অরণ্যাকাশ



সুপ্রভা, তুমি কি আকাশের গল্প শুনেছিলে? না না, আমি বন্ধু আকাশের কথা বলছি না। আমি বলছি নীল আকাশের কথা। সে তো আজ সারাদিন কেমন কালো হয়ে ছিলো। সকালে ছিলো তীব্র রোদ, এরপর থেকেই বিষণ্ণ আকাশ। ওর বিষণ্ণতা কেন জানিনা। তপ্ততার সাথে মেঘকালো বিষণ্ণতা মিলে কষ্টকর এক আবহাওয়া ছিলো। আমার মনেরটা কেমন ছিলো জানো? ধুরর! আমি আশাও করিনা তুমি জানবে। কী হবে সব জেনে? জানলে কি আর বৃষ্টি নামাতে পারবে? আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টিতে স্নাত হবার দরকার আমার। আমি তো চেয়েছি রোদের গন্ধ মুছে ফেলে শুদ্ধ হবো। শুদ্ধির স্পর্শে আমি পবিত্র হবো। এসবই আমার প্রলাপ। আজীবনের প্রলাপেই আমার উপায়।

অরণ্যের কথা শুনেছিলে? অরণ্য আমার মতন। কেউ তার কথা শুনে না। গাছগুলোর মাঝে প্রবল বাতাস বয়ে গেলে কেমন শোঁ-শোঁ শব্দ হয়, তাইনা? কড়কড় করে কোন গাছের শাখা হয়ত ভেঙ্গে পড়ে। আমার হৃদয়ও কি কম ভাঙ্গে অমন করে? আমার মনের ভাঙ্গনে কড়কড় না, মটমট করে ভাঙ্গে। প্রতিটি জোড়, প্রতিটি বন্ধন যেন খন্ডিত হয়ে যায়। আমি আর আমার টুকরো হওয়া — এরই মাঝে অরণ্যের ভালোবাসা। তুমি তো অরণ্য চেন না, তাইনা? তুমি মনে হয় সমুদ্র চেন, ঠিক বলেছি?

সমুদ্রের মাঝে আমি নেই। ঐ বিশালতার মাঝে আমার দু’চার ফোঁটা অশ্রুর লোনাজল মিশে থাকতেও পারে। একবার ভৈরবে আমার চোখের জল ফেলেছিলাম। সেই নদী হয়ত তোমার চেনা সমুদ্রে আমার অশ্রুফোঁটাকে বয়ে গিয়ে গেছে। সমুদ্রের লবনাক্ততার মাঝে হয়ত আমার অশ্রুর লোনাজল মিশে গেছে। তুমি তো সেসব বুঝো না।

ওসব আকাশ, অরণ্য আর সমুদ্রের গল্প আমার এই কাঠ-কাঁচ ঘেরা প্রকোষ্ঠে অর্থহীন। আমি এক প্রলাপময় জীবনকে ধারণ করি। অর্থহীন তিক্ত আলাপই আমার জীবন। এসব কথা আর নতুন কী? আমার জীবন অমনই রবে। নতুনত্ব বলতে কোন কিছু আমি চিনিনা। দেখোনি তুমি? কয়েক বছরই হয়ত হলো এসব প্রলাপ লিখিনি আমি।

আরো অনেক কিছু লেখার মতন ছিলো। সময় নেই। মাথা প্রচন্ড ব্যথা। কাল রাত থেকেই এই ব্যথা আমাকে কাবু করে ফেলেছে। ভালোও লাগে না যত্ন নিতে। যত্ন নেবার অনেক কিছুই বাকি। বেঁচে থাকলে শরীরের মতন আরো কয়েক হালি বিষয় আছে যার প্রতিনিয়ত যত্ন দরকার। সময় নেই, সুযোগও নেই সেই কারণেই। অনেকদিন চিঠিও লেখাও হয়না সেই সূত্র ধরেই। ভালো লাগছে না কিচ্ছু। কী করবো জানিনা। অনেকদিন হলো আমার বই পড়তে ভালো লাগে না, টেলিভিশন ভালো লাগে না, ফেসবুক-টুইটারেও লগিন করিনা। মাঝে মাঝে আকাশ দেখি, দুপুরের আকাশ। অফিস থেকে বের হয়ে গিয়ে দেখি। রাতে বাসায় ফেরার পরে বিছানায় শুয়ে পড়ি আধামরার মতন। সিলিং-টা দেখি। এই সিলিংকে চিনি আমি অনেককাল ধরে… অ-নে-ক দিন ধরে।

লিখতে বিরক্ত লাগছে। যাই এবার। একটা রিকসা নিয়ে সোজা ঘরে যাবো। আলো নিভিয়ে দপদপ করা মাথার শিরা-উপশিরাদের অনুভব করবো। যখন মরে যাবো, অমনই এক অন্ধকার ঘরে থাকতে হবে। তখনো কি বুক এমন রবে? অনেক আতঙ্ক থাকবে, তাইনা? আমি কি আরো প্রশান্ত হতে পারিনা? চেষ্টা তো করি হয়ত, তবু কেন হয়না? আসলে হয়ত চেষ্টাই করিনা। সবই আমার ভ্রম, সবই হয়ত আমার অরণ্যাকাশের কথা ভেবে চলা কিছু বিচিত্র কল্পনা।

বিদায়ের কোন কথা লিখতে ভালো লাগে না। সম্ভাসনগুলো ক্লান্তিকর। এখন তবে নামহীন বিদায়, আচ্ছা?

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in চিঠি. Bookmark the permalink.

অরণ্যাকাশ-এ একটি মন্তব্য হয়েছে

  1. রাশেদ বলেছেন:

    মনের কথা গুলোই সুন্দর করে লিখলেন, সময়ের অভাবে প্রায়ই লেখা হয়ে ওঠে না…সংযোজন বা বিয়োজন ছাড়াই নিজের চিন্তা আর অনুভূতির পূর্নপ্রকাশে আপনার লেখা যথেষ্ট…অনেক শুভ কামনা রইল!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s