রোদনভরা এই পৌষ



[ডিসক্লেমার: এটি একটি অর্থহীন এলোমেলো বিষণ্ণ লেখা। না পড়ার অনুরোধ রইলো]

সূর্যের ফিকে আলোয় কেটে যাওয়া কুয়াশার চাদরের একটা অস্তগামী শীতলতায় ঘুম ভাঙ্গে। ঘড়ির কাঁটাগুলোর জ্যামিতিক দূরত্ব নব্বই ডিগ্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিনের মতন আরেকবার নিজেকে খিস্তি করেই এক অদ্ভূত নোংরামিতে শুরু হয়ে বেলা। শুয়ে থাকা বিছানা থেকে পা বাড়িয়ে ভূমিস্পর্শের সময় টের পাই, পা যেন কথা শুনছে না। চাইছিলাম মেঝেতে পড়ে থাকা চপ্পলে পা গলাতে, পা গিয়ে পড়ে প্রায় আধফুট দূরে…

আধযুগের অধিক পুরোনো সেই হতভাগ্য সময়টার কথা মনে পড়ে। একজোড়া অক্সফোর্ড সু, খাকি রঙের পোষাকের ভেতরে গুমরে মরা একটা অসুস্থ দেহের দুঃখিত আত্মা। শারীরিক যন্ত্রণার প্রবল কষ্টে ভোগা এক অসহায় বালকটার অনুভূতিগুলো সহসাই কাঁপিয়ে দিয়ে যায় ‘বিশ-এগারোর’ এই সকালকে। অবিমিশ্র যন্ত্রণার এক তীক্ষ্ণ কাঁটা বিঁধে থাকে কলজের বামদিকটায়। শত যন্ত্রণা সহ্য করা শাপিত আত্মার আস্তাকুঁড়ে পড়ে থাকা… ভাগ্যের নির্মমতা সর্বদাই ছুঁয়ে দিয়ে যায়। ঘেন্নায়, অসহায়ত্বে আর দুঃখে কুঁচকে যায় চেহারা। মুষ্ঠিটা আরেকবার বদ্ধ হয়। তারপর চোখ বন্ধ করে ব্যথাটাকে সহ্য করে নেয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা।

তারপর আরেকটা কুশ্রী দিনের শুরু। যেখানে সফলতার তাগিদ নেই, যেখানে নেই ফেলে আসা দিনগুলোর কষ্টগুলোর কথা স্মরণে স্মিতহাস্যের সুযোগ। পরিশ্রম করে, জাগতিক চাওয়ার সর্বনিম্ন স্কেলের মাঝে বসবাস করে সবচাইতে সাদামাটা অর্জনের এক বিতিকিচ্ছি জীবনের ধারক হবার জঘন্যতম অনুভূতিদের মাঝে নিরন্তর বসবাস…

বিবশ হয়ে যাওয়া নিনাদের মাঝে এক পশলা আর্তনাদ বাতাসে হারিয়ে যায়। ক্রোধ, হিংসা, কষ্ট, যন্ত্রণা, অসহায়ত্ব, অভিমানের এক তীব্র মানসিক কষ্টের মাঝে বিমূর্ত হয় শব্দরা, অনুভূতিরা হয় অবনত। চারিদিকে দৃষ্টি প্রক্ষেপণ কেবলই হতাশার ক্ষণ বলে প্রতিধ্বনিত হয়। বুকের ভেতরে গুমরে ওঠা কান্নারা শব্দ হয়ে বের হতে পারেনা, তাদের যাবার মতন এক জোড়া কর্ণকুহর নেই এই তিলোত্তমা নগরীতে।

আর্তনাদের শব্দগুলো কেবলই ফিরে ফিরে আসে অসহায়ত্ব হয়ে। ধূসর এই জগতকে ছেড়ে চলে যাবার এক অদম্য ইচ্ছা বারবার আত্মশ্লাঘায় রূপান্তরিত হয়। চলে যাওয়ার কথা ভেবে অসহায়ত্ব বৃদ্ধি পায় অজানা একাউন্টিং এর কথা স্মরণে। বুকের ভিতরেই বিপুল চিৎকার করে বলে ওঠা আর্তনাদে চোখ বেয়ে ঝরে চলে অশ্রুধারা।

এক অনন্ত না মেলানোর হিসেব। এক অনব না পাওয়ার, না ভালোবাসার, না চাইতে পারার, না বলতে পারার যন্ত্রণা আর আর্তিগুলোর মিলিত অনুভূতিতে বিবশ হয়ে চলা… পথের ধারের শোকগাঁথারা প্রায়শই আজকাল আর স্পর্শ করেনা।

ঘেন্নায় কুঁচকে ওঠে ভুরু আর দলাপাকানো থুতুগুলো আছড়ে পড়ে শ্বেতশুভ্র চিনেমাটির বেসিনে। ঘৃণিত সত্ত্বা… বধির আত্মা… বিকৃত জীবনবোধ… অর্থহীন জীবননামা…
ছবিঃ গুগল

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in ব্লগর ব্লগর. Bookmark the permalink.

রোদনভরা এই পৌষ-এ 6টি মন্তব্য হয়েছে

  1. pasha বলেছেন:

    ভাল হইছে।
    ঘেন্নায় কুঁচকে ওঠে ভুরু আর দলাপাকানো থুতুগুলো আছড়ে পড়ে শ্বেতশুভ্র চিনেমাটির বেসিনে। ঘৃণিত সত্ত্বা… বধির আত্মা… বিকৃত জীবনবোধ… অর্থহীন জীবননামা…

  2. orin বলেছেন:

    tora lekhok ra moner vab koto shohoje prokash korte paros………………………jos hoise…..

  3. tusin বলেছেন:

    সুন্দর হয়েছে……..
    পড়ে ভাল লাগল…….

  4. অবুঝ বালক বলেছেন:

    জীবনটাই পেইন

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s