চলে যায় আষাঢ় দিবস

[সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটি একটি অর্থহীন পোষ্ট]

এমনি করে কত আষাঢ়ই তো এলো। অল্প-স্বল্প আশায় বুক বাঁধা, বন্যার পানির মতন ব্যর্থতার তোড়ে ভেসে যাওয়া ক্ষুদ্র এক জীবন। আরো অনেক তুচ্ছ কিছু কথকতায় অলস দুপুর। কিছু চাওয়া, পাওয়ার ব্যবধান। আর অক্ষয় এই শূণ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব…

সাতাশটি বর্ষার স্পর্শ হলো এই অঙ্গ জুড়ে, আর কতদিন এই পৃথিবীতে? অথচ আজ অবধি কি এমন দিনে এমন তিক্ততা পেয়েছি কখনো? আর কতদিনই বা অমন বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়া? জানি রবে না কিছুই। আমি অনেক বেশিই অর্বাচীন এই নগরীতে। এই নগরীতে বাস করে যুদ্ধংদেহী মানুষেরা। অনেক প্রকান্ড তাদের শক্তি, শরীর ও মনের, অনেক বেশি হয়ত দেমাগের। আমি পরাজিত মানব।

তাহসান গেয়েছিলো না? তখন ফার্স্ট ইয়ারে, রিজভীর সাউন্ডবক্সে ভেসে আসতো–
গর্ভে ধারণ অস্থিতে পচন
মাঝে কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস গ্রহণ

জানি আমি সত্যি অনুভব করি যেন সেই মাটির গন্ধ, শরীরে তো একদিন পচন ধরবেই। আমার এই ক্ষুদ্রতা আমাকে নিজের সত্যিকারের সত্ত্বাটাকে ঘুরে ফিরে চিনিয়ে দেয়। আমি কি কখনো ভেবেছিলাম এমন কিছু?

আদিগন্তজোড়া এই নীলিমায় আমার সীমাহীন বিক্ষেপ। লোহিত অপভ্রংশ আমার জ্বলে থাকা তরঙ্গে লজ্জিত হয়। এই সীমানা জুড়ে এক অবলোহিত নিরর্থকতা। ঠিক যেমনি শব্দগুলো হয়ত সত্যিকারের বিন্যাস নয়, আমি জানি, এর প্রতিটি বর্ণের আঁচড়ে লুকিয়ে আছে পথের ধুলো। ফুটপাথের লাল-ধূসর ইটের উপরে হেঁটে যাওয়া ভাঙ্গা সোলের একটা ওয়েইনব্রেনার স্যান্ডেলের স্পর্শ দিয়ে।

এমন নিরর্থক শব্দে জুড়ে আছে দুপুরে অফিস ছেড়ে ফিরে শয্যাগমন। এই গল্পগুলো কাউকে করা যায় না। এমনকি, লেখাও যায় না। শব্দের আড়ালে লুকোতে হয় অনেক নিরর্থক কথাবাজি আর দগদগে ক্ষতের ইতিহাস। এই-ই তো ঠিক ছিলো। এমনটাই তো হবার কথা ছিলো।

ভেবে দেখো পথহারা পথিক, সেই লাল-ফিতে-সাদা-মোজা শোনার সময়ের আকুলতা মনে আছে তোমার? সেই আবেগের অনুভূতি তুমি হারিয়েছ? কী করে কালের গর্ভেই বিলীন হলো সব। এভাবে সব হারাবে। সুপ্রভার স্মৃতি, তার প্রতিটি কন্ঠস্বরের মিলিত ঝংকার। ঘুম থেকে উঠতে ভয় পাও কেন সকালে তুমি? কেন সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে কিছু কাজ করতে ভয় পাও?

রিকসার পলিথিন নেই, আষাঢ়ে বৃষ্টিতে কালো ছাতাটা মেলে দিয়ে এলে। এমন করেই সবখানে মেলে দেয়া অসহায়ত্বকে। কিছু বদলায়না জানো তো? মানুষকেই বদলাতে হয়, উদ্যোগ আসে ভেতর থেকে। আজীবন দর্শকেরা দর্শক রয়ে যায়। একদল পরাজিত মানবের উপাখ্যান তো কম শোনা হয়নি।

এমন অনেক অর্থহীন লেখা, দিনলিপি, রোজনামচা, বিচ্ছিন্ন আবেগের টুকরো কথা… মিলেমিশে শতবর্ষী আরাধনা তৈরি করে হৃদয়ের আবহে। সবকিছুর অর্থ থাকতে হবে তা কি কখনো ভেবেছি?

০৭/০৭/২০১৩

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in ব্লগর ব্লগর. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s