্রৌঢ়ত্বে এসে বিধ্বস্ত ক্লান্ত চেহারা দেখে ৯২-সালের ঝলমলে লাবণ্যময় চেহারা দেখে কত স্মৃতিই না মনে এলো! এটুকু সময়ে একেকটা জীবন ক্ষয়ে এসেছে। আমাদের মাশরাফির ‘নবীন’ হয়ে দলে আসা থেকে এই ‘বড় ভাই ক্যাপ্টেন’ চেহারাটারও সাক্ষী হয়ে আছি।

এই একটা জীবনে অনেকেই তাদের সর্বোচ্চটুকু করেছেও। মহাকালে যতটুকু চিহ্ন রাখার রেখেছেও। আমি ও আমার মতন মিলিয়ন মানুষ টিভি পর্দার এপাশে সাক্ষী থেকেছি জগতের অনেকের অনেক কৃতিত্বের। দেখতে দেখতে আমাদেরও জীবন ক্ষয়েছে। জীবন এমনই। অনেকগুলো টুকরো-টুকরো, এলোমেলো সময়ের যোগ।
ম্যাচ শেষে টেনস্পোর্টসের আলাপনে আতাহার আলী খানের বক্তব্য দিতে দেখলাম। আতহার ওপেনিং-এ নেমে ৮৮ করেছিলো এমন একটা ম্যাচের স্মৃতি মনে পড়লো। সে এখন কথা বলে। কথা বেচে খায়। হয়ত অন্য ভালো কোনো অপশন নেই বলে তিনি অনেকের ভাষায় ‘সেইম কথা’ বলেই কমেন্ট্রি দেন। তার জীবনও ক্ষয়িষ্ণু। আতহার আলীকে কালকে বড্ড ক্লান্ত মনে হচ্ছিলো। অন্তরে হয়ত খুব শক্তি ছিলো না। হয়ত এটাই জীবন।

সময় পেরিয়ে একজন লাবণ্যময় কিশোরী বার্ধক্যের সাদা চুলো দাদী হয়। জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো সবই ইম্প্রমচু, নিত্য-নতুন অনাকাংখিত মূহুর্ত সামলেই হয়। শেষ জীবনে গিয়ে সামনে তাকালে নিশ্চয়ই মনে হয় অনেক কিছুই করা হয়নি। জগতে এ লেখাটা পড়ার সময় আরো হাজারটা কাজ করা যেত। উপায়ান্তর না থাকায়ই আমরা বেশিরভাগ কাজ করি। ভালো-খারাপ বলে কিছু নেই। সবই সময় ক্ষেপন। তারপর সেগুলোকে ‘শিরোনামভুক্ত’ করা। জীবন… যেন অদ্ভুত এক উল্কাপিন্ড। ঝলমলে আলো বিকিরণ করে দগ্ধ হয়ে পোড়া ছাই।

২৬/০৩/১৭

Advertisements

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in যাপিত জীবন. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s