ভ্যালেন্তিনার ক্লান্তি

ভ্যালেন্তিনা ফেসবুকে লগিন করতেই নতুন হলো-মেসেজ এসেছে দেখতে পেলো। সকালে ঘুম থেকে উঠে নোটিফিকেশন চেক করতেই ফোনটা হাতে নিলো। হলো-মেসেজ ফেসবুকের নতুন অ্যাডিশন– হলোগ্রাফিক মেসেজ। ক্লিক করলে সেন্ডারের একটা হলোগ্রাফিক ইমেজ সামনে চলে আসবে। জীবন্ত মানুষটা সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলবে। ফেসবুক হেড ই.ও. আইয়োন তার টাইমলাইনে সেদিন অ্যানাউন্স করেছে এটা আগামীতে লাইভ কনভার্সেশনও হবে। নতুন অপারেটিং সিস্টেম ফালুদা৯২.৩ ইন্সটল করতে হবে এবং সাথে মেগাসেন্সর ডিভাইস ও কনভো জোন রাখতে হবে। কনভো জোনের মাঝে কথা বললে সেখানে অপরজনের একটা হলো ইমেজ আসবে, মনে হবে যেন সামনে/পাশে বসেই কেউ আড্ডা দিচ্ছে। আইয়োন জাকারবার্গ তার বাবা স্টিভেন আর দাদা মার্কের মতই সফলভাবে ফেসবুকের সিইওর দায়িত্ব পালন করছে। আইয়োন স্ট্যানফোর্ড থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে গ্র্যাজুয়েশন আর প্রিন্সটনে বিজনেস অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে পোস্টগ্র্যাড করে ফেসবুকের হাল ধরেছিলো। ভ্যালেন্তিনার কাছে বিষয়টা ভাল্লাগেনি। হিস্টরি পড়তে গিয়ে কয়েক সেঞ্চুরি আগের পৃথিবীর এসব ফ্যামিলিসেন্ট্রিক পাওয়ার অকুপেশনের ফলে তৈরি ডেস্ট্রাকশন পড়ে দেখেছে সে। টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির মাস ডেথের ঘটনাতেও এমন লিডার ছিলো পৃথিবীর অনেক জায়গায়। প্রায় ১০০ কোটি মানুষ মারা যায় মাত্র দুই বছরে। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ছিলোনা কোথাও। নিউক্লিয়ার ওয়েপনের কারণে আফ্রিকা আর এশিয়ায় পরের ৫০ বছরে মারা যায় আরো ৮০ কোটি মানুষ। আনমনে নতুন হলো-ম্যাসেজে ক্লিক করলো ভ্যালেন্তিনা, মূহুর্তেই সামনে হাজির হলো কুৎসিত ঝুটিবাধা চুলের একটা মানুষ, বলে উঠলো, “কি খবর ভ্যালেন্তিনা? ভুলে গেছো পানিতে ডুবে যেতে নিয়েছিলে সেকথা? আবার ডুবতে চাও?” আতঙ্কে ভ্যালেন্তিনা ফোনটা ছিটকে ফেলে দেয় হাত থেকে। যে স্মৃতি বারবার ভুলে যেতে চায়, সেটা বারবার মনে করিয়ে দেয় অনেকে। পানিতে ডুবতে নেয়ার দুঃসহ ভয়াবহ স্মৃতিটা কে খোঁচাচ্ছে ওকে? ক্লান্ত লাগে ওর। সকাল থেকে বাইরে রোদ নেই। অন্ধকার সব। জীবনটাকেও অন্ধকার লাগে ওর। আচ্ছা, নতুন মিলেনিয়াম শুরু হবার সময়ের মানুষদেরও কি ওর মতন অসহায় লাগতো? তখনো কি খারাপ লোকেরা এরকম ডেমোনিক-মেসেজ দিয়ে ভরিয়ে দিতো ইনবক্স? এখনকার মানুষ এত খারাপ কেন? ভ্যালেন্তিনার এই প্রশ্নটাই যে সহস্রাব্দ ধরে বিলিয়ন ট্রিলিয়ন মানুষ করেছিলো, তা সে জানতেও পারেনি, পারবেও না।

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in গল্প, পরাবাস্তব. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s