হয়ত অন্য কেউ

misty

এই তীব্র স্থিতির মাঝে গতিটাকেই কেমন বেখাপ্পা লাগে।
ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত?
আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের ছড়িয়ে থাকা কত!
তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয় না।

আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ বয়ে নেয় না।
ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই, আমি হেরে যাই।
এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন, বদলেছি দৃশ্যপট,
অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই অসহায় হয়ে? বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা, ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

নীল


তখন সন্ধ্যা নাকি বিকেল মনে নেই। আবছা আলো, স্মৃতির চাইতে বেশি ঘোর সঙ্গী। কোথাও কোন শব্দ হচ্ছিলো একটানা, যান্ত্রিক শব্দ। হুলুস্থূল চিৎকার, বেদনাহত মানুষের আহাজারি, রিকসার ক্রিং-ক্রিং বেলের শব্দ, একটা বাচ্চা ছেলের কন্ঠে মা-সংক্রান্ত খিস্তি, মোবাইলে বেজে যাওয়া অনবরত হিন্দি গান। বৃষ্টির শব্দও আছে, একটানা ঝরে যাওয়া। ঝরে যায় ক্রমাগত। এই পথের কোন ভবনের জানালায় কিশোরি পর্দা সরিয়ে তাকিয়ে আছে আনমনে এমনই পথে। দোকানে জ্বলে উঠেছে এনার্জি সেভিং ল্যাম্প।

এমন অনেক মূহুর্ত থাকে প্রতিদিনই। মানুষের মনের দৃশ্যগুলো অন্যরকম হয়ত। ঝরে যায় বৃষ্টি, ঝরে যায় অনুভূতি, ঝরে যায় স্মৃতি। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় অনেক তীব্র অনুভূতিরাও জাঁকিয়ে ওঠে, মাটির সোঁদা গন্ধে হয়ত মস্তিষ্কের ভিতরে অনাহূত যন্ত্রণা জেগে ওঠে। চোখের সামনের দৃশ্য ঝাপসা হয়ে ওঠে, ম্লান হয় বোধ, নিঃশ্বাস গাঢ়…
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

অনভ্যস্ত কথোপকথন


প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের স্বপ্ন
আমি কোথায় রেখেছি?
ওই স্বপ্ন রাখার জায়গা নেই আমার,
আমি মিশে যাওয়া লোক
আমি কখনো শব্দে মিশে যাই
কখনো মিশে যাই জনকোলাহলে
কখনও এই বাতাসের মাঝে

মিশলেও তা ক্ষণিকের জন্য,
তারপর টের পাই হারিয়ে যাওয়ার স্পর্শ
টের পাই আমার স্বত্ত্বা হারিয়ে যায়
আমি চলে যাই অরণ্যে
আমি চলে যাই অতলে
আমি থাকিনা কোথাও
আমি হারিয়ে যাওয়া একটা স্বত্বা
আমি নির্বিষ এক নিনাদ
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা | 4 টি মন্তব্য

এক অসাধারণ জীবনকথা যা জেনে রাখা উচিত


আমি আজ একটা লেখা শেয়ার করবো সবার সাথে। এই লেখাটি একটি বক্তব্যের লেখ্যরূপ যে বক্তব্যটি উপস্থাপিত হয়েছিলো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। বক্তব্যটি বেশ পুরোনো। তবে আমার জীবনে শোনা সবচাইতে মুগ্ধকর আর উৎসাহমূলক বক্তব্য। তাই সবার সাথে শেয়ার করে নিতে চাইছি। এই বক্তব্য দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। যিনি অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। বক্তব্য রেখেছিলেন ২০০৫ সালের ১২ জুন। লেখাটির ইংরেজি রূপ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া।

বক্তার জীবনের মতন এত রকম কঠিন সময়, কষ্টকর সময় আর বৈচিত্র্য আমাদের সবার জীবনে থাকেনা। কিন্তু আমাদের জীবনে থাকে অনেক রকম ঘাত-প্রতিঘাত আর সফলতার আকাঙ্ক্ষা। আর তাই সবারই এই লেখাটা পড়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, ভালো লাগবে আর অনুপ্রাণিত হবেন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি 🙂

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in অনুবাদ | Tagged , , | 34 টি মন্তব্য

তার বিদায়ের পরে


প্রতিটি বুধবার রাতে এসেই খেয়াল হতে থাকে এমন একটা রাতেই বড় ভাইয়াকে আল্লাহ নিয়ে চলে গেলেন। দেখতে দেখতে চারটা সপ্তাহ চলে গেলো সেই ঘোরময় রাতটার পর। হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহটা দেখার পরে থম মেরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নিজেকে শেখালাম ভাইয়া আর কোনোদিন ফিরবে না, সেই সৌম্য গলায় আদর করে নামটা ডাকবে না। আল্লাহ মানুষটার বর্ণাঢ্য জীবনটাতে যতি এনে দিয়েছেন। আর ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা লাগবে না, অসভ্য জঞ্জালময় মানুষগুলোর সাথে লেনদেনের যন্ত্রণাও সইতে হবেনা। ভাইয়াকে আল্লাহ মুক্তি দিয়েছেন, ছুটি দিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন। অনন্যসাধারণ ইতিবাচক মানুষটাকে জগত সংসারের সবার হৃদয়ের সমস্ত জালগুলো ছিঁড়ে আল্লাহ নিজের কাছে নিয়ে চলে গেলেন। পেছনে তার প্রতি সন্তুষ্ট ও সদা প্রার্থনারত বাবা-মা, স্ত্রী-কন্যাদ্বয়, ভাইবোনদের বিশাল মানবগোষ্ঠী রেখে দিলেন।

তার বিদায়ের পরে যা কখনো ভাবিনি, তা ভাবতে-দেখতে-করতে হয়েছে। আমার পৃথিবীতে আগমনে যে চারপাশের সবাইকে আনন্দে আলোড়ন জাগিয়েছিলো, তার নিস্প্রাণ দেহটা কাঁধে বেয়ে মাটির নিচে রেখে তাকে বিদায় দিতে হলো আমাকে! যে ভাইয়া আমার অস্ত্বিত্বের সাথে জড়িয়ে ছিলেন, যার কাছে আমার জীবনটা আকুন্ঠভাবে ঋণী, সে তো দিব্যি চলে গেলো। আর অনুভূতি আর উপলব্ধির চলমান জ্বালা– সে তো বেঁচে থাকা মানুষদের জন্য! ছোট হয়ে বড়দের কাছ থেকে নিয়েই গিয়েছি, ফেরতটুকু দেবার আর্তি ছিলো বুকে, সুযোগটুকু আল্লাহ দিলেন না। ভাইয়া চলে যাবার পরে বুঝতে পেরেছি, জগত সংসারে ‘ছোট’ হবার একটা আনন্দ আছে। ‘প্রিয়জনেরা শাসন করুক আমাকে’ এমন তৃষ্ণা নিয়ে নিশ্চয়ই আরো অনেক মানুষ ছুটে চলে এই মাটির উপরে…

প্রতিদিনই তো অনেক মানুষ চলে যায় পৃথিবী ছেড়ে। এই মৃত্যুর মিছিলের সবাইই পেছনে ফেলে যায় অদ্ভুত অতীত। সবটুকুই তো রেখে যাওয়া। কেবল শরীরটা মাটির নিচে। কী অদ্ভুত আমাদের বেঁচে থাকার মোহগ্রস্ততা! তবে, কেবল নিজের ভাই বলে নয়, আমি জানি আমদের পরিবারের সবার বড় ভাইটি অনন্যসাধারণ ছিলেন, অযুত-নিযুত মানুষের মাঝে এত মহান হৃদয় খুঁজে পাওয়া যায় না সহজে। দৃপ্ত আত্নবিশ্বাসে ভাইয়া তার মালিকের সাথে মিলিত হবার আশাবাদী গল্প অবলীলায় বলতেন বেঁচে থাকা জীবনেই। নানাবিধ উত্থান-পতন, অসুস্থতা ও ঘাত-প্রতিঘাতের জীবনটাতে আল্লাহ যাকে জনমভর পরীক্ষা নিয়েছেন, প্রার্থনা করি মাটির নিচের ছোট্ট ঘরখানিকে আল্লাহ যেন জান্নাতের টুকরা বানিয়ে দেন। আল্লাহ যেন তার প্রতি জীবনের কঠিন সময়গুলোতেও বিশ্বস্ত থাকা, পরোপকারী, ভালোবাসাময় রহমদীল মানুষটার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দেন।

২৩/০২/২০১৭

Posted in স্মৃতিকথা | মন্তব্য দিন

শিক্ষায় টইটম্বুর


নব্বইয়ের দশকেও শুনতাম ‘ভালো পাত্র/পাত্রী’ খুঁজতে মানুষ ‘মাস্টারের ছেলেমেয়ে’ দেখতো। মাস্টাররা সম্পদের জগতে নাকাল হলেও নৈতিক শিক্ষায় বিশাল ছিলেন। নৈতিক শিক্ষাকে মূল্যায়িত করার সেই ব্যাপারটার একটা সামাজিক স্বীকৃতি হয়ত সেটা ছিলো। অর্থাৎ, শিক্ষার প্রতি আকাঙ্ক্ষা সমাজে ছিলো। তাহলে কি এখন নেই? আছে। এখন আছে ডিগ্রির প্রতি আকাঙ্ক্ষা। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে জাতে ওঠার উদগ্র বাসনা। ঘরে ঘরে এখন মাস্টার্স সন্তান।

তাহলে অনেক শিক্ষা হচ্ছে দেশে। বিগত কয়েক দশকে হয়ত শিক্ষায় টইটম্বুর হয়েছে সমাজ-দেশ-জাতি। দুঃখ লাগে, দেশের অজস্র পথশিশুদের আমি বড় হয়ে উঠতে দেখলাম। ওরা বিভিন্ন বাসের, লেগুনার হেল্পারি করে। কিছু হলে মুখ খারাপ করে গালি দেয়, দু’চার ঘা বসিয়ে দেয়া, ভাংচুর করাও ওদের জন্য ব্যাপার না। এরা ছোট থেকে ‘শিক্ষা’ পায়নি। অনেকে বাবা-মায়ের কোনো আদর-শাসন ছাড়াই দিব্যি বড় হয়েছে, দয়া-ভালোবাসা বুঝেনা তাই এদেরকে দিয়েই খুন-খারাবি করিয়ে ফেলে কয়েক হাজার টাকা দিয়েই! যদিও সম্ভবত এই দেশে এই সামাজিক শ্রেণি কারো কোনো চিন্তার উদ্রেকও করেনা। তবু মনে হয়, এই শ্রেণি এরকম আচরণ করাই স্বাভাবিক। যারা ভালোবাসা পায়নি, যারা বড় হওয়ার মাঝে সামগ্রিকভাবে ব্যবহারে-আচরণে, কৃষ্টি-কালচারে নম্রতা-ভদ্রতার গড়ে ওঠার বালাই নাই, তারা যা দেয়, সেটাই তো বেশি!

কিন্তু আশ্চর্য লাগে প্রায় ১৪-১৬-১৮ বছরের স্কুলিং করা সন্তানগুলোর চোখের-মুখের ভাষা, আক্রোশ-ক্রোধোন্মত্ততা ঐ চালচুলোহীন সন্তানদের সমতুল্য হওয়ার সাধারণ সংস্কৃতি হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাতে। আমি জিপিএ-ফাইভের দৌরাত্ম্য নিয়ে বলতে চাচ্ছিনা, সেইটা আরেক বিষয়। আমি বলতে চাইছি, আমরা যেই মাস্টার্স (এমনকি পিএইচডি) করে ভাবলাম আমাদের সন্তানেরা ফুলে-ফলে ভরে উঠছে/উঠছি, সেই ডিগ্রি আসলে কিছুই শেখায়নি। সত্যিকারের দক্ষতা আমাদের কোনো সেক্টরেই নাই। টিকিট কাউন্টার হোক, কোনো রিসেপশনে হোক, সার্ভিস লেভেলে আমরা কোনো দক্ষতা দেখিনা। দক্ষতা দূরে থাক, একটা ন্যুনতম রুচির জন্মও হয়না ১৬ বছর ধরে পড়ে গ্র্যাজুয়েট হয়ে! অদ্ভুত!

শিক্ষিত মানুষ এবং অশিক্ষিত চান্ডালের পার্থক্য তো সার্টিফিকেট বাঁধাই করে ঘোরার মাঝে নয়। আমাদের কথায়, চেহারার প্রকাশ, শব্দচয়ন, কথাবলার ঢং শাণিত হওয়া যদি ১৬ বছরের পড়াশোনার সত্যিকারের প্রাপ্তি না হয়, তাহলে আসলে আমাদের জাতির লজ্জিত হয়ে মরমে মরে যাওয়া উচিত। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছেলেমেয়েগুলোর হাতে মার খেয়ে হাত পা ভাঙ্গা মানুষ হয়ত কম নেই। সেদিন ফুচকাওয়ালা ‘রেগুলার মাগনা খাওয়া’ এক ‘ইউ-নো-হু’ ভাইয়ের কথা বলে আক্ষেপ করলো সাবধানে। শিক্ষার বাই-প্রোডাক্ট এইসব উগ্র ত্রাসত্ব করা। পথে ঘাটে “ঐ ***র বাচ্চা, আমারে চিনোস হালা?” বলে চড়-থাপ্পড় মারা ছেলে/পুরুষগুলোর বেশিরভাগই ‘শিক্ষিত’।

বছরের পর বছর চলে যায়। আমরা পরমভাবে শিক্ষিত জাতি হতে থাকি। ভাষার মাস আসে। ভাষার ব্যবচ্ছেদ হয়। ভাষার প্রয়োগ আর অপপ্রয়োগের দুরত্ব কমে আসতে থাকে। প্রগতি হয়ত একেই বলে!

১৯/০২/১৭

Posted in দেশ | মন্তব্য দিন

জীবনগুলোর বৈপরিত্যগুলো

​শীতের দমকে হঠাৎ কাতিউশার কথা মনে হয় আকাশের। কাতিউশার সরলতার কথা মনে হয়, অদ্ভুত তিক্ত জীবনের কথাও মনে হয়। জীবন মনে হয় এমনই হয়। কমবেশি এমনই। বঞ্চনা আর মেনে নেয়ার জীবন। পুনরুজ্জীবন বলে কিছু আছে কি? সেটাও হয়ত একটা রিলেটিভ ব্যাপার। আকাশের মনে হয় ওর স্মৃতির মাঝে কিছু বছর একদম মুছে গেছে। জীবনের হাজার হাজার দিনের কথা সে একদম ভুলে গেছে। অনেক ঘটনা মনে নেই, কিছু ঘটনা আবার অনুভূতির কাঁপুনিসহ মনে আছে। এই যেমন সেই দুই দশক আগে যেমন কাতিউশা ইস্টার সানডেতে ডিম নিয়ে রাস্তা হাঁটছিল যখন, তখনকার অনুভূতিগুলো একদম স্পষ্ট মনে আছে তার। এই তো সেদিন মিলাদুন্নবির দিন শহরে মাথায় কাপড় দেয়া কিশোরিকে দেখে তার সেই কথা মনে পড়েছিলো। কাতিউশা যেমন ইস্টার সানডের কোনো কল্যাণ তার জীবনে পায়নি, এই কিশোরি কি পাবে? রিচুয়াল আর স্পিরিচুয়ালের মাঝে মাত্র দুইটা বর্ণের পার্থক্য হলেও যোজন যোজন দুরত্ব সে টের পায়।

হঠাৎ জোরে একটা হর্নের শব্দে চমকে ওঠে সে। “ওই মিয়া সরেন” ধমক শুনে দ্রুত সরে জায়গা করে দিলো ফুটপাথে উঠে পড়া মোটরবাইকটাকে। ইয়াং একটা ছেলে সানগ্লাস চোখে, পেছনে মেয়েটা তাকে অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে ধরে আছে, নিজেকে সোপর্দ করে দিয়েছে যেন। মেয়েটাকে এই আগ্রাসী ছেলেটার বাইক চড়ে যাওয়া দেখে কাতিউশার কথা মনে পড়ে আকাশের। বঞ্চনা যারা ভালোবাসে, তাদের ঠেকাতে পারবে কে? দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফুটপাথে পড়ে থাকা এক পা বিহীন লোকটাকে এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যায় সে। জীবনগুলোর বৈপরিত্যগুলো আকাশের বুকে যেন আঁচড়ে ফালাফালা করে দেয়।

১৫/০১/২০১৭

Posted in গল্প | মন্তব্য দিন

শীত শীত সন্ধ্যা মনে হয় বেশি নেশাধরা

​শীতের সন্ধ্যার চেয়ে শীত শীত সন্ধ্যা মনে হয় বেশি নেশাধরা। হালকা বাতাস হয়ত ফাল্গুনের কথাই মনে করিয়ে দেয়, কখনো কখনো পৌষের সন্ধ্যাও খুব খারাপ না। কখনো কখনো স্মৃতিগুলো বিস্মৃতি হতে হতে স্মৃতিই খুঁজে পাওয়া যায় না। ফাল্গুনের সন্ধ্যার ভালোলাগা তবু মনে করিয়ে দেয় অনুভূতির কথা। শীতের সন্ধ্যায় আবার উদাস দুপুরের কথা মনে পড়ে যায়। তখন মনে হয় সে-ই বুঝি ভালো ছিলো। স্মৃতিরা জাবর কাটার মতন। এমন তো হতে পারতো যখন হয়ত শীতের সন্ধ্যা থেকে একটা টানেলের ভেতর দিয়ে ছেলেবেলার তপ্ত দুপুরে ফিরে যাওয়া যেতো। হয়ত সোঁদাগন্ধ ভরে থাকা এক বৃষ্টিস্নাত বিকেলে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলার নামে মাঠে দৌড়ানো যেত। হয়ত ভুলে থাকা যেত খেলার মাঠের সঙ্গীদের বেশিরভাগই জীবনযুদ্ধে পরাজিত, বিদ্ধস্ত, হতভাগা হবে। হয়ত ওদের হাসিমুখগুলো বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা যেত। অলীক কল্পনাগুলোর মাঝে ডুবে থাকাও অনেক সময় জীবনের শ্রান্তি,অর্থহীন প্রলাপের মাঝে ডুবে থাকা অদ্ভুত সন্ধ্যার নাম ভালোলাগা…

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই 

​সেদিন অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে খেয়াল করলাম, আমার জন্মসালটা খুঁজে পেতে অনেকগুলো স্ক্রল করতে হলো। মাউস নামাতে নামাতে টেবিলের নিচে এসে পেলাম সালটা। তখনই খেয়াল হলো — অনেক বয়স হয়েছে বোধহয়। জীবনের এতগুলো বছর চলে গেলো, অফিসের কাজগুলো প্রফেশনাল ভাব নিয়ে শক্তপোক্ত বাবুদের ভাষাতেই বসকে রিপোর্ট করি, নিজের চেয়ারে বসতে এসে আমার ভিতরের ছটফটে শিশুটাকেই বসাই যেন। স্কুলের মাঠে যখন আমি আর নির্ঝর ছুটির পর দৌড়ে বড় মাঠের কোণার পাকা পিচে যেতাম ক্রিকেট খেলব বলে… তখনো আমার অনুভূতিগুলা এমনই ছিলো।
 
আমরা কতটাই বড় হই? কেন যেন মনে হয়, সময়ের সাথে সাথে আমরা অনেকগুলো চাদর দিয়ে আমাদেরকে মুড়িয়ে রাখি। সেখানে থাকে প্রচেষ্টা, সেগুলো আপনাতেই হয়না। অন্যদের সাথে তাল মিলাতে জোরাজুরি করে নিজেদের আমিকে ভরে ফেলি অন্য কিছুতে… একটা কবিতার পংক্তি ছিলো মনে আছে — “আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই”। আমিও বোধকরি আমাকেই খুঁজে ফিরি। দুই যুগ পেরিয়েছি সেই কবেই। স্মৃতির মাঝে নিত্যনতুন স্মৃতির পরত পড়েছে। অথচ আমি ঠিক আগের মতই যেন আছি। নতুন স্মৃতিগুলোতে অনুভূতির দৈন্যতা, পাওয়া আর না পাওয়ার অনেক হিসেব নিকেশ। অনেক তুলনা করা। আমরা মনে হয় তুলনামূলক সুখ-দুঃখে ভুগি। 

একসময়, স্কুলে পড়তে বাসায় ফিরে নিজের মনে বইটা খুলে পড়তাম, নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতাম, পেরে গেলে বই রেখে তিনগোয়েন্দা পড়তে বসতাম। নিষ্কলুষ মস্তিষ্কে পড়াগুলো, কিশোর-রবিন-মুসা-জিনাপার্কারদের আলাপ আলোচনা ও কল্পনার জগতে তাদেরকে সূক্ষ্ম করে বসাতে পারতাম। অথচ এখন মনোসংযোগ কাকে বলে জানিনা। অনেক শংকা, অনেক ঘৃণা, অনেক তুলনামূলক পাওয়া-না পাওয়ার চিন্তা আমাকে ঘিরে থাকে মনে হয়। আমি আমার আপনাকে খুঁজিয়া বেড়াই। জীবন কবে শেষ হয়ে যাবে, তা তো জানিনা। আমার মনে হতে থাকে যেন আমার সেই বাল্যজীবনকে আমি ঘিরে থাকি। এমনকি কৈশোর-তারুণ্যও না। যৌবন আমার অনাকাংখিত সময়। 

আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই এই ইট-কাঠ-পাথরের জগতের বাইরে, 
ছেলেবেলার মাঠের ধূলোয়, বন্ধুর সাথে দুই টাকার আইস্ক্রিম খাবার অকৃত্রিম আবেগে।

……
২১/১২/২০১২

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

তথ্যের দূষণ

​এইতো অনেক কথা সামনে আমাদের। ফেসবুকে, পত্রিকায়, টিভি-ইউটিউবের ভিডিও কিংবা আরো কত কী! জীবন আমাদের জর্জরিত এখন তথ্যে। তথ্যের সন্ত্রাস, তথ্যের আবর্জনা, তথ্যের দূষণ। যদি কাল সকালে আর ঘুম না ভাঙ্গে, যদি উঠে দেখি পৃথিবীর জীবন শেষ, সামনে কেবল অ্যাকাউন্ট ক্লোজিং, ডেবিট-ক্রেডিটের হিসেব; কেমন হবে ব্যাপারটা? কখনো কি আপনার মাঝে মাঝে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে হাঁসফাঁস লাগে ফেলে আসা দিনটার শত-শত তথ্যদূষণের মাঝে আত্নাটাকে চুপচুপে করে ডুবিয়ে রাখার ‘আফটার ইফেক্ট’ সামলাতে? গান শুনে গুনগুন করে ওঠা মন আনমনে পরীক্ষার হলে, প্রার্থনায়, নামাযে কি ‘অটো’ গেয়ে ওঠে? এমন কাজ করে কি আদৌ শান্তি লাগে যে কাজ কেমনে হয়ে গেলো জানিনা? 

সভ্যতার বিষগ্রস্ততা শুধু ধোঁয়ায় নয়, ফর্মালিনে নয়, বিটি বেগুনে নয়, ঔষধ-পথ্যে দেয়া ভেজালে নয়। সভ্যতার বিষ আছে তথ্যে, বিলবোর্ডে, পেপারে, টিভিতে, ইন্টারনেটের সর্বত্রে। সারাদিন বেচে থাকা অন্যের জীবনে। অন্যদের কথা, অন্যদের কাজে, অন্যদের তৈরি করা নিয়মে, অন্যদের তৈরি করা সুখের ধারণায়। 

কী অদ্ভুত এক চক্রে আচ্ছন্ন জীবন আমাদের। হায়! যারা চলে যাচ্ছে, যারা চলে যাবো। কতটুকু অর্থবাচকতা থাকে জীবনে? প্রতিদিনের জীবনে কিংবা গোটা জীবনে? হিসেবের মানদন্ড ধর্ম হোক, আত্মার শান্তি হোক, যার-যা-ইচ্ছা তাতেই হোক। প্রশান্তিতে থাকে কয়টা হৃদয়?

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

নির্ঘুম 

​পরীক্ষার দিন শেষে রাতের বেলায় আমি ঘুমাতে পারিনা। বছরের পর বছর এর ব্যত্যয় নেই। যা ছিলো সবটুকু লিখে এসে সব ছেড়ে দিয়ে ভীষণ অবসাদ লাগে। শূণ্য শূণ্য লাগে যেন! প্রায় দেড় বছর ধরে দাতে দাত চেপে লেগে থাকা অনেক কঠিনই ছিলো! এই সময়ের আগের আমি আর পরের আমি অনেক আলাদা। আল্লাহর রহমত ছাড়া কিচ্ছু হয়না। নইলে কত আরাধ্য স্বপ্ন কিছুতেই পূর্ণ হয়না অনেকের, আবার অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়েও অনেক কিছু হয়ে যায়। 

দিনশেষে থাকে কিছু স্মৃতি আর আমাদের একান্ত আমরা।
১৯/১২/২০১৬, ০২:০২ মধ্যরাত্রি

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন