বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যাবেলা


লিখতে ইচ্ছে হয়েছিলো গতরাতে। যখন একদম ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়েছিলাম খুলনা শহরের ডাকবাংলা বাসস্ট্যান্ডে। বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভেজা বলে কথা!

ফিরছিলাম বাসের উদ্দেশ্যে, রিকশায় আমি আর সৃজন। হঠাৎ পুরাই অবাক করে দিয়ে আকাশ কাঁপিয়ে নেমে এলো বৃষ্টি! কী বিশাল তার ফোঁটাগুলো! একটানা মেঘের গর্জন। বিজলি চমকে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। আর প্রতিবারের বিজলি চমকে ওঠার পর বৃষ্টির দাপট বেড়ে চলছিলো…

হঠাৎ পাওয়ার চলে গেলো। রাস্তা অন্ধকার হয়ে গেলো খুলনা শহরের একাংশের। গাড়ির হেডলাইটের আলোতে বৃষ্টিধারাগুলো দেখা যাচ্ছিলো– এক অদ্ভূত অনুভূতি হচ্ছিলো। মাথায় বৃষ্টির ফোঁটা, নিঃশ্বাসে একটা সোঁদাগন্ধ… জীবনের সুন্দরতম দিনগুলোকে যাপন করার অনুভূতি… সব মিলিয়ে কেমন যেন একটা অপার্থিব স্বাদ!

এমন বৃষ্টিতে ভেজা নাকি জ্বর এনে দিতে পারে তা গুরুজনদের মুখে সবসময় শুনে এসেছি। থিসিসের কাজ চলছে, এসময় অনাবশ্যক রোগ না বাধানোর আগ্রহে আমি হুড তুলে দিচ্ছিলাম সৃজনের অনাগ্রহ সত্বেও। কাজ হয়নি শেষ অবধি।

একদম আগাগোড়া ভিজে তবেই বাসস্ট্যান্ডে এসে বাসে উঠলাম। শুভর রোমান্টিকতায় আরেকদফা মুগ্ধ হলাম। সে বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভিজবে বলে বাস থেকে নেমে আরও কিছুক্ষণ ভিজলো। অবাক করে তেমনি এক সময় বাস থেকে নেমে পড়লো সৃজন। তারও ভিজতে বড্ড ইচ্ছে হচ্ছে! কম্পিউটার যার জীবনের প্রথম আর শেষ প্রেম, তাকে আচানক উদাস হতে দেখে আমি মজা পেলাম অনেক। বৃষ্টি মানুষকে অনেক নাড়িয়ে দেয়! তবে আমি আর সাহস করলাম না। জীবনে অনেক কিছুই আমার করা হয়না… বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রশস্ত খোলা ময়দানে বন্ধুদের বৃষ্টিভেজা উপভোগ করছিলাম রাতের আধো আলোয়। তবে মুখে পানির ঝাপটা পাচ্ছিলাম। এই জিনিসটা আমার অনেক ভালোলাগে!!

পায়ের ব্যাথাটা কদিন ধরে বড্ড জ্বালাচ্ছিলো– সারাদিন বিছানায় শুয়ে থেকে মনটা কেমন যেন হয়ে পড়ে। তাই ইচ্ছে করছিলো একটু বৈচিত্রের স্বাদ পেতে। গতকাল বিকেলে তাই হঠাৎ মনে হলো শহরে যাওয়া উচিত। বিকেল পাঁচটার বাসে চড়ে আমি, সৃজন, ত্বাহা, রিজেল, শুভ, ইমরান হাজির হলাম জলিল টাওয়ারে। কম্পিউটার এক্সেসরিজের দোকানগুলো গত ক’বছর ধরে খুব আপন বলে মনে হয়! নতুন কী এলো ram, hard disk, graphics card আর আমাদের বর্তমান মাদারবোর্ড আর প্রসেসর এর সাথে এগুলোর compatibility কেমন হবে সেগুলো কয়েকজন মিলে আলোচনা করতে দেখি আমার অনেক সাহিত্য আলোচনার কাছাকাছি মজা লাগে! 😉

এরপর সবাই মিলে মিনি চাইনিজে গেলাম। ধুম খাওয়া দাওয়া শেষে ফিরছিলাম মিষ্টি মহল হয়ে। ইদানিং ভার্সিটি জীবনের শেষ সময়ে বন্ধুরা কেমন যেন হয়ে গেছে! যখনই একটু শখ হয় কারও, অন্য সবাই মিলে সেটা পূরণ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে যেন! শুভর হঠাৎ মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হলো, আর অমনি সবাই মিলে মিষ্টি মহল! এই দোকানের প্রতিটি আইটেমই কেন যেন আমার বড্ড পছন্দ। যখনই যাই, নতুন ধরণের একটা মিষ্টি খাই! আহ! মুখে লেগে থাকে! আর সেই স্বাদ মুখে করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।

সবচাইতে অবাক হলাম যখন ক্যাম্পাসে ফিরলাম। ১৩ কিলোমিটার দূরে এখানে পথঘাট একদম শুকনা খটখটা… বৃষ্টির চিহ্নমাত্র নেই!! চলে গেলো আরেকটি দিন। অদ্ভূত সুন্দর এই ক্যাম্পাস জীবন ছেড়ে যাবার দিনটি ঘনিয়ে এলো আরেকধাপ…

সামনে অনাগত অনিশ্চিত সময়, চলে যাচ্ছে সুন্দর দিনগুলি, অনন্ত স্বাধীনতা জড়ানো ভার্সিটি লাইফের সমাপ্তি সমাগত। জীবনযুদ্ধে এরপরই নেমে যেতে হবে, কঠিন বড্ড কঠিন। কোথায় পাবো এই বন্ধুদের, এই সময়গুলোকে! ……

ইদানিং বড্ড উদাস লাগে!

Advertisements

About mahmud faisal

Yet another ephemeral human being...
This entry was posted in স্মৃতিকথা. Bookmark the permalink.

16 Responses to বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যাবেলা

  1. তানিম বলেছেন:

    বৃষ্টি কি কাল রাতে হলো? ঢাকায় তো আজকে সন্ধ্যায়!

  2. কুট্টুমিয়া বলেছেন:

    আপনার এই লেখার জন্য আমার একটাই কথা বলার আছে ভাই, তা হল……অসাধারন !

  3. ভালো লাগলো। চমৎকার হয়েছে।

  4. rongtuli বলেছেন:

    “মাথায় বৃষ্টির ফোঁটা, নিঃশ্বাসে একটা সোঁদাগন্ধ… জীবনের সুন্দরতম দিনগুলোকে যাপন করার অনুভূতি… সব মিলিয়ে কেমন যেন একটা অপার্থিব স্বাদ!”- অসাধারণ হয়েছে ভাইয়া।

  5. হিমেল বলেছেন:

    হামমম, “ইদানিং বড্ড উদাস লাগে!”

    মাহমুদ ভাই, বরাবরের মতো এই লেখাটিও দারুন হয়েছে।

  6. kalpa বলেছেন:

    ফেসবুকে ঘুরাঘুরি করতে করতে ৬১২১ তম পথহারা পথিক হিসেবে এইখানে এসেছিলাম।
    Not all the people have the power to express their feelings but u have. Once upon a time I also had.
    তোমার এই লেখাগুলি পড়ে আমার মনে হচ্ছে আজ রাতে আমার ঘুম আসতে অনেক সময় লাগবে। কারণ সেই KUET life এর কথা আমার মনে পড়ে গেলো!!! দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার নাই এখন।

    ক্যারিয়ার, ফ্যামিলি নিয়ে সবাই খুব ব্যস্ত। সবাই যেন আজ আমরা অনেক দূরে…… অনেক 😦

    • mahmud faisal বলেছেন:

      ভাইয়া, কমেন্টটা কেন যেন স্প্যাম হয়ে আটকে ছিলো। আজ ঘাঁটতে গিয়ে পেলাম… আমি দুঃখিত! এত সুন্দর কমেন্টটা আগেই পাওয়া উচিত ছিলো।

      ভাইয়া, আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুভূতিগুলো কাউকে ভালোলাগা দিলে আমারও ভালো লাগে। আর সত্যিই আমার মনে হয়, একদিন এই দিনগুলোকে পাগলের মতন মিস করবো। এত্তো সুন্দর দিনগুলো! একাডেমিক চাপ একটু বেশি হলে শেষদিকে কষ্টই হত, কিন্তু সবাই মিলে সময়গুলো… সত্যিই চমৎকার।

      জীবনে অনেক সুন্দর সুন্দর মূহুর্ত আসুক আপনার, দোয়া করি। 🙂

  7. iamsrijon বলেছেন:

    আমি তো অনেক কিছুই ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না, তবে তুই আমার কিছু অনুভূতি প্রকাশ করিস, সে জন্য তোকে …………., কিছুনা। ধন্যবাদ দেয়া নাকি বন্ধুত্বে বারন। যাই হোক, অসাধারন লিখছিস 🙂
    Feeling Nostalgic 😦

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s