মসজিদেরই পাশে


প্রতিদিনই অনেক জায়গায় যাই। প্রয়োজনের তাগিদে… ইদানিং যাতায়াতের প্রায় সম্পূর্ণটাই প্রয়োজনের কারণে হয়। আর প্রয়োজনেরও বেশিরভাগটা দখল করে নিয়েছে জীবিকার তাগিদ। তারপরেও সপ্তাহান্তে সময় পেলেই পুরোনো বন্ধুদের শরণাপন্ন হই… নিজের ফেলে আসা স্মৃতিময় সময়গুলোকে খুঁজে পেতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া হয় মোটামুটি নিয়মিতই। মেডিকেলের বন্ধুদেরকে হোস্টেল থেকে বের করে এনে বিকেলে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় ফেরা। পথিমধ্যে নামাযের ওয়াক্ত পড়লে সবচেয়ে পছন্দ করি ঢাকা ভার্সিটির সেন্ট্রাল মসজিদটা। বিশাল এই মসজিদে মুসল্লীদের দেখে আমার অন্যরকম লাগে। কখনই আমি ছোট আকারের জামাত হতে দেখিনা। এতগুলো মানুষের সাথে নামায পড়ার অনুভূতিটাই আলাদা! প্রায়ই মসজিদ থেকে বের হয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরটা চোখে পড়ে। মৃত্যুর পর মসজিদের পাশে কবর দেয়ার আহবান নিয়ে তিনি একটা কবিতা লিখেছিলেন। কবিতাটা পড়ে বুকটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো। আজকের সবার জীবনেরই বর্তমানগুলো ধুম করেই কেমন অতীত হয়ে যায়! কবি যেদিন কবিতাটা লিখেছিলেন, সেদিন তার অনুভূতি কেমন ছিলো? আজ তার কবিতাটার কথাগুলোই পরম বাস্তব…

কবিতাটা খুব সুন্দর। এইটা সম্ভবত গান হিসেবেই সুপ্রচলিত। আমি গানটার সুর মনে করতে পারিনি। কবরের ছবিটাও পেলাম ইন্টারনেটে ঘেঁটে। যদিও আমি গতদিন মার্বেল পাথরে বাঁধানো কবর দেখলাম বলে মনে হলো। সত্যিই তো কবি প্রতি ওয়াক্তের আযান শুনতে পান, হয়ত প্রতি ওয়াক্তেই কিছু মুসল্লীগণ তাকে ”আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর” বলে সালাম দেন। আল্লাহ হয়ত এই সালামের উসিলায় তাকে কিছু শান্তিও পৌঁছে দেন। মসজিদে করা কুরআন তিলাওয়াত শুনে কবরে শুয়ে থাকা কবি নজরুলের পরাণ কী জুড়ায়? আল্লাহ তাকে রহম করুন। আমাদের সবাইকেই রহম করুন।

মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই

মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।।

আমার গোরের পাশ দিয়ে ভাই নামাজীরা যাবে,
পবিত্র সেই পায়ের ধ্বনি এ বান্দা শুনতে পাবে।
গোর – আজাব থেকে এ গুনাহগার পাইবে রেহাই।।

কত পরহেজগার খোদার ভক্ত নবীজীর উম্মত
ঐ মসজিদে করে রে ভাই, কোরান তেলাওয়াত।
সেই কোরান শুনে যেন আমি পরান জুড়াই।।

কত দরবেশ ফকির রে ভাই, মসজিদের আঙ্গিনাতে
আল্লার নাম জিকির করে লুকিয়ে গভীর রাতে,
আমি তাদের সাথে কেঁদে কেঁদে
(আল্লার নাম জপতে চাই) ।।

— কাজী নজরুল ইসলাম–

কৃতজ্ঞতাঃ
ছবি- এই লিঙ্ক, গান- লিঙ্ক

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in কবিতা, সংকলন. Bookmark the permalink.

মসজিদেরই পাশে-এ 14টি মন্তব্য হয়েছে

  1. bandhan1983 বলেছেন:

    ভালো লাগলো🙂

  2. tusin বলেছেন:

    কবিতাট পড়ে ভাল লাগল…

  3. tanvirraihan বলেছেন:

    আনার লেখা গুল মাঝে মাঝে পড়ি কিন্তু মন্তব্য করা হয় না । আজ বলছি লেখাগুল খুব ভাল লাগে
    thanks

    • mahmud faisal বলেছেন:

      তানভীর ভাই, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ব্যস্ত জীবনের মাঝে এলোমেলো দু’চার লাইন লিখি। যদি সেটা কারো ভালো লেগে যায়, সে আমার অনেক বড় প্রাপ্তি! আপনার ব্লগগুলোতেও আমি উঁকিঝুঁকি দিয়ে এসেছি অনেক। লেখা হয়নি কিছু!

  4. MAQ বলেছেন:

    ১।
    যাক! অবশেষে আমার বোঝার মত করে কোন লেখা লিখলে!😛

    ২।
    নজরুল আমার প্রিয় কবি। “আমি হব সকালবেলার পাখি” – কবিতাটা পড়ে ঐ লোকটার উপর অসম্ভব রকম রাগ হয়েছিল। মন হয়েছিল – ব্যাটা, তুমি সকাল সকাল উঠ ভাল কথা, সেটা নিয়ে কবিতা লিখে যেতে হবে নাকি? সেই কবিতা দিয়ে আম্মু প্রায়ই আমার সকাল বেলার ঘুম মাটি করে দিত। পরে এই লোকের অন্যান্য কবিতা পড়ে আমি পুরো ফ্যান হয়ে গেলাম। কবিতা জিনিসটা আমি একেবারেই পছন্দ করিনা, শুধুমাত্র নজরুল ব্যতিক্রম! কারণ এই লোকের কবিতাগুলো কীভাবে কীভাবে যেন বুঝতে পারি।

    • mahmud faisal বলেছেন:

      তানিম ভাই, বুঝলাম আমার লেখাগুলো আপনাকে বেশ অস্বস্তিতেই ফেলতেসিলো একটানা। আসলেই শেষ অনেকগুলো লেখা ডায়েরির পাতায় লেখাগুলোর মতন হয়েছিলো। আর সেগুলোর বেশিরভাগের অর্থই হয়ত বোঝা যায়না কারণ আমি আমার অনুভূতিগুলোই কেবল লিখি।

      নজরুল আমারো প্রিয়। কিন্তু আমি বোধহয় খুব কম কবিতার অর্থই বুঝতে পারি। বিভিন্ন কবির কবিতার শব্দগুলো আমাকে শক্তি দেয়, প্রেরণা দেয় বলেই এই জিনিসটা নিয়ে অল্প করে হলেও আমি উৎসুক থাকি। অনেক দেরী হলো রিপ্লাই দিতে। আশা করি মনঃক্ষুণ্ণ হননি🙂

  5. Ostader Ostad বলেছেন:

    দেখে গেলাম, চালায় যা!
    ফু………
    ফু………
    ফু………
    *DOA*

  6. নিবিড় বলেছেন:

    স্যার বহু দিন দেখা হয় না কথাও হয় না। লেখা পড়ে বুঝলাম আপনি আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়া আসা করেন। নামায শেষে একদিন মোবাইলে টোকা দিয়েন বলা যায় না হয়ত হাতের কাছেই পাবেন🙂

    • mahmud faisal বলেছেন:

      বন্ধু, আমার ফোন চুরি হবার পর আমি সবার নাম্বার হারায়া ফেলসি। তোরটাও…😦

      আর এই লেখার পরে আর যাওয়াও হয়নি ওইদিকটায়। সাধারণত জুমা’আর দিন বিকেলে ওইদিকটায় গিয়ে চেষ্টা করতাম সাপ্তাহিক ছুটিটা উসুল করে নেয়ার… দেখা হবে খুব শীঘ্রই আশা করি🙂

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s