ভেজা কাক হয়ে থাক আমার মন


আর লিখবো না প্রতিজ্ঞাতে এক বিন্দু খাদ ছিলো না, এখনো নেই। তবে ব্লগে আগের লেখাটাতে ভার্চুয়াল জগতের আমার কাছের মানুষদের মন্তব্যগুলো, আর ফেসবুকের নীল খামে (!) একজন অচেনা ভাইয়ার অদ্ভূত সুন্দর কিছু শব্দমালা আর শুভকামনা আমাকে অনেক সুন্দর কিছু অনুভূতি দিয়েছে– কপর্দক শূণ্য মনের শূণ্যতায় পূর্ণ জীবনে কিছু পাওয়ার অনুভূতি। ‘কিছু মানুষ হয়ত আমার উপস্থিতিতে একটু হলেও ভালো অনুভব করেন’– আমি যেমনটা হতে চেয়েছি আজীবন…

হয়ত সেই ভালোলাগা অনুভূতিই আবার আমাকে ওয়ার্ডপ্রেসের এই এডিটরের চেহারা দেখতে উৎসাহিত করেছে। আর আজও আমার লিখতে বসার কারণ এই বর্ষা। সারাদিন ক্রমাগত ঝমঝম ঝরে যাওয়া দেখলাম। আজ ছুটির দিন ছিলো, মনটা অন্যান্য ছুটির দিনের চাইতে একটু শান্তও ছিলো– কারণ গতকালও ছুটি পেয়েছিলাম।

সকালে একটু কিছু শেখার আশায় বেরিয়েছিলাম বাইরে, মৌচাকের পানিতে পা ডুবিয়ে মাথায় ছাতা ধরে ফিরলাম জুম্মার খানিক আগ দিয়ে… আম্মুর হাতে আমার প্রিয় টাইপের খিচুড়ি আর ইলিশভাজা, তেতুলের টক দিয়ে বেগুনভাজি (কেম্নে বানাইসে আম্মুই জানে) দিয়ে দুপুরের খাওয়াটার পরে আলো-আঁধারিতে ভরা রুমে রাজ্যের ঘুম পেয়ে বসলো। মনকে পাত্তা দিয়ে শুয়ে ঘন্টা দেড়েকের ঘুমও দিয়ে নিলাম… কতদিন পর যে দুপুরে ঘুমালাম মনে নাই! দুপুরে ঘুমটা আমার কখনই ভালো লাগে না!

বিকেলে উঠে ছোটবোনের হাতে বানানো এক কাপ চা আর কিছু হালকা নাশতা… বাইরে বিষণ্ণ বিকেল… আর হঠাৎই ক্ষণিকের জন্য উদাস হয়ে যাওয়া এই মনটা। সব কিছু মিলিয়ে নিজেকে বেশ সুখী সুখী মনে হতে থাকে… এই সুখ কোনদিন কোনকিছু বিনিময়ে পাওয়ার মতন না। আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া জানাই– এই সুন্দর মূহুর্তগুলোর অনুভূতিগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা আমি তোমার কাছে বলে শেষ করতে পারবো না কোনদিন!

অর্নবের একটা গান খুব মনে পড়লো। ‘অফ বিট’ নামের মুভিটার থিম সং ছিলো– খুব পরিচিত ‘সে যে বসে আছে একা একা’। এই গানটা প্রথম শুনেছিলাম যখন, তখন আমি মনে হয় টুয়েলভে পড়ি। তারিক হাউসের ৩৭ তম ব্যাচের ছোটভাই সুফিয়ান গুনগুন করে এই গানটা গাইতো নিচের বক্সের সামনে দিয়ে যাবার সময়… ওর মুখে শুনেই আমিও গুনগুন করে গাইতাম😛 ছুটিতে এসে একদিন পুরো গানটা শুনেছিলাম। এই গানটা শুনলে তাই আমার আরসিসিস ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ খ্যাত সুফিয়ানের কথা মনে হয়… আর মনে হয় কলেজের শেষ কয়টা দিনের কথা … সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। শুভ্র-সুন্দর স্মৃতি… কিন্তু আসলে আমাদের জীবনটা শুভ্র না!

এই শিরোনামেই একটা মন খারাপ করা লেখা পড়লাম আজ। আমি ইদানিং এসকেপিস্ট হবার ট্রাই করতেসি–টিপিক্যাল সবার মতন। কোন বড় বিষয়, সমাজ, জাতি নিয়ে মন খারাপ হইলে জোর করে ক্ষুদ্র কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেললে– খারাপ লাগা কমে যায়। “যা হবার হইসে– হোক, আমার কী!” আমার কিছু করার নাই। এটা ভেবে দিন কাটানো। যত খারাপই হোক, আমি এমনই থাকবো। চুপচাপ দেখবো।

তাই গান নিয়ে ভাবছিলাম। উদাস টাইপ ভাবনা– রোমান্টিকতায় ভরপুর। স্বপ্ন বুনেই চলেছে ‘সে’ জানালার পাশে বসে, আর হাত বাড়িয়ে মেঘ ধরার অপেক্ষায় আছে– তার গুন গুন মনের গান শোনার চেষ্টা করছিলাম, বৃষ্টির ঝম ঝম শব্দের সাথে সাথে। আর পাশের বাড়ির টিনের চালের শব্দ এই দোতালা ঘরটার জানালার পাশে বসে থেকে শোনার পর আমি মিনিট দুয়েকের জন্য উদাস হয়েছিলাম আজ!

ভেজা কাক হয়ে থাকে কীভাবে মন? যেই অনুভূতিতে মনটা ভিজেছে, কাকের মতন সেটা গায়ে করে কেঁপে কেঁপে ওঠাকে? খুব সুন্দর লাগলো তো এভাবে চিন্তা করে! আসলেই তো, কলেজ জীবনের শেষ কয়টা দিন আমার স্মৃতির সবচাইতে সুন্দর জিনিস। এত চমৎকার সুন্দর আর পূর্ণ পরিকল্পনামাফিক জীবন আর আগে-পরে কোনদিন ছিলোনা আমার তখন! মুশফিক আর নোমানের মতন এত দারুণ রুমমেট আর জীবনে কখনো পাইনি… এই স্মৃতিতে ভিজে কাক হয়ে বসে স্মৃতিচারণ করতে আমার কোনই আপত্তি নেই। রুমের সামনে হাউসের বাগানের ডালিয়ার বেড, পাশে আমার দারুণ ভালোলাগা সাদাগোলাপ। আর রুমের সামনে হাউসের গাড়িবারান্দায় বসে বাগানবিলাসটা তো অনেকটা আমারই ছিলো।

ভেজা কাক হয়ে থাক আমার মন– এখন আমি সত্যিই চাইছি অমনটা!

ক্যাডেট কলেজ জীবনের শেষ মাসটিতে তারিক হাউসের বারান্দায় বৃষ্টির দিনে আমি। স্মৃতিটাকে ধরে রাখার আগ্রহেই তোলা। হাউসের সামনের অংশে (আমার পেছনে) কলেজের বি-শা-ল মাঠ, গাছপালা আর সবুজের সমারোহ– যা আমার অসম্ভব প্রিয় ছিলো। ছবিটা তুলেছিলো শিহান

সে যে বসে আছে একা একা
রঙিন স্বপ্ন তার বুনতে
সে যে চেয়ে আছে ভরা চোখে
জানালার ফাঁকে মেঘ ধরতে

তার গুন গুন মনের গান বাতাসে উড়ে
কান পাত মনে পাবে শুনতে
তার রঙের তুলির নাচে মেঘেরা ছুটে
চোখ মেল যদি পার বুঝতে।

সে যে বসে আছে একা একা
তার স্বপ্নের কারখানা চলেছে
আর বুড়ো বুড়ো মেঘেদের দল
বৃষ্টি নামার তাল গুনছে।

সেই গুন গুন মনের গান বৃষ্টি নামায়
টপ টপ টপ ফোটা পড়ে অনেকক্ষণ
সেই বৃষ্টি ভেজা মনে ডাক দিয়েছে
ভেজা কাক হয়ে থাক আমার মন।


(কৃতজ্ঞতাঃ অর্নব)

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in ব্লগর ব্লগর, স্মৃতিকথা. Bookmark the permalink.

ভেজা কাক হয়ে থাক আমার মন-এ 13টি মন্তব্য হয়েছে

  1. fadedreamz বলেছেন:

    মাঙ্গেকিউ সারিঙ্গান …

  2. banna বলেছেন:

    আজ সেই সকালে যে বেরুলাম ভেজা বৃষ্টিটাকে মাথায় করে— সারাদিন গায় মাখিয়ে সন্ধ্যায় ফিরলাম। মনে হলো মনটা অন্য কোনো দেশে পড়েছিলো। ঐ যে কাগজের নৌকো– কিছুদুর গিয়েই বৃষ্টির বড় ফোঁটার আঘাতে কাঁত হয়ে ছিঁড়ে যাওয়া জীবনের ভারাক্রান্ত অকোমল কিছু বিষন্ন সময়ের মতো বহুদূর থেকে- অনেক দূর থেকে– জাগো ভার্শন১ থেকে অর্ণব গাইছে—

    সময়টা চুরি করে
    ক্ষেপা মনে ফাক তালে
    রাত জাগা দিন ছোটা
    জীবনের ঘুরি ওড়ে

    উড়ে উড়ে ঘুড়ে প্রতিদিন খেলাতে
    বাঁধ ছাড়া স্বপ্নের ক্যানভাস আঁকাতে…

    যাকনা জীবন যাচ্ছে যেমন নির্ভাবনার নাটাই হাতে—

    • mahmud faisal বলেছেন:

      অসাধারণ একটা কমেন্ট পড়লাম। একটু দেরিতে উত্তর দিচ্ছি। কিন্তু আসলেই, এই গানটা শুনে লিরিকটা ভালো লেগে গিয়েছিলো, আজ আবার লাগলো …

      যাকনা জীবন যাচ্ছে যখন? কী জানি… নির্ভাবনায় কাটাতে শঙ্কা হয় প্রায়ই!

  3. tanvirraihan বলেছেন:

    Khub valo legese. Mone hocse amar moner kotha gulo Apni likhesen..

  4. tusin বলেছেন:

    আপনি ফিরে এসেছেন এটা জেনে ভাল লাগল।
    আপনার লেখা পড়ে ভাল লাগল। আসলে বৃষ্টি আসলে অতীতগুলো আমার খুব মনে পড়ে। এখন দেখছি আপনাত্ত । তাহলে কি বৃষ্টি আমাদের সবার অতীতকে মনে করিয়ে দেয়?

  5. রাফি বলেছেন:

    ফিরে আসতে দেখে খুব ভালো লাগলো…:-)

  6. তাশফিকা বলেছেন:

    এই লেখাটাও লাগলো ভাল।আমার দিনলিপি ট।ইপের লেখাই বেশি ভাল লাগে।
    আমাদের তিনতলার আন্টি খাওয়াইসিল বেগুনের টক।সেইরকম স্বাদ।এখনও মনে হয় মুখে লেগে আসে

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s