হয়ত অন্য কেউ

misty

এই তীব্র স্থিতির মাঝে গতিটাকেই কেমন বেখাপ্পা লাগে।
ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত?
আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের ছড়িয়ে থাকা কত!
তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয় না।

আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ বয়ে নেয় না।
ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই, আমি হেরে যাই।
এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন, বদলেছি দৃশ্যপট,
অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই অসহায় হয়ে? বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা, ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

নীল

onioto

তখন সন্ধ্যা নাকি বিকেল মনে নেই। আবছা আলো, স্মৃতির চাইতে বেশি ঘোর সঙ্গী। কোথাও কোন শব্দ হচ্ছিলো একটানা, যান্ত্রিক শব্দ। হুলুস্থূল চিৎকার, বেদনাহত মানুষের আহাজারি, রিকসার ক্রিং-ক্রিং বেলের শব্দ, একটা বাচ্চা ছেলের কন্ঠে মা-সংক্রান্ত খিস্তি, মোবাইলে বেজে যাওয়া অনবরত হিন্দি গান। বৃষ্টির শব্দও আছে, একটানা ঝরে যাওয়া। ঝরে যায় ক্রমাগত। এই পথের কোন ভবনের জানালায় কিশোরি পর্দা সরিয়ে তাকিয়ে আছে আনমনে এমনই পথে। দোকানে জ্বলে উঠেছে এনার্জি সেভিং ল্যাম্প।

এমন অনেক মূহুর্ত থাকে প্রতিদিনই। মানুষের মনের দৃশ্যগুলো অন্যরকম হয়ত। ঝরে যায় বৃষ্টি, ঝরে যায় অনুভূতি, ঝরে যায় স্মৃতি। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় অনেক তীব্র অনুভূতিরাও জাঁকিয়ে ওঠে, মাটির সোঁদা গন্ধে হয়ত মস্তিষ্কের ভিতরে অনাহূত যন্ত্রণা জেগে ওঠে। চোখের সামনের দৃশ্য ঝাপসা হয়ে ওঠে, ম্লান হয় বোধ, নিঃশ্বাস গাঢ়…
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

অনভ্যস্ত কথোপকথন


প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের স্বপ্ন
আমি কোথায় রেখেছি?
ওই স্বপ্ন রাখার জায়গা নেই আমার,
আমি মিশে যাওয়া লোক
আমি কখনো শব্দে মিশে যাই
কখনো মিশে যাই জনকোলাহলে
কখনও এই বাতাসের মাঝে

মিশলেও তা ক্ষণিকের জন্য,
তারপর টের পাই হারিয়ে যাওয়ার স্পর্শ
টের পাই আমার স্বত্ত্বা হারিয়ে যায়
আমি চলে যাই অরণ্যে
আমি চলে যাই অতলে
আমি থাকিনা কোথাও
আমি হারিয়ে যাওয়া একটা স্বত্বা
আমি নির্বিষ এক নিনাদ
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা | 4 টি মন্তব্য

এক অসাধারণ জীবনকথা যা জেনে রাখা উচিত


আমি আজ একটা লেখা শেয়ার করবো সবার সাথে। এই লেখাটি একটি বক্তব্যের লেখ্যরূপ যে বক্তব্যটি উপস্থাপিত হয়েছিলো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। বক্তব্যটি বেশ পুরোনো। তবে আমার জীবনে শোনা সবচাইতে মুগ্ধকর আর উৎসাহমূলক বক্তব্য। তাই সবার সাথে শেয়ার করে নিতে চাইছি। এই বক্তব্য দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। যিনি অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। বক্তব্য রেখেছিলেন ২০০৫ সালের ১২ জুন। লেখাটির ইংরেজি রূপ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া।

বক্তার জীবনের মতন এত রকম কঠিন সময়, কষ্টকর সময় আর বৈচিত্র্য আমাদের সবার জীবনে থাকেনা। কিন্তু আমাদের জীবনে থাকে অনেক রকম ঘাত-প্রতিঘাত আর সফলতার আকাঙ্ক্ষা। আর তাই সবারই এই লেখাটা পড়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, ভালো লাগবে আর অনুপ্রাণিত হবেন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি🙂

——–

প্রথমেই একটা সত্য কথা বলে নিই

আমি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করিনি। তাই সমাবর্তন জিনিসটাতেও আমার কখনো কোনো দিন উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এর চেয়ে বড় সত্য কথা হলো, আজকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছে থেকে দেখছি আমি। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কোনো কথার ফুলঝুরি নয় আজ, স্রেফ তিনটা গল্প বলব আমি তোমাদের। এর বাইরে কিছু নয়।

আমার প্রথম গল্পটি কিছু বিচ্ছিন্ন বিন্দুকে এক সুতায় বেঁধে ফেলার গল্প

steve-jobs-ceo-apple-next

স্টিভ জবস– অ্যাপেল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা

ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মাথাতেই রিড কলেজে পড়ালেখায় ক্ষ্যান্ত দিই আমি। যদিও এর পরও সেখানে আমি প্রায় দেড় বছর ছিলাম, কিন্তু সেটাকে পড়ালেখা নিয়ে থাকা বলে না। আচ্ছা, কেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লাম?

এর শুরু আসলে আমার জন্মেরও আগে। আমার আসল মা ছিলেন একজন অবিবাহিত তরুণী। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। আমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমাকে এমন কারও কাছে দত্তক দেবেন, যাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। সিদ্ধান্ত হলো এক আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রী আমাকে দত্তক নেবেন। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে দেখা গেল, ওই দম্পতির কারোরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেই, বিশেষ করে আইনজীবী ভদ্রলোক কখনো হাইস্কুলের গণ্ডিই পেরোতে পারেননি। আমার মা তো আর কাগজপত্রে সই করতে রাজি হন না। অনেক ঘটনার পর ওই দম্পতি প্রতিজ্ঞা করলেন, তাঁরা আমাকে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন, তখন মায়ের মন একটু গললো। তিনি কাগজে সই করে আমাকে তাঁদের হাতে তুলে দিলেন।
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in অনুবাদ | Tagged , , | 34 টি মন্তব্য

ভ্যালেন্তিনার ক্লান্তি

ভ্যালেন্তিনা ফেসবুকে লগিন করতেই নতুন হলো-মেসেজ এসেছে দেখতে পেলো। সকালে ঘুম থেকে উঠে নোটিফিকেশন চেক করতেই ফোনটা হাতে নিলো। হলো-মেসেজ ফেসবুকের নতুন অ্যাডিশন– হলোগ্রাফিক মেসেজ। ক্লিক করলে সেন্ডারের একটা হলোগ্রাফিক ইমেজ সামনে চলে আসবে। জীবন্ত মানুষটা সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলবে। ফেসবুক হেড ই.ও. আইয়োন তার টাইমলাইনে সেদিন অ্যানাউন্স করেছে এটা আগামীতে লাইভ কনভার্সেশনও হবে। নতুন অপারেটিং সিস্টেম ফালুদা৯২.৩ ইন্সটল করতে হবে এবং সাথে মেগাসেন্সর ডিভাইস ও কনভো জোন রাখতে হবে। কনভো জোনের মাঝে কথা বললে সেখানে অপরজনের একটা হলো ইমেজ আসবে, মনে হবে যেন সামনে/পাশে বসেই কেউ আড্ডা দিচ্ছে। আইয়োন জাকারবার্গ তার বাবা স্টিভেন আর দাদা মার্কের মতই সফলভাবে ফেসবুকের সিইওর দায়িত্ব পালন করছে। আইয়োন স্ট্যানফোর্ড থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে গ্র্যাজুয়েশন আর প্রিন্সটনে বিজনেস অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে পোস্টগ্র্যাড করে ফেসবুকের হাল ধরেছিলো। ভ্যালেন্তিনার কাছে বিষয়টা ভাল্লাগেনি। হিস্টরি পড়তে গিয়ে কয়েক সেঞ্চুরি আগের পৃথিবীর এসব ফ্যামিলিসেন্ট্রিক পাওয়ার অকুপেশনের ফলে তৈরি ডেস্ট্রাকশন পড়ে দেখেছে সে। টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির মাস ডেথের ঘটনাতেও এমন লিডার ছিলো পৃথিবীর অনেক জায়গায়। প্রায় ১০০ কোটি মানুষ মারা যায় মাত্র দুই বছরে। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ছিলোনা কোথাও। নিউক্লিয়ার ওয়েপনের কারণে আফ্রিকা আর এশিয়ায় পরের ৫০ বছরে মারা যায় আরো ৮০ কোটি মানুষ। আনমনে নতুন হলো-ম্যাসেজে ক্লিক করলো ভ্যালেন্তিনা, মূহুর্তেই সামনে হাজির হলো কুৎসিত ঝুটিবাধা চুলের একটা মানুষ, বলে উঠলো, “কি খবর ভ্যালেন্তিনা? ভুলে গেছো পানিতে ডুবে যেতে নিয়েছিলে সেকথা? আবার ডুবতে চাও?” আতঙ্কে ভ্যালেন্তিনা ফোনটা ছিটকে ফেলে দেয় হাত থেকে। যে স্মৃতি বারবার ভুলে যেতে চায়, সেটা বারবার মনে করিয়ে দেয় অনেকে। পানিতে ডুবতে নেয়ার দুঃসহ ভয়াবহ স্মৃতিটা কে খোঁচাচ্ছে ওকে? ক্লান্ত লাগে ওর। সকাল থেকে বাইরে রোদ নেই। অন্ধকার সব। জীবনটাকেও অন্ধকার লাগে ওর। আচ্ছা, নতুন মিলেনিয়াম শুরু হবার সময়ের মানুষদেরও কি ওর মতন অসহায় লাগতো? তখনো কি খারাপ লোকেরা এরকম ডেমোনিক-মেসেজ দিয়ে ভরিয়ে দিতো ইনবক্স? এখনকার মানুষ এত খারাপ কেন? ভ্যালেন্তিনার এই প্রশ্নটাই যে সহস্রাব্দ ধরে বিলিয়ন ট্রিলিয়ন মানুষ করেছিলো, তা সে জানতেও পারেনি, পারবেও না।

Posted in গল্প, পরাবাস্তব | মন্তব্য দিন

টাইম, ইউ ওল্ড জিপসি ম্যান

“টাইম, ইউ ওল্ড জিপসি ম্যান”। সুনীলের পূর্ব পশ্চিমের শেষ প্রান্তে এই বাক্যটা চোখে পড়েছিলো। প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের এই অদ্ভুত সন্তরণের উল্লেখ কি করেননি সুনীল? পৃথিবী কি এখন আরেকটা স্রোতে প্রবহমান নয়? ফাইন্ডিং নিমোর ‘ডরি’ কিংবা ‘গোল্ডফিশের মেমরি’ উল্লেখ করে আমরা মজা করি। সত্যিকারের মানুষ কি তার চেয়েও বেশি ফানি স্মৃতিশক্তির প্রমাণ দেয় না?

একটু চোখ বন্ধ করলেই মনে করতে পারবো কেমন করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লোকেরা এসে নবাব আলীবর্দী খান কিংবা শেষ স্বাধীন নবাব কিশোর বয়সের সিরাজের কাছে বিনীত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো রাজদরবারে। একটু ব্যবসা করতে চাওয়ার আশায়, নবাবের প্রীতিভাজন ও স্নেহভাজন হবার আশায় পর্তুগীজ, ডাচ, বৃটিশরা বর্তে যেত।

এখন আমরা আড়াইশো বছর পর রানী এলিজাবেথের প্রাসাদের সামনে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে সম্মানিত অনুভব করি। যে বৃটেন গোটা পৃথিবীর নব্বই শতাংশের বেশি জায়গা দখল করেছে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর নামে বৃটেনকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই জাতি আজ ‘অভিবাসী’ তথা ‘ভিনদেশী’ ঠেকাতে ‘ব্রেকজিট’ করে নিজেদের রক্তকে ‘এলিট’ ব্লাড হিসেবে উপস্থাপনা করতে তৎপর।

টাইম, ওল্ড জিপসি ম্যান। কয়েকটা শতাব্দী পেরুলেই সমাজের, জাতির যেন পরিক্রমা বদলে যায়। তারপরেও বেশিরভাগটাই আমরা নির্বিকার।

৩০/০৬/১৬

Posted in দেশ, যাপিত জীবন | মন্তব্য দিন

কনজুরিং

জানালায় হঠাৎ গাছের ডালের একটানা ঠকঠক শব্দ দেখে পর্দা সরিয়ে তাকাতেই রাতের আঁধারে সাদা পাখিটার অবয়ব উড়ে যেতে দেখলো সুমি। দূর থেকে একটানা সুর ভেসে এলো, “আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর”… মধ্যরাতে প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনেও খুশি হতে পারলো না সে। অনেক আশংকা আর ভীতি ওকে হঠাতই গ্রাস করে নিলো যেন। এই সাদা পাখিটার সাথে রাতে ওর প্রায়ই সাক্ষাত হয়। এত রাতে সাদা পাখি কোত্থেকে? গুগলে সার্চ দিয়ে পড়াশোনা করেছে। রাতের পাখি হতে পারতো প্যাঁচা, বাদুড়। কিন্তু সাদা পায়রার মতন এটা কী? এত রাতে পায়রা আসবে কেমন করে এই ঢাকা শহরে? পোষা পায়রাগুলো নিশ্চয়ই ঘরে ফিরে গেছে। সুমি জানতো, এই এলাকায় প্রায় ২০ বছর আগে পিন্টু ভাইয়েরা বাসার ছাদে পায়রা পালতো। কিন্তু একটানা মরে যাবার পরে আর কেউ এখানে পায়রা আনেনি। এগুলো হয়ত মনের কল্পনা। কল্পনাই অন্য কিছুর উপরে ভর করে ফোকাসটা নিয়ে এসেছে অবজেক্টগুলোর উপরে। মনের ভাবনার প্রজেকশন পড়েছে এসব ব্যাপারে। রবিঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আনন্দলোকে গানটাও হয়ত কোথাও বাজছে। এটা কি ইনট্যুশন? নাকি হরর? আজকাল সবাই কনজ্যুরিং নামের মুভি দেখছে। অথচ সুমির কাছে পৃথিবীর মানুষগুলোকে অনেক বেশি কনজুরিং লাগে। সেলিনা খালা যেমন, দেখা হলেই সবচেয়ে জঘন্য প্রশ্নগুলো করেন। তাকে দেখলে যে খারাপলাগা হয় তাতে মনে হয় অশরীরি প্রেতাত্মাকে দেখলেও এত ভয় করবে না।

ছাদে কেউ হেঁটে চলেছে খসখস শব্দে। সুমি বুঝছে এটাও মনের চিন্তার প্রজেকশন। আজকে ক্লাসে নতুন অ্যাসাইনমেন্টে ওকে গ্রুপ ছাড়াই দায়িত্ব দিয়েছে। সেটা চিন্তা করে টেনশন হচ্ছিলো খুব। সে কারণে একাকীত্বের একটা ভীতি থেকে গাইডেন্স নিতে রাজী হওয়া। কিন্তু উপরের শব্দটা ক্রমেই বাড়ছে। উপরে ঘষমষ শব্দ হচ্ছে। হয়ত সময় ফুরিয়ে এলো। কেমন অস্থির লাগছে। প্রতিদিন নানান আশংকায় এমন হচ্ছে হয়ত। জানেনা মেয়েটা কিচ্ছু। এভাবে আর কতদিন যাবে??

০৮/০৮/১৬

Posted in গল্প, পরাবাস্তব | মন্তব্য দিন

সমস্ত সকালই সুন্দর


ভোরের দুধরাঙ্গা আলো যখন জানালার ফাঁক দিয়ে, দরজার চিপা দিয়ে চুঁইয়ে পড়ে ঘরের ভেতর, তখন হয়ত ক্লান্ত-শ্রান্ত দেহের মানুষ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে দেখে। দেহ শুধু ক্লান্ত হয়? মনটাও নয় কি? ভোরের স্নিগ্ধ আলোতে বুকের মাঝে নতুন করে গড়ে তোলার স্পৃহাও জাগে। কিন্তু, অদ্ভুত এই নাগরিক জীবনে বেশিরভাগ মানুষ মধ্যরাতে ঘুমাতে যায়, দেহ ক্লান্ত-শ্রান্ত, মন নিরুদ্যম। আত্নাটা তখন চায় আলোর স্পর্শ, উচ্ছলতা, ভালোবাসা, কর্মোদ্যম। কিন্তু শরীর-মন ঠায় পড়ে থাকে হয়ত। শরীর, মন এবং আত্না — এই তিনটা সত্ত্বার উপস্থিতি হয়ত টের পাওয়া যায় একটা স্নিগ্ধ-সুন্দর সকালে। আসলে, সমস্ত সকালই সুন্দর। প্রতিটি সকালেই থাকে সুন্দর একটা জীবনের প্রেরণা।

Posted in যাপিত জীবন | মন্তব্য দিন

গহন রাতকে ধারালো দাঁতের মতন দেখা যায়

মাঝে মাঝে গহন রাতকে ধারালো দাঁতের মতন দেখা যায়। জেগে থাকা মানবসন্তানদের প্রতি তার কামড়ে রক্তাক্ত হয় সহস্র আয়োজন, নিরুদ্বিগ্ন স্বপ্ন আর ঝাঁঝালো আশংকা। দিনের পর দিন পড়ে থাকা ভয়ালো অক্টোপাসের মতন ঐ রক্তক্ষরণ এসে অগ্নুৎপাত ঘটায় সুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে। দুরভিসন্ধিগুলো প্লাজমার মতন ছেঁকে ধরে সমস্ত কূটকৌশলের সমুদ্রকে, জমে যায় অনন্ত নক্ষত্রবীথি, নীলাভ পর্দার বেড়াজালে। এদিক-ওদিক যতটা ইন্দ্রজালের মোহময়তা, সবই ক্ষণিকের অনুভূতিকে ভ্রম করে দেয়। নির্বিষ এককাপ রাতে কতটুকু নেশা ধরালে তা হবে বিষের পেয়ালা? অনর্থের মাঝে গভীর অর্থ থাকে, সেটুকুও অনুভূতির মঞ্চায়ণ।

Posted in পরাবাস্তব | মন্তব্য দিন

স্টেশনে


রাস্তাটাকে চোখ ভরে দেখিনি মাসের পর মাস অথচ তাতে হেঁটেছি প্রতিটি দিন। যখন দেখেছি, তখন চারপাশের মাঠ আর মাঝের পথটার দু’পাশের গাছের ওই দৃশ্যটাকে প্রাণপনে বুকে ধরে রাখতে গিয়েও পারিনি। সেই বয়ঃসন্ধিতেই টের পেয়েছিলাম পৃথিবীতে কিছু ধরে রাখা যায় না। তীব্র অনুভূতিগুলোও খুবই বায়বীয়। স্মৃতিরা আমাদের ঠিকই এসে জ্বালায়, নেশা ধরায়, অস্থির করে, উদ্বেলিত করে ঠিকই। কিন্তু সেটাও একটা বাতাসের ঝাপটার মতন, এসে ব্যাকুল করে চলে যায়। স্মৃতি কিংবা ভালোবাসা-ভালোলাগা কোনো বস্তুর মতন নয়, তাকে ধরে রাখা যায় না। ক্ষণিকের কিছু অদ্ভুত অনুরণন হলো স্মৃতি। ভালোলাগাও। কোনো ভালো সময় যেমন স্থায়ী হয়না, খারাপগুলোও। তাহলে কী থাকে জীবনে আমাদের? আমরা জানি না। অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমতে থাকে একেকটি দিন, একেকটি মাস। বেশি অভিজ্ঞতা হয়ে গেলে আবার পৃথিবী ছাড়ার ঘন্টা বাজতে থাকে। এটুকু জীবনের এসব উপলব্ধি সহ্য করার নিউরোন-সেল আমাদের নেই। আমরা অনুভূতি থেকে পালিয়ে বেড়াই, নানান রকম তত্ত্ব-তথ্য-উপাত্ত আর বায়বীয় ডগমাগুলো নিয়ে এসে কাল্পনিক ভিত্তি সাজিয়ে ক্ষণিকের প্রশান্তি আয়োজনের চেষ্টা করি। সে আশা পূরণ হয় কিনা, তা মানুষগুলো নিজ নিজ বুকের ভ্যাকুয়ামগুলোর দিকে খেয়াল করলেই টের পেতে পারে। জীবন এক অদ্ভুত ব্যাপার! মানুষগুলোর জন্ম আর মৃত্যুর দিকে তাকালে খুব বেশি অদ্ভুত লাগে। আমরা কি কোনো রেলস্টেশনে আছি? বড়ো কোনো স্টেশন? আসা আর যাওয়ার দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে অপেক্ষাই আমাদের নিশ্চয়তামাত্র!

| মন্তব্য দিন

লাইফ ইজ আ পেইন, ম্যান!

অকল্যান্ডের এইদিকটা অনেক সুন্দর। ক্রিস্টোফার সেটা জানে। জানলেই তো আর মন ভালো হয় না। আজকেও সকালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজে ওয়ার্ল্ডের ব্যাপারে পড়েছে সে। অ্যারাবরা নিজেরা মারামারি করে রক্তাক্ত করে ফেলেছে সব। গতকাল নাকি ইন্ডিয়ার পাশে একটা দেশে কতগুলো আইএস ছেলে হোস্টেজ করে অনেক মানুষ মেরে ফেলেছে। মুসলিম লোকগুলা এরকম করে কেনো বুঝেনা ক্রিস। আইএসের কথা শুনেছে সে। ওরা নাকি স্টেট দখল করবে। ইরাকে আর সিরিয়ায় এরা মারামারি করে প্রতিদিন। ওখানে মানুষ নাকি খেতে পায়না ঠিকমতন।

ক্রিসের এসব ভাবতে ভালো লাগেনা। তাসমান সাগরের পাড়ে সমুদ্রের ঢেউ এসে পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়া দেখতে ভালো লাগছে তার। এই নেফার্তিতি রিসোর্টটা খুব অ্যাট্রাক্টিভ টুরিস্টদের জন্য। ফ্রেন্ডদের সাথে বেড়াতে এসেছে সে, লাইফের পেইন থেকে একটু বাঁচতে। ক্রিসের জীবনটাতে শান্তি নেই। অনেক আনহ্যাপি সে। ব্রিয়ানা গতকাল বলেছে “আয়্যাম ফিলিং দ্যাট ইউ ফিল হেভি টু মাই হার্ট। আই ওয়ানা বি ফ্রি”… ক্রিস ফিল করে পৃথিবীর আনলাকিদের মধ্যে একজন। গতকাল বন্ধুদের সাথে অকল্যান্ডে এসেছে বেড়াতে। নতুন পোর্শেটা বাবা চালাতে দিয়েছে।

ওর ইচ্ছা ছিলো ব্রিয়ানাকে নিয়ে বেড়াবে, তাই বাবাকে অনেকভাবে ইমোশোনাল করে এটা পেয়েছে সে। অথচ এখন মেয়েটা নাই, তাই বন্ধুদের নিয়ে আসতে হয়েছে। ওর কাছে লাইফটা মিনিংলেস লাগে। বিরক্তির চোটে পাশে সাজিয়ে রাখা একটা পাথরের টুকরা নিয়ে তাসমান সাগরে ছুঁড়ে দিলো ক্রিস্টোফার। “ওহ মাই গড, পাওয়ারফুল থ্রো” — এমন মন্তব্য শুনে তাকিয়ে দেখে একটা ছেলে, এশিয়ান। এই এলাকায় অনেকজনকে গভমেন্ট সিটিজেনশিপ দিয়েছে রিসেন্টলি।

এরা অনেকেই মুসলিম। ক্রিসের মনে হলো, এরাও মনে হয় টেররিস্ট। সিডনিতেও এরকম নতুন সিটিজেন একজন হোস্টেজ বানিয়েছিলো অনেককে। ক্রিসের মনে হয়, এরা এশিয়া থেকে এখানে এসে কী চায়? টেরি বলছিলো এশিয়ানদের কাছে নাকি নিউজিল্যান্ড স্বপ্নের মতন, ওরা খুব চায় ইমিগ্রেট করতে। আশ্চর্য তো ওরা! হয়ত খুব গরীব ওরা। টেরিও জানে আসলে ওর কিচ্ছু ভালো লাগেনা।

ইউনিভার্সিটির ডর্মে ফিরে গেলে আবার অ্যাসাইনমেন্ট শুরু হবে। কেন এসব পড়ছে সে? গ্র্যাজুয়েশন হলে স্টেট গভমেন্ট তো ওকে এনএলএইচে জব দিবে। এবার ফ্রেজারটাউনে জিওলজিতে গ্রাজুয়েট কেউ নেই এত বড় কোম্পানিতে জব পাওয়ার মতন। ওদের অনেক ফ্যাসিলিটির কথা শুনেছে। তবে ওখানে আলাদা বাংলোতে থাকতে হয় অনেক স্মার্ট পেমেন্ট হলেও। বিরক্তিকর একটা ব্যাপার হবে! এদিকে ব্রিয়ানার মতন মেয়েটার সাথেও রিলেশন রাখতে পারলো না বেশিদিন সে, কিছুই তো পারেনা। মরে যেতে ইচ্ছা করে ক্রিসের। তাসমান সাগরের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস নেয় সে… মুখ দিয়ে আনমনে বলে ওঠে– “শিট! লাইফ ইজ আ পেইন, ম্যান!”

Posted in গল্প | মন্তব্য দিন