কতটুকু সভ্য হলাম এত প্রযুক্তিতে?

সবকিছুর জীবন চক্রেই একটা চূড়ায় ওঠা সময় থাকে, পতনেরও। এটা সময়ের বাস্তবতা, জীবনেরও। এক সময়ে চিঠিতে বইতো আবেগ। হাতের লেখার স্পর্শে, আঁকাবাঁকা পথে আবেগের ধারা কাগজের উপরে বিন্যস্ত হয়ে চলে যেতো পাঠক-পাঠিকার হাতে। কখনো অশ্রু, কখনো তীব্র ভালোলাগার শীতল অনুভূতিতে উদ্বেল হতো মানুষ। আধযুগের মাঝেই এসএমএস, ইমেইল হয়ে ভিডিও কল চলে এসেছে। যতখানি ছবি আসে, কথা আসে, আবেগ ততটা আসে কি? দূরান্তরে থাকা মানুষের যোগাযোগের প্রয়োজন মিটেছে অনেকটুকুই, আবেগের আর্তিটুকু মিটেছে হৃদয়গুলোর? এখনকার আই এম তথা ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জারে স্বল্প পরিসরে লেখা কথাগুলোকে নানান জনে নানান ভাবে বুঝে। ভুল বুঝাবুঝি কি বেড়ে যায়নি অনেক বেশি?

সময় বদলায়, বদলাতেই হয়। পরিবর্তনই জীবনের নিয়ম। তবু কিছু সুপ্রাচীন বিষয় আছে যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মানবজাতি বয়ে বেড়িয়েছে। সবকিছুর আধুনিকায়ন হয় না। যোগাযোগের মাধ্যমের হয়ত আধুনিকায়ন হয়েছে, হয়নি আবেগের, অনুভূতির, ভালোলাগার, চিন্তনের। তাই হয়ত এত মাধ্যম, এত ছবি, ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাট, গুগলটক, স্কাইপ থাকা সত্বেও তিয়াশ মেটে না অন্তরগুলোতে। কথা বলার এত জায়গা, তবু কেউ শোনে না। সবাই বলে। ফেসবুকে শত-শত লেখা, হাজার হাজার লাইক। শত শত ওয়েবসাইট। প্রচুর মত। কে বলছে, কী বলছে, কথার সারবস্তু আর সত্যতা যা-ই থাকুক, সবাই বলছে। গবাদি পশু, কীটপতঙ্গের মতন চিন্তার উন্মেষবিহীন মানব মস্তিষ্কও লিখে চলেছে এখানে-ওখানে…

মোটের উপরে মনুষ্যত্বে, মানবিক আচরণে, সমাজে উত্তম পরিবর্তন কতটুকু? প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন তিক্ততা কি কেবল বেড়েই চলছে না? হে নবসভ্যতা, কতটুকু সভ্য হলাম এত প্রযুক্তিতে?

২৩/০৯/১৬

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in যাপিত জীবন. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s