সময়ের ভাবনা – ৪

rope

{ ক }

একটা Temporary জীবনে আমরা কেন যেন সবকিছু permanent চাই…
permanent চাকরি, permanent বাড়ি /ফ্ল্যাট, permanent গাড়ি, permanent সুখ…

অথচ সেই সুখও এই জীবনচলার উদ্দেশ্য না, সুখ হলো চলার পথের একটি অংশ, বাকিটা দুক্ষ-কষ্ট মিলেই। নিশ্চিত জানি পৃথিবীর ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মানুষের কেউ এই নিয়মের বাইরে কাটায়নি, তবু আমরা এতটাই মূর্খ যে অবিমিশ্র সুখ খুঁজি…

{ খ }

এই শহরে পুরুষের পৌরুষত্ব আর নারীর ‘স্মার্টনেসের’ খড়গ কেন কেবল রিকসাওয়ালাদের উপরেই পড়তে হয়?

ঐ অসভ্য মেয়েছেলে আর ইতর পুরুষগুলো কি জানে না যেঁ তার সন্তানকে রিকসাওয়ালা হতে হলে তার একটা ক্যান্সার রোগই যথেষ্ট হতে পারে। ক্রমাগত একই দৃশ্য দেখতে দেখতে আমি একদম ত্যক্ত-বিরক্ত। ফ্লাইওভারের প্রচন্ড ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে রাস্তা পারাপারের সময় সম্পূর্ণ নিজ দোষে ভুল করে শেষে দাঁড়িয়ে যায় দু’জন আধুনিকা নারী, আর তাদের আক্রান্ত হওয়া থেকে রিকসার মুখ ঘুরিয়ে রক্ষা করা রিকসাওয়ালাকে ‘হারামজাদা’ গালি দিতে শুনলাম এক সাজুগুজু করা রমনীর মুখে। আবার, এক চল্লিশোর্ধ লোক দেখলাম সকালে গাড়ি থেকে বেরিয়ে রিকসাওয়ালাকে ‘কইষা চড়’ দিয়া গাড়িতে ঢুকে টেনে চলে গেলো…

এতই সস্তাই রে ভাই? রিকসাওয়ালা যদি রাজনীতি করত, কই যাইতা আফা? কি হইতো তোমার অবস্থা চিন্তা করসো? অ্যান্ড ইউ ঠু হেই! আঙ্কেল?

{ গ }

সারাদিন আমার এমন অজস্র মানুষদের সাথেই থাকা হয় যাদের ঢাকায় permanent বাড়ি ও গাড়ি আছে। দিনশেষে ফেরার সময়ে ভবনটার নিচ থেকে লম্বা রাস্তার দেয়াল ঘেঁষে ত্রিপল টাঙ্গিয়ে একদমই temporary ঘরে থাকা মানুষদের পেরিয়ে আসা হয়। প্রায় দিন অনেকের সাথে টুকটাক কথাও হয়েছে। আজকে বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো অনেকক্ষণ, কয়েকটা কথা জিজ্ঞাসা করে উত্তর পাওয়ার সময় মনে হলো ‘customer service’ নিয়ে workshop করা মানুষদের কথাও আসলে মোটেই তেমন আন্তরিক হয়না। kindness, modesty, humility এমন সব ভাষা যা আসলে অন্ধ এবং বধিরও বুঝে।

কী লাভ হয় আসলে? সারাজীবন ক্রমাগত বড় হয়ে আকাশেই যেন ছুঁয়ে গেলাম, মরে গেলে তো সবারই একই ঠিকানা। বেঁচে থাকতে হয়ত শরীরের বাইরের কাপড়, প্রসাধন, থাকার ঘরগুলো আলাদা হয় অন্যদের চাইতে। কিন্তু বুকের খাঁচার ভেতরের অন্তরটাতে যদি সুগন্ধ না ছড়ায়, Calvin Klein স্প্রে করে আর কতটুকুই বা সুগন্ধ হয়? কোথায় আমাদের বিশেষত্ব? কীসে? কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর নিজের কাছে দিতে পারি সবাই?

[photo courtesy : Navil]

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in যাপিত জীবন. Bookmark the permalink.

সময়ের ভাবনা – ৪-এ একটি মন্তব্য হয়েছে

  1. অর্ক বলেছেন:

    এই শহরে পুরুষের পৌরুষত্ব আর নারীর ‘স্মার্টনেসের’ খড়গ কেন কেবল রিকসাওয়ালাদের উপরেই পড়তে হয়?

    শুধু এই শহরে না বন্ধু সবখানেই সবলতরের খড়গ দুর্বলতরের উপর পড়ে।

    আর আলাদা কইরা নারীর জন্য স্মার্টনেস কিংবা পুরুষের জন্য পৌরুষ ডিটেক্ট করতেসিস ক্যান? কাহিনী কি? লক্ষন ভাল না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s