স্মৃতিগুলো অপসৃয়মান

কবে যেন সুরঞ্জনা ওইখানে গিয়ে ওই ছেলেটির সাথে কথা বলা থেকে নিজেকে সামলে নিলো। হয়ত এমনই দিনে হঠাৎ নাদের আলী কি সুনীলকে তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে গেলো, হয়ত সেদিনই প্রথম কথা রাখতে শুরু করলো নাদের আলী। অথবা শর্মিলা হয়ত অতীনকে বাড়ি ফিরে বাবার মৃত্যুশয্যায় উপস্থিত থাকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বাধা হিসেবে কাজ করলো না। হয়ত আংকেল টম এবার মুক্তি পেয়ে হাডসন নদীর তীরে বসে ছিপ দিয়ে মাছ ধরবেন, আর ডেভিড কপারফিল্ড তার পাশে বসে ঝাপ দিয়ে নদীতে গোসল সেরে নেবে। জয়ীতা বোধহয় এবার পাহাড় ছেড়ে ফিরে আসবে নিজের শহরে, আনন্দকে যে কথা দিয়েছিলো, তা হয়ত এবার সে রাখবে। কেউ কথা রাখতে শুরু করলেই হয়ত খালি পায়ে তিতাস নদীর তীর ঘেঁষে হেঁটে যাবেন আল মাহমুদ। হতভাগা নুরূল হুদা তো লোকের চিঠির উত্তর অবধি পায়নি, এবার কি রেবেকা তাকে একটা চিঠি লিখবে না? রেবেকা কি জানেনা, নূরুকে সে আর কোনদিন দেখতে পাবে না? ক্যাপ্টেন নিমো কি কথা রেখেছিলো? নটিলাসকে তীরে ভিড়িয়ে সে কি তার বন্দী করে রাখা মানুষগুলোকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো সাধারণ জীবনে? স্মৃতিগুলো অমন ধূলি-ধূসরিত হয়ে অপসৃয়মান হয়ে যায় সবারই? সবসময়? মানুষগুলো কী ভীষণ অসহায়, কতই ক্ষণজন্মা, কী নিদারুণ হতভাগা!! কেউ কথা রাখেনা…

২৮/০৬/১৬

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in পরাবাস্তব. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s