তার বিদায়ের পরে


প্রতিটি বুধবার রাতে এসেই খেয়াল হতে থাকে এমন একটা রাতেই বড় ভাইয়াকে আল্লাহ নিয়ে চলে গেলেন। দেখতে দেখতে চারটা সপ্তাহ চলে গেলো সেই ঘোরময় রাতটার পর। হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহটা দেখার পরে থম মেরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নিজেকে শেখালাম ভাইয়া আর কোনোদিন ফিরবে না, সেই সৌম্য গলায় আদর করে নামটা ডাকবে না। আল্লাহ মানুষটার বর্ণাঢ্য জীবনটাতে যতি এনে দিয়েছেন। আর ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা লাগবে না, অসভ্য জঞ্জালময় মানুষগুলোর সাথে লেনদেনের যন্ত্রণাও সইতে হবেনা। ভাইয়াকে আল্লাহ মুক্তি দিয়েছেন, ছুটি দিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন। অনন্যসাধারণ ইতিবাচক মানুষটাকে জগত সংসারের সবার হৃদয়ের সমস্ত জালগুলো ছিঁড়ে আল্লাহ নিজের কাছে নিয়ে চলে গেলেন। পেছনে তার প্রতি সন্তুষ্ট ও সদা প্রার্থনারত বাবা-মা, স্ত্রী-কন্যাদ্বয়, ভাইবোনদের বিশাল মানবগোষ্ঠী রেখে দিলেন।

তার বিদায়ের পরে যা কখনো ভাবিনি, তা ভাবতে-দেখতে-করতে হয়েছে। আমার পৃথিবীতে আগমনে যে চারপাশের সবাইকে আনন্দে আলোড়ন জাগিয়েছিলো, তার নিস্প্রাণ দেহটা কাঁধে বেয়ে মাটির নিচে রেখে তাকে বিদায় দিতে হলো আমাকে! যে ভাইয়া আমার অস্ত্বিত্বের সাথে জড়িয়ে ছিলেন, যার কাছে আমার জীবনটা আকুন্ঠভাবে ঋণী, সে তো দিব্যি চলে গেলো। আর অনুভূতি আর উপলব্ধির চলমান জ্বালা– সে তো বেঁচে থাকা মানুষদের জন্য! ছোট হয়ে বড়দের কাছ থেকে নিয়েই গিয়েছি, ফেরতটুকু দেবার আর্তি ছিলো বুকে, সুযোগটুকু আল্লাহ দিলেন না। ভাইয়া চলে যাবার পরে বুঝতে পেরেছি, জগত সংসারে ‘ছোট’ হবার একটা আনন্দ আছে। ‘প্রিয়জনেরা শাসন করুক আমাকে’ এমন তৃষ্ণা নিয়ে নিশ্চয়ই আরো অনেক মানুষ ছুটে চলে এই মাটির উপরে…

প্রতিদিনই তো অনেক মানুষ চলে যায় পৃথিবী ছেড়ে। এই মৃত্যুর মিছিলের সবাইই পেছনে ফেলে যায় অদ্ভুত অতীত। সবটুকুই তো রেখে যাওয়া। কেবল শরীরটা মাটির নিচে। কী অদ্ভুত আমাদের বেঁচে থাকার মোহগ্রস্ততা! তবে, কেবল নিজের ভাই বলে নয়, আমি জানি আমদের পরিবারের সবার বড় ভাইটি অনন্যসাধারণ ছিলেন, অযুত-নিযুত মানুষের মাঝে এত মহান হৃদয় খুঁজে পাওয়া যায় না সহজে। দৃপ্ত আত্নবিশ্বাসে ভাইয়া তার মালিকের সাথে মিলিত হবার আশাবাদী গল্প অবলীলায় বলতেন বেঁচে থাকা জীবনেই। নানাবিধ উত্থান-পতন, অসুস্থতা ও ঘাত-প্রতিঘাতের জীবনটাতে আল্লাহ যাকে জনমভর পরীক্ষা নিয়েছেন, প্রার্থনা করি মাটির নিচের ছোট্ট ঘরখানিকে আল্লাহ যেন জান্নাতের টুকরা বানিয়ে দেন। আল্লাহ যেন তার প্রতি জীবনের কঠিন সময়গুলোতেও বিশ্বস্ত থাকা, পরোপকারী, ভালোবাসাময় রহমদীল মানুষটার ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দেন।

২৩/০২/২০১৭

Advertisements
Posted in স্মৃতিকথা | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

হয়ত অন্য কেউ

misty

এই তীব্র স্থিতির মাঝে গতিটাকেই কেমন বেখাপ্পা লাগে।
ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত?
আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের ছড়িয়ে থাকা কত!
তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয় না।

আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ বয়ে নেয় না।
ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই, আমি হেরে যাই।
এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন, বদলেছি দৃশ্যপট,
অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই অসহায় হয়ে? বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা, ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

নীল


তখন সন্ধ্যা নাকি বিকেল মনে নেই। আবছা আলো, স্মৃতির চাইতে বেশি ঘোর সঙ্গী। কোথাও কোন শব্দ হচ্ছিলো একটানা, যান্ত্রিক শব্দ। হুলুস্থূল চিৎকার, বেদনাহত মানুষের আহাজারি, রিকসার ক্রিং-ক্রিং বেলের শব্দ, একটা বাচ্চা ছেলের কন্ঠে মা-সংক্রান্ত খিস্তি, মোবাইলে বেজে যাওয়া অনবরত হিন্দি গান। বৃষ্টির শব্দও আছে, একটানা ঝরে যাওয়া। ঝরে যায় ক্রমাগত। এই পথের কোন ভবনের জানালায় কিশোরি পর্দা সরিয়ে তাকিয়ে আছে আনমনে এমনই পথে। দোকানে জ্বলে উঠেছে এনার্জি সেভিং ল্যাম্প।

এমন অনেক মূহুর্ত থাকে প্রতিদিনই। মানুষের মনের দৃশ্যগুলো অন্যরকম হয়ত। ঝরে যায় বৃষ্টি, ঝরে যায় অনুভূতি, ঝরে যায় স্মৃতি। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় অনেক তীব্র অনুভূতিরাও জাঁকিয়ে ওঠে, মাটির সোঁদা গন্ধে হয়ত মস্তিষ্কের ভিতরে অনাহূত যন্ত্রণা জেগে ওঠে। চোখের সামনের দৃশ্য ঝাপসা হয়ে ওঠে, ম্লান হয় বোধ, নিঃশ্বাস গাঢ়…
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

অনভ্যস্ত কথোপকথন


প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের স্বপ্ন
আমি কোথায় রেখেছি?
ওই স্বপ্ন রাখার জায়গা নেই আমার,
আমি মিশে যাওয়া লোক
আমি কখনো শব্দে মিশে যাই
কখনো মিশে যাই জনকোলাহলে
কখনও এই বাতাসের মাঝে

মিশলেও তা ক্ষণিকের জন্য,
তারপর টের পাই হারিয়ে যাওয়ার স্পর্শ
টের পাই আমার স্বত্ত্বা হারিয়ে যায়
আমি চলে যাই অরণ্যে
আমি চলে যাই অতলে
আমি থাকিনা কোথাও
আমি হারিয়ে যাওয়া একটা স্বত্বা
আমি নির্বিষ এক নিনাদ
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা | 4 টি মন্তব্য

এক অসাধারণ জীবনকথা যা জেনে রাখা উচিত


আমি আজ একটা লেখা শেয়ার করবো সবার সাথে। এই লেখাটি একটি বক্তব্যের লেখ্যরূপ যে বক্তব্যটি উপস্থাপিত হয়েছিলো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। বক্তব্যটি বেশ পুরোনো। তবে আমার জীবনে শোনা সবচাইতে মুগ্ধকর আর উৎসাহমূলক বক্তব্য। তাই সবার সাথে শেয়ার করে নিতে চাইছি। এই বক্তব্য দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। যিনি অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। বক্তব্য রেখেছিলেন ২০০৫ সালের ১২ জুন। লেখাটির ইংরেজি রূপ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া।

বক্তার জীবনের মতন এত রকম কঠিন সময়, কষ্টকর সময় আর বৈচিত্র্য আমাদের সবার জীবনে থাকেনা। কিন্তু আমাদের জীবনে থাকে অনেক রকম ঘাত-প্রতিঘাত আর সফলতার আকাঙ্ক্ষা। আর তাই সবারই এই লেখাটা পড়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, ভালো লাগবে আর অনুপ্রাণিত হবেন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি 🙂

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in অনুবাদ | Tagged , , | 34 টি মন্তব্য

আলোর ওপরে আলো আসে

আলোর ওপরেই আলো আসে। চুম্বক টানে চুম্বকের টান যে নিতে চায় তাকে। মাটির নিচ ভেদ করে নির্নিমেষ আকুতি নিয়ে অংকুরোদগম হয় বীজের, আলোর টানে। যে যাকে খুঁজে পেতে চায়, খুঁজে নেয় পরম আকুতিতে। কেউ যখন কিছু পেতে চায় ভীষণ আর্তিতে, তাকে সে খুঁজে নেয় কষ্ট যতই হোক। নরম বীজ যেমন মাটির শক্ত বাঁধাকে পেরিয়ে তবেই আলোর পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে, সৃষ্টির সর্বত্রই এই আকর্ষণ ছড়িয়ে।

একজন মানুষ হাজারো কথার এক সত্ত্বা, তার মাঝে আমরা খুঁজে নিই আপনায়। কারো কথায় যতটা না তার বলা অর্থ, নিজের মনমতন তাকে গড়ে নিই আমরা পুরোটায়। ধ্বনি তো প্রতিধ্বনিকে জন্ম দেয়। প্রতিবিম্ব তো বিম্বকেই ফিরিয়ে দেয়। আমাদের নিজেদেরকে আমরা খুঁজে পাই অন্যের মাঝে। আমাদের চিন্তাকে দেখতে পাই অপরের কাজে। যা বুঝিনা, তা দেখিনা। যা খুঁজে কেবল তাকেই দেখি।

আপনারে মোরা খুঁজিয়া বেড়াই সর্বত্রে…

Posted in ব্লগর ব্লগর | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

নিঃসঙ্গ একা তুমি, ক্লান্ত জীর্ণ তুমি

“নিঃসঙ্গ একা তুমি, ক্লান্ত জীর্ণ তুমি… অন্ধ দেয়াল জুড়ে দুঃস্বপ্ন আছড়ে পড়ে…”

প্রায় ১০ বছর পর গানটার কথা মনে পড়লো। তীব্র স্মৃতি। এই গানটা ফজলুল হক হলে খুব বাজতো। বেশি বাজতো সম্ভবত ১০৩ নাম্বার রুমে। একটা রুম পরেই থাকতাম আমি। অর্ক ছিলো শিরোনামহীনের পাগলা ফ্যান। সারাদিন বাজাতো এই গানগুলো। আগের কতগুলা বছরের খুব স্পিডি লাইফ শেষে তেলিগাতির স্লথ জীবনে আমি কিছুতেই মেলাতে পারতাম না। এলোমেলো লাগতো। এদিকে প্রোগ্রামিং ল্যাব, ওদিকে বেসিক ইলেকট্রিক্যাল ছাড়িয়ে ইলেকট্রনিক্সের থিওরি, ল্যাব। আগামাথা ঠাওর করতে পারিনা। ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশন, অ্যাবারেশন, সারফেস, লিজেন্ডার পলিনোমিয়াল, পার্শিয়াল ডিফারেনশিয়াল… সব বিবর্ণ লাগতো… সন্ধ্যার দিকে আমার ভীষণ কষ্ট হতো। নিঃশ্বাস আটকে আসার মতন। পড়াগুলো ভালোও লাগে না, ছাড়তেও পারিনা। খাঁচার পাখিদের কেমন লাগে জানিনা, তখন আমার হয়রান লাগত। বুঝতাম যে আমি খুব ভালো কিছু করতে পারবো না; আবার হেরে যে যাবো সেটাও রাজি হতাম না ভেতর থেকে। মিডিওকার লাইফে নিজেকে মানিয়ে নেয়া ছিলো ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ ফিলোসফির প্রথম ধাপ। ওখানেই আমার জীবনের একটা বিশেষ অপমৃত্যু হয়েছিলো। এই জটিলতায় অস্থির হয়ে আমি কেমন বেচেইন থাকতাম। অন্যরকম। হয়ত আশেপাশের বন্ধুগুলাও বুঝতো, পাশেও থাকতো — কিন্তু কখনই খোঁচায়নি। আমি তখন থেকে অদ্যাবধি ওদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞতা থেকেও বোধহয় ভালোবাসা তৈরি হয়? এই গানটার কথাগুলো আমার যে কী ভীষণ আপন আপন লাগতো! এখন বুঝি, নিজে যখন পারছিলাম না, তখন আমার দরকার ছিলো দুইগালে জোরে দুই থাপ্পড়, একজন মেন্টর, একটু ভালোবাসা, কিছু মোটিভেশন। হয়নি… যা হবার তাই হয়েছে…

দীর্ঘশ্বাস তোমার রুক্ষ দেয়াল ছুঁয়ে
বিবর্ণ রাত্রি কাটে বিমূর্ত সময়
প্রার্থনা তোমার হারিয়ে যায় অন্ধকারে
স্তব্ধ এই বদ্ধঘরে অস্পষ্ট স্বরে
পারবে কি ভেঙে দিতে এই দেয়াল?
পারবে কি ছেড়ে যেতে এই বাঁধন?
ধূলোমাখা জানালার আলো ছাড়িয়ে
পারবে কি ফিরে যেতে আবার?

Posted in স্মৃতিকথা | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

বিবশ

রেমার্কের থ্রি কমরেডসের কথা মনে হচ্ছিলো। রবার্ট, গোটফ্রীড আর ওটোদের জীবন কেমন অদ্ভুত লেগেছিলো। প্রথমে ভালো লাগেনি প্যাট্রিসিয়া হফম্যানের অমন জীবনটার সাথে রবার্টের অমনভাবে জড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু বারবার মনে হচ্ছিলো, অমন বিধ্বস্ত পৃথিবীতে যে অর্থ খুঁজে পেয়েছিলো প্যাট কিংবা রবার্ট, তা হয়ত পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ পায় না, পায়নি। স্যানাটেরিয়ামে প্যাটের মূহুর্তগুলো অনেক অনেক বছর পর আমাকে বইপাঠপূর্বক অশ্রুসিক্ত করেছিলো। শুধুই কি কল্পনা? শুধুই কি মানুষের নিশ্চিত চলে যাওয়া, ভালোবাসার আর্তি আর শারীরিক ক্ষয়ের কাছে অসহায় নিশ্চুপ আত্মসমর্পণের ব্যাপারই ছিলো ওটা? মানুষের মাঝে হয়ত আরো বেশি কিছু থাকে, আরো অনেক গভীর কিছু বোধ থাকে। সম্ভবত সেগুলো এড়িয়েই বেঁচে থাকি আমরা।

বইটা পড়ার পর অমন অসাধারণ লাগেনি। আজ অনেকদিন পর, অনেক বছর পর মনে হলো রেমার্ক দারুণ লিখেছিলেন। আমাদের জীবনগুলোর অনুভূতিমালার প্রগাঢ় প্রবাহই ছুটে গিয়েছিলো তার লেখনীতে। আমার কেন যেন মনে হয়, প্যাটের স্যানাটেরিয়ামের সামনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে আমি বসে আছি। বিবশ হয়ে যাওয়া, নিথর হয়ে যাওয়া প্যাট্রিসিয়া হফম্যান আর রবার্টকে দেখতে পাচ্ছি, অনুভব করতে পারছি একেকটা গোটা জীবনের ওই মূহুর্তের অদ্ভুত জীবন। সম্ভবত এরিক মারিয়া রেমার্কের কষ্টগুলোও টের পাচ্ছি, টের পাচ্ছি সেই দৃশ্যপট, অনুসঙ্গ আর উপমার নান্দনিক উপস্থাপনের পেছনে কত ভীষণ জ্বালা মিশে ছিলো। প্রতিটা সৃষ্টিই বুঝি অমন জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে হয়?

২২/০৭/১৭

Posted in পরাবাস্তব | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

নুন না থাকলে

নুন না থাকলে তরকারী মুখ দিয়েই যেন ঢুকেনা। নুন বেশি হলেও তাই। মিষ্টি একদম না হলে চা খাওয়াও শক্ত, বেশি চিনিতে তৈরি হয় হাজারটা সমস্যা। ঘুম কম হলে, বিছানায় পিঠ না ঠেকালে ঠিক সুস্থ থাকা যায়না, কর্মক্ষমতা আসে না। বেশি শুয়ে থাকলে বেড সোর হয়।

মানুষের ভালোবাসা পেতে, দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যারা কাঙাল হয়ে থাকে; কেউ বেশি খোঁজ নিলে, সবসময় লেগে থাকলে নাভিশ্বাস ওঠে, পালিয়ে বাঁচতে চায় তখন।

অবিমিশ্র সুখে সুখের আনন্দ নেই। ঢেউয়ের মতন উথাল পাথাল হয়ে দুঃখ থাকে বলেই সুখের এত দাম। কাজের যন্ত্রণা আছে বলেই অবসরের আনন্দ। তিক্ততা আছে বলেই ভালোবাসাকে মনে হয় এত সুন্দর!

আঁকড়ে ধরা আর ছেড়ে দেবার ভারসাম্যই জীবন। উত্তর মেরু কিংবা দক্ষিন মেরুতে থেকে শান্তি নেই, সবাই পালিয়ে এসে তাই মাঝে বসবাস করে।

২২/০৭/১৭

Posted in ব্লগর ব্লগর, যাপিত জীবন | ১ টি মন্তব্য

ইন দি এন্ড

ক্লাস শেষে ফজলুল হক হলে ফিরে আসলে কেমন যেন লাগতো। মনে হতো অনেক দূর থেকে হেঁটে আসতেছি আমি, ক্লান্ত-বিধ্বস্ত। ক্লান্তির চেয়ে শ্রান্তিই বেশি। কিছুটা নির্বিকারতা, কিছুটা নিরাসক্তির নির্যাস। অথচ হয়ত তিন-চার ঘণ্টা ক্লাস করেছি, কম্পিউটেশন নিয়ে, রিকারশন আর রেফারেন্সের উদ্বায়ী আলাপগুলো শুনেছি। এত চাইতাম, এত ফ্রেশ হয়ে, মুখ ধুয়ে, ওযু করে ক্লাসে গিয়েও মাসুদ স্যারের বিশুদ্ধ ক্লাসগুলোকেও কেমন যেন সুমেরীয় বা ইনকা সভ্যতার আলাপ মনে হতো… নিজের কাছে নিজে অযোগ্য হতে থাকা প্রতিদিন, নিজের কাছে ছোট হতে হতে একসময় যেন মিশে যাওয়া হতো ধুলোয়, বাতাসে, দেয়ালের সাথে…

হলে ফিরে রুমের দরজায় পা দিতে দিতে রহমান-শোভনদের রুম থেকে ভেসে আসা ‘এভরি স্টেপ দ্যাট আই টেক ইজ অ্যানাদার মিস্টেক টু ইউ… অ্যান্ড এভ্রি সেকেন্ড আই ওয়েস্ট ইজ মোর দ্যান আই ক্যান টেক’ শুনে শিউরে উঠতাম। লিরিক এত নিপুণ কেমন করে হয়? হয়ত ওদের রুমে একটা কোণায় বসে বুঁদ হয়ে লিংকিন পার্কের ‘ইন দি এন্ড’, ‘নাম্ব’ কিংবা ‘সামহোয়্যার আই বিলং’ শুনতাম; শুনতেই থাকতাম, একটানা অনেকক্ষণ। শুনতে শুনতে একসময় মনে হত অন্য কোথাও হয়ত আছি, অন্য কোনো বাস্তবতায়… চেনা মানুষদের জগতের বাইরে, হিসেব-নিকেশের, জবাবদিহিতার অদ্ভুত জগত থেকে দূরে, কোনো পাহাড়ের পাদদেশে, কোনো নদীর ধারে, মেঘলা আকাশ, কাজহীন, তাগিদহীন অদ্ভুত দুপুরের মতন কোনো একটা সময়…

এই তীক্ষ্ণ, তীব্র, বিধ্বংসী ইন্সট্রুমেন্টালের মাঝে স্নিগ্ধ, শক্তিশালী সুরের হঠাৎ হঠাৎ চিৎকার যেন আমার, আমাদের বুকের হাহাকার উগরে দিতো। হাজার-হাজার ছেলেদের এরকম হাজার হাজার মূহুর্ত পেরিয়ে ইঞ্জিনিয়ার ‘সার্টিফিকেট’ নেওয়ার ক্ষণটি এসেছিলো। কী ভীষণ অদ্ভুত এই জীবন… কী ভীষণ বিচিত্র চেস্টার বেনিংটনদের পৃথিবী থেকেই বিদায় নেওয়া। কত মানুষের অসহায় অনুভূতিদের অনুরণন ওদের সৃষ্ট সুর-কথা-শব্দমালায়…

সময় বদলে যায়। এক সময়ের অনুভূতি আরেক সময়ে থাকেই না। এক সময়ের মানুষ আরেক সময়ে থাকে না। কেউ কোথাও স্থায়ী না। অনুভূতি-আবেগও না। ঘৃণা-ভালোবাসাও না। আমাদের কোনো অ্যাটাচমেন্টই চিরস্থায়ী না, দীর্ঘস্থায়ীও না…

২১/০৭/১৭

Posted in স্মৃতিকথা | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

ভ্যাঙ্কুভারের কলিংউড স্ট্রিট

ভ্যাঙ্কুভারের কলিংউড স্ট্রিট দিয়ে হাঁটছিলো আসিফ। হঠাৎ বামে তাকায়, ছাইরঙ্গা বাড়িগুলোর চারপাশটা কী ভীষণ পরিচ্ছন্ন! বাড়িগুলোর ছাদ গ্রামের বাড়ির টালিদেওয়া ছাদগুলোর মতন হলেও এত নিপুণ নির্মানশৈলী! পথগুলো ছিমছাম, টিপটপ। ছবির মতন সুন্দর উপমা বোধহয় এরকম কিছুকেই বলে! আচানক মন খারাপ লাগে আসিফের। একটা সুন্দর দেখে তার মন খারাপ হওয়ায় আরো বেশি খারাপ লাগে। ঢাকায় ওদের বাসাটার কথা মনে পড়ে গেলো। পুরোনো একটা টিনের বাসায় থাকতে হতো, বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করত। মা আশেপাশের বাসায় গিয়ে কাজ করতো। চারটা ভাই ওরা। একটা ঘরে থাকতো। টিনের পার্টিশনের পাশের ঘরটাতে আব্বা-আম্মা থাকতো। আব্বা-আম্মার জীবন ছিলো ওদের নিয়ে। অল্প কিছুতেই ক্ষেপে যেত আব্বা। আসিফের খুব খারাপ লাগতো। আম্মার জীবন, আব্বার জীবন দেখে ওর অসহায় লাগতো। তাদের জীবনের পুরোটাই ঠেকে বেঁচে থাকা। অথচ মানুষ তো কত কিছু করে! ওদের জীবনে কি সেগুলো আসবে কখনো? মেঝে স্যাঁতসেঁতে, দরজার সামনে কমন স্পেস, ওখানে কাদা থাকতো বারো মাস। সামনের ঘরের রহিমা বেগম রান্নার পানিটা ওইখানেই ফেলতো। শতবার অনুরোধ করেও তারে বদলানো যায় নাই। এই বাড়ির সব পুরুষ রিকসা চালায়, অথবা মিস্ত্রির কাজ করে। রহিমা খালার খুব জেদ, লোকে বলতো সে নোয়াখালির বলে নাকি ওরকম। অনুরোধে তার কোন বিকার নাই। ওদের ঘরটায় বৃষ্টি হলে ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়তো, ঘরে পানি জমে যেতো। সেদিন সারাদিন সারারাত বৃষ্টির পর বাসার সামনের রাস্তায় ড্রেন উপচে পানি ঘরে ঢুকে গেলো।

আসিফ হঠাৎ দৌড়াতে শুরু করলো। বাটার নর্থ স্টারের নেভি ব্লু কেডস পরে এই পথে দৌড়াতে গিয়ে গোড়ালিতে ঝনঝন টাইপ অনুভূতি হচ্ছে। একটা নাইকি জুতার অনেক স্বপ্ন ছিলো আসিফের। ঐটা পায়ে দিলে নাকি ভাঙ্গা রাস্তাও মাখনের মতন লাগে। ওয়েস্টিন বে-শোরে এসে সমুদ্রপাড়ে অজস্র স্পিডবোড দেখতে পেলো। বসার মতন কিছু নেই, পথে সমুদ্রতীরের এপারে রেলিং-এ হেলান দিয়ে বসে ঝিমাতে শুরু করে। ঘোর ভেঙ্গে দেখে একটা জাহাজ নেমেছে। একদল লোক বন্দুক হাতে গুলি করছে কিছু সাদামাটা পোশাকের লোকদের। সে জানে এরা হচ্ছে ‘স্ক্যামিশ’। কেমন করে জানে তা মনে করতে পারলো না। ১৫৭৯ সালের এরকম একটা ঘটনা সে শুনেছিলো মনে হচ্ছে। কিন্তু ক্যামনে কী! সে হেলান দিয়ে আছে গাছের গুড়িতে। ব্রিটিশ জাহাজ এসেছে এখানে লোক নিয়ে। এরা এখানে একদল লোক রেখে ওরা চলে যাবে। আসিফ কেমন করে যেন জানে যে স্ক্যামিশরা সব মরে যাবে, এই লোকেরা এখানে আধিপত্য করবে। বুক ধরফর করে উঠলে তার, বুঝলো এখন পালাতে হবে। সে লাফ দিয়ে পানিতে ডুব দেয়। উঠে দেখে চেনা-পরিচিত চেহারা কতগুলো। গলা পর্যন্ত পানি তার, নিচে কেমন ঢালাই করা সমতল। বুঝতে পারছে পানি জমে থাকা পথে সে উঠেছে। মাথার উপরে পলিথিন একটা, কাঁঠালের কোয়া আর আমের খোসা মিলে পলিথিনটা অসহ্য। সাইনবোর্ডে চোখ দিয়ে দেখা যাচ্ছে কালশী, ঢাকা। আসিফ হর্নের শব্দ পেয়ে তাকিয়ে দেখে একটা বাস হড়হড় করে এগিয়ে আসছে, বিকট হর্ন; চাকা ঘুরছে আর পানির ঢেউ উঠছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জ্ঞান হারালো সে।

১৪/০৭/১৭

Posted in পরাবাস্তব | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

আপনারে আমরা খুঁজিয়া বেড়াই অন্যের মাঝারে

বেশি কথা দিয়ে অনেক ‘জনমত’ গড়ার জন্য যেসব লেখা, সেসব পড়ে কেমন জানি লাগে। আসলে, যার বোঝার সে অল্পতেই বোঝে, যে বুঝেনা তাকে সমস্ত পৃথিবীর কথা বলেও বোঝানো যায় না।

কথায় পৃথিবী বদলায় না। মানুষগুলো কেবল তার ফ্রেমে অন্যকে দেখে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় না খুব বেশি মানুষ, তাই জীবনগুলোও অমনই থাকে। সবাই জানে মিথ্যে বলা খারাপ, মিথ্যা সকল পাপের জননী। তবু লোকে মিথ্যা বলা কমায় না। সবাই জানে খাবারে নানাবিধ বিষ দেওয়া ক্ষতিকর। বন্ধ করেনা এ কাজ কেউ; এদিকে ক্যান্সারে, হার্টের-কিডনির অসুখে ভরপুর বাংলাদেশ।

অনেক কথার মাঝে সবাই নিজেরটা খোঁজে। নিজের চোখ দিয়ে নিজের মতন বোঝে। বাক্সের বাইরে কেউ যেতে চায়না, সত্যিকারের পরিবর্তন চায়না কেউ।

আপনারে আমরা খুঁজিয়া বেড়াই অন্যের মাঝারে…

০৪/০৭/১৭

Posted in ব্লগর ব্লগর | এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান