জয়ন্তী – জয়ন্তিকা


চোখ ভেঙ্গে আসা ঘুমের ঝর্ণা, মন ভেঙ্গে আসা অভিমান। অল্প অল্প করে জমে থাকা কিছু অপূর্ণতা, কিছু ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ, কখনো নিজেকে প্রবল শক্ত করে অনুভূতির উপরে উপস্থাপন করা — সব মিলিয়ে অদ্ভূত অনুভূতিদের দল আমার সঙ্গী এখন।

ইদানিং আর লিখতে ইচ্ছে করে না। অনর্থক কথা বলতে ইচ্ছে করে না, অনর্থক লিখতেও ইচ্ছে করেনা। জীবন অনেক ব্যস্ত। অর্থহীনতার ব্যস্ততা। মন দিয়ে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই করা হয়না। সবকিছু ছাপিয়ে ব্লগে আসাটাও কেমন স্রেফ নিরর্থক বলে মনে হয়! একটা সময় জীবনে করার মতন আকর্ষণীয় কিছু ছিলোনা বলেই মনের কথাগুলো আকাশের পাতায় তুলে রেখেছিলাম। কাব্য-দিনলিপি-অনুভূতিভাবনা… আজকাল অনুভূতিরা অন্যরকম কথা বলে! সব মিলিয়ে ভাবতে পারিই না! বুকটা-মনটা কেমন যেন করে!

তবু আজ জোর করেই লিখতে বসেছি। আজ তো জয়ন্তী! ইংরেজিতে বলে অ্যানিভার্সারি। এর সাথে শিরোনামে জয়ন্তিকা শব্দটি এঁটে দিয়েছি। এই শব্দটার প্রকৃত অর্থ জানিনা, সংসদ অভিধান ঘেঁটে তেমন কিছু পেলাম না, কেবল জানলাম এটা একটা বিশেষ্য হতে পারে। জয়ন্তিকা নামের ঢাকা সিলেট রেল আছে একটা। আমার কাছে এই শব্দটা একটা অনুভূতি দেয়। একটা দুরত্ব পেরিয়ে যাবার অনুভূতি। একটা ধাপ পেরিয়ে নতুন পথের শুরু। সুবর্ণ জয়ন্তী, রজত জয়ন্তী, হীরক জয়ন্তী, শতাব্দ জয়ন্তী — দারুণ সব নাম। দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। শুরু হয় একটা যাত্রা। তারপর ক্রমাগত আধযুগ, একযুগ, দুই যুগ, সুবর্ণ জয়ন্তী… না থেমে থাকে সময়, না থাকে মানুষের এগিয়ে যাওয়া। একদিন শুধু সমাপন।

আজকের দিনটা ছিলো বৃষ্টিভেজা। বিরক্তিকর বৃষ্টির মাঝে, হরতালের মাঝে সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বাইরে থাকতে হলো। কয়েকবার মাথা শুকালো ভিজে ভিজে। আপুর একটা ফোনকল, সারাদিন পিএইচপি কোড আর সার্ভার রুটে ডাটা আপডেটিং, ভেজা চুলে বন্ধুদের নতুন মেসে ঘন্টাখানেক চুপ করে বসে থেকে কিছু চিন্তাদের গুছানো, রিজেলের সাথে সুন্দর একটা ঘন্টার গল্প ভেজা পথে হাঁটতে হাঁটতে। তারপর, বেলা শেষে অরণ্যময়তায় চুপসে যাওয়া। পৃথিবীর বুকে আসা বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের মাঝে এই ক্ষুদ্র আমার আগমনের সুবর্ণ জয়ন্তীটা এমন করেই কাটলো। দিনভর একটা অনুভূতি হচ্ছিলো, অনেকদূর চলে গেলো। হয়ত এভাবে জীবনটাই চলে যাবে। সামনে অনেক কঠিন সময় বাকি, পেছনেও কি ছিলোনা? কেটে যাবেই। জীবনের সবচাইতে বড় চাওয়া ছিলো সাধারণ আর সীমা অতিক্রম না করার জীবন। আল্লাহর নির্দেশগুলো যেন পালন করতে পারি মৃত্যুবধি, আল্লাহ সেই তৌফিক দান করুন। আমি চাই অনন্ত মুক্তি, আমি চাই সবকিছুর শেষে আমার রবের সন্তুষ্টি। সেই প্রকৃত সফলতা!

জীবনে আমার কিছু চাওয়া ছিলো রৌদ্রের মতন। আজ বৃষ্টিতে ভিজে তারা হারিয়ে গেছে ভাবনার ডামাডোলে। আমার অরণ্যময়ী রাত্রির মাঝে সময় কাটাতে ইচ্ছে হয়। আমি জানি আমি ক্ষয়ে যাচ্ছিনা, তবু আমি সেই নিষ্কলুষতার স্পর্শপ্রার্থী! যাবার পথে আরো এগিয়ে গেলাম বুঝি! এতটা সময় চলে গেলো জীবনের। অন্তহীন, অনন্তকালের জীবনটার প্রস্তুতির হিসেবটা ভাবছিলাম। ভাবছিলাম এই জগতের কিছু অপেক্ষার কথা। কিছু চিঠির কথা। সেই চিঠিতে একটা সন্ধ্যার কথা থাকতে পারতো। বৃষ্টিভেজা দিনে ভিজে চুপচুপে হয়ে থাকা কেমন কষ্ট তার অনুভূতিটা থাকতে পারতো! একটা কন্ঠে অপেক্ষার অনুভূতিগুলোর উচ্ছ্বল প্রকাশ থাকতে পারতো। কিছুই যখন নেই, একদিন থাকবে। তদবধি হয়ত শূণ্যতাও অনেক বড় বার্তা!

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in ব্লগর ব্লগর. Bookmark the permalink.

জয়ন্তী – জয়ন্তিকা-এ 4টি মন্তব্য হয়েছে

  1. Yaad বলেছেন:

    জয়ন্তিকা মানে হরিদ্রা লেখা ডিকশনারীতে

    আপনার অনুভূতিটাও ভালো। “দুরত্ব পেরিয়ে যাবার অনুভূতি”!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s