কী পড়লাম এত বছর ধরে? কেন?


যে জিনিসটা আমাকে খুব পীড়া দেয় তা হলো, একটা ১৬ বছরের বিশাল শিক্ষাজীবনে আমাদেরকে মূলত টাকার মেশিন বানাতেই তৈরি করা হয়েছে। অনেকের জীবনে খোঁজ নিয়ে দেখেছি হাতে গোণা কয়েকজন হাইস্কুল শিক্ষক কেবল কিছু ‘মানুষ’ হিসেবে বড় করতে চেষ্টা করেছেন, তাতেই যা হয়েছে। ঘুণে ধরে জীর্ণ ভঙ্গুর বিবেক ও নীতিবোধের এই দেশের পেছনে এই জীবনটাকেই আমার সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে হয়।

খুব কম মানুষ বিশ্বাস করে সে মারা যাবে। এই মূহুর্তে যারা এই লেখা পড়ছে, নিজেকে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন, আপনি এই মূহুর্তে কি বিশ্বাস করছেন যে আপনি সত্যিই মারা যাবেন? আপনি কি একটুও প্রস্তুতি নিয়েছেন সেই নিশ্চিত ঘটনাটার জন্য? একটুও? কেউ সম্ভবত কোন কাজের আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করে না, কেন কাজটা করছি, এতে কারো ক্ষতি হবে কিনা। আমি একাই খেয়ে আর ভোগ করে গেলাম, গোটা সমাজে যারা না খেয়ে, প্রচন্ড কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তাদের কী হবে — এমন চিন্তা মনে হয় খুব কম শিক্ষার্থী করতে শিখে।

আমার মাথায় আসে না একটা গোটা শিক্ষাক্রম কীভাবে কেন শুধু টাকার পেছনে ছুটতে তৈরি করা হয়েছে। পৃথিবীর মাটির উপরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো যখন উন্নতির একমাত্র তুলাদন্ডকে টাকা ধরে নিয়ে দৌড়াতে থাকে, তখন তো সেখানে মনুষ্যত্ববোধ, পরোপকার, ভালোবাসার জায়গাগুলো অহংবোধ, ব্যক্তিতান্ত্রিক ভোগবাদিতা আর অন্যদের প্রতি ঘৃণায় পরিণত হবেই।

গোটা পৃথিবীতে খুব খারাপ একটা সময় আসন্ন। তবে, মানুষেরা, যে ক’জনই হোক, যদি জেগে ওঠে, একটু বদলায় নিজেদের — আশা করা যায় কিছু লোকের অথবা কিছুটা ভোগান্তি কম হবে। তা না হলে, নিশ্চিত যে মৃত্যু, সে সবার কাছে বহুরূপী চেহারায়, বহুমুখী যন্ত্রণায় ছুঁয়ে দিয়ে যাবে। সিকিউরিটি, ব্র্যান্ডেড টুলস, ভালো ডাক্তারের লিঙ্ক আসলে কখনই তেমন কিছু করতে পারে না। মানুষের ক্ষমতা খুবই কম, মানুষ খুবই দুর্বল। রোগে পড়া বিছানায় কাতরানো মানুষকে দেখলে, অথবা মরে যাওয়া লাশটাকে দেখলে এই বিষয়টা স্পষ্ট উপলব্ধি হয়…

Advertisements

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in যাপিত জীবন. Bookmark the permalink.

One Response to কী পড়লাম এত বছর ধরে? কেন?

  1. uglyduckblog বলেছেন:

    আলটিমেটলি একসময় সাড়ে তিন হাত মাটিই ঠিকানা। হুদাই এত্তসব কিছু!

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s