মানুষ কি জানেনা সে কত অসহায়?

হোসেনি দালান রোডে আর রাজা বাদশাহদের ছাপ নেই, নামেই আছে। কয়েক শত বছর আগে এই পথে যার হেটে যেত সভ্যতার সর্বোচ্চ ছাপ দেখে, শ্রেষ্ঠত্বের স্পর্শ নিয়ে। এখন সেখানে নেহাতই ঠেকায় পড়া লোকেরা চলে। সময় বদলে এখন আভিজাত্য বয়ে গেছে বনানী, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। সব ফেলে সমুদ্রপাড়ে যাওয়া? কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ক’জনাই বা অনুভব করতে যায় সমুদ্রের বিশালতা? মনটা বড্ড বেশিই ব্যস্ত থাকে সেলফিতে, ফটোসেশনে, একটু পরের ফুডমেনুতে, অথবা অন্যকিছুতে। অনুভূতি কি খুব অচেনা কিছু নয় কি? মানুষ কি নিজের কাছ থেকেই বেশি পালায় না?

ঈদের সময় এলো যখন, চারিদিকে নানামুখী আয়োজন। বঙ্গবাজারের বিক্রেতাদের হতাশার ওম স্পর্শ করে ক্রেতাদের হৃদয়কে, বেচাকেনা নেই স্যার! অথচ, শহরের অলিতে গলিতে চিপা-চাপায় নিত্যনতুন ফুডশপগুলোর বিক্রেতাদের কন্ঠে হয়ত অন্য সুর! অথবা, খানিক দূরের অন্য শহরের মানুষদের, কড়াইল বস্তির রিকশাওয়ালার পরিবারের অনুভূতি কেমন–ক’জন ঢাকাবাসী দেখেছে? আরো দূরে, ঐ গাজায় কিংবা কাশ্মীরের অবরুদ্ধ ঈদ কেমন হয়? পাশের বাড়ির ছেলেটা যখন হঠাৎ আর্মির গুলি খেয়ে মরে যায়, সে দৃশ্য সামলে আবার এগিয়ে চলা… কেমন? সিরিয়ায় রাসায়নিক বোমায় পর্যুদস্ত শহরের ছোট শিশুগুলোর ঈদ কেমন হয়? অথবা আরো দূরে, পরিবারকে পেছনে ফেলে ভবিষ্যতে কিছু করার আশায় হেলসিংকিতে কিংবা ক্রাইস্টচার্চে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি ছেলেটার বুকে কেমন হাহাকার জাগায় ঈদ?

মানুষ হয়ত ভাবতে চায় না। হয়ত পারেও না। নিজের চিন্তা ও উপলব্ধি থেকে ইচ্ছা করেই হয়ত পালায়। হয়ত নিজের তুচ্ছতা আর অসহায়ত্ব উপলব্ধি করতে চায়না দেখেই নিত্যনতুন ক্ষুদ্র কাজকেই বড় বানিয়ে তাতে ডুব দেয়। মানুষ কি জানেনা সে কত অসহায়? প্রচন্ড পরাক্রমশালী দেশনেতাও কি জানেনা তার আগের ২০০ বছরের নেতাদের সবাইকেই যেতে হয়েছে, অনেক ঘৃণা, হতাশা আর দৈন্যকে ঘাড়ে করেই? তবুও কেউ কি ছাড় দেয়? পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই কারো। কোনো মানুষেরই নেই। বেঁচে থাকলে, টিকে থাকতে সামনে দৌড়াতেই হয়।

পানিতে ভেসে থাকতে হলে পা নাড়াতে হয়। পৃথিবীতে টিকে থাকলে হলেও ছুটতে হয়। উর্ধ্বশ্বাসে হন্তদন্ত ছুটে চলা। এভাবেই শত-সহস্র বছর ধরে মানুষ ছুটছে। কেবল ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় নিজ জীবনকে তারা উপস্থাপন করে। বেশিরভাগ মানুষ নিজের কথাটুকু নিজেই বিশ্বাস করে না। তবুও বলে, চারিদিকে হাজার কোটি শব্দের দাম্ভিক উপস্থাপন… অদ্ভুত এক ইন্দ্রজালের এই পৃথিবী!!

০৯/০৯/১৬

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in যাপিত জীবন. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s