সময়ের ভাবনা – ১

আজ থেকে একশ বছর আগে এই পৃথিবীতে যারা হেঁটে বেড়াতো তারা কেউ এখন নেই। কেউ ছিলো রাস্ট্রপ্রধান, কেউ ছিলো বিশাল ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, কেউ ছিলো রাস্তার পাশে ত্রিপল টাঙ্গিয়ে ঘুমানো কুলি-মজুর। সবাই আজকে চলে গেছে, হয়ে গেছে ইতিহাস, হারিয়ে গেছে মাটির সাথে মিশে…

আপনি যত বড় নেতা, পাতি নেতা, ব্যবসায়ী, মন্ত্রী-মিনিস্টার, ব্রিলিয়ান্ট হোন না কেন — অবশেষে মাটির সাথে পচে গেলে মিশে যাবেন এইটা কিন্তু সত্য। মানুষ মারতে, মানুষকে ঠকাতে, আলীশান বাড়ি-গাড়ি বানাতে জীবন চালাচ্ছেন তো মাতালের মতন? মনে রাখবেন — একদিন এইসবের হিসেব গুণে গুণে দিতে হবে তাঁর কাছে, যিনি এখন আপনার হাতে কিছু ক্ষমতা আর এখনো অনুতপ্ত হয়ে ফিরে যাবার সুযোগ দিয়ে রেখেছেন…

হায়!! যদি আমাদের বোধোদয় হতো! যদি আরো শত-সহস্র মানুষ না মরতো সেই ক্ষমতার লোভে, কারো কারো বিশাল প্রতিপত্তি সম্পন্ন ব্যবসায়ী হবার লোভে…

সময় গেলে সাধন হবেনা রে পাগল, হবে না… হবে না..

নজরুল “ধূমকেতু” ছদ্মনামে লিখতেন। আজ নজরুলের সব লেখার তালিকার দিকে তাকিয়ে মনে হলো তার জীবনটা তো সত্যি ধূমকেতুর মতনই ছিলো। তীব্র গতিতে প্রচন্ড আলো নিয়ে ধেয়ে এলেন এই একটা সাহিত্য সমাজে। কখনো প্রেম, কখনো সাম্য, কখনো ধর্ম, কখনো মানবতা নিয়ে কী ক্ষুরধার, তীব্র, ছন্দময়, ভাষাময় শব্দালংকারে সমৃদ্ধ করলেন আমাদের সাহিত্যকে, মননকে, বাঙ্গালির আত্মাকে। তারপর মাত্র ৪২ বছর থেকে হারিয়ে গেলেন এই সাহিত্যজগত থেকে নির্বাক হয়ে। ধূমকেতুর মতই উজ্জ্বল আর তীব্র তার গতি, ক্ষণস্থায়ী তার অবস্থান।

“আনন্দময়ীর আগমনে” লিখলেন, শুধু কবিতাটা নিষিদ্ধই হলোনা, তাকে কারাগারে যেতে হলো, কারাগারে গেলেন প্রলয়শিখা লিখে। তার কবিতা বাজেয়াপ্ত করা হলো ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে। কবিতার প্রতি কতই না ভয় ছিলো শাসকগোষ্ঠীর! সেই কবিতার তীব্র শব্দ আর ছন্দ নাড়িয়ে দেবে এক টলায়মান আদর্শ আর নীতির গতিকে, তাইনা? নজরুল এখন আমাজের মাঝে থাকলে আজ অন্য কোন আনন্দময়ীদের আগমন নিয়ে লিখতেন না, তা কেইবা বলতে পারে!

অল্প ক’টা বছর বেঁচে থেকে একজন ভীষণ সৃষ্টিশীল মানুষ জীবনকে চালালেন যাচ্ছেতাই করে, পেলেনও তেমনি। একটা নজরুলের জীবনকে নিজের করে অনুভব করতে চাইলে কেঁপে উঠে শংকায়! এত প্রতিভা, সে তুলনায় কতই না কম প্রাপ্তি তার!

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাই এই সৃষ্টিশীল মানুষটিকে। আল্লাহ আপনাকে অনন্ত জগতে অনেক ভালো রাখুন। ♥ ♥

পৃথিবীতে সবচাইতে নিশ্চিন্ত সুখী তাদেরকেই দেখা যায়, যারা সবচাইতে নির্বোধ।

— সমাজ, রাস্ট্র, অর্থনীতি, রাজনীতি, পৃথিবী, আবহাওয়া, জলবায়ু — কিছুই তাদের স্পর্শ করেনা…
— বার্সেলোনা-আর্সেনাল, এই জব-ওই জব, গার্লফ্রেন্ড-পার্টি-বিএফসি-কেএফসি টাইপের বিষয়ে তাদের সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত হয়।
— যদিও তারা মূলত তাদের ইন্দ্রিয়ের কারাগারে আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দী থাকে, তবুও সেই হতভাগার দলই নিশ্চিন্ত নির্ভাবনায় থাকে…

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in যাপিত জীবন. Bookmark the permalink.

সময়ের ভাবনা – ১-এ একটি মন্তব্য হয়েছে

  1. পৃথিবীতে সবচাইতে নিশ্চিন্ত সুখী তাদেরকেই দেখা যায়, যারা সবচাইতে নির্বোধ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s