হয়ত অন্য কেউ

misty

এই তীব্র স্থিতির মাঝে গতিটাকেই কেমন বেখাপ্পা লাগে।
ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত?
আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের ছড়িয়ে থাকা কত!
তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয় না।

আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ বয়ে নেয় না।
ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই, আমি হেরে যাই।
এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন, বদলেছি দৃশ্যপট,
অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই অসহায় হয়ে? বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা, ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

নীল


তখন সন্ধ্যা নাকি বিকেল মনে নেই। আবছা আলো, স্মৃতির চাইতে বেশি ঘোর সঙ্গী। কোথাও কোন শব্দ হচ্ছিলো একটানা, যান্ত্রিক শব্দ। হুলুস্থূল চিৎকার, বেদনাহত মানুষের আহাজারি, রিকসার ক্রিং-ক্রিং বেলের শব্দ, একটা বাচ্চা ছেলের কন্ঠে মা-সংক্রান্ত খিস্তি, মোবাইলে বেজে যাওয়া অনবরত হিন্দি গান। বৃষ্টির শব্দও আছে, একটানা ঝরে যাওয়া। ঝরে যায় ক্রমাগত। এই পথের কোন ভবনের জানালায় কিশোরি পর্দা সরিয়ে তাকিয়ে আছে আনমনে এমনই পথে। দোকানে জ্বলে উঠেছে এনার্জি সেভিং ল্যাম্প।

এমন অনেক মূহুর্ত থাকে প্রতিদিনই। মানুষের মনের দৃশ্যগুলো অন্যরকম হয়ত। ঝরে যায় বৃষ্টি, ঝরে যায় অনুভূতি, ঝরে যায় স্মৃতি। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় অনেক তীব্র অনুভূতিরাও জাঁকিয়ে ওঠে, মাটির সোঁদা গন্ধে হয়ত মস্তিষ্কের ভিতরে অনাহূত যন্ত্রণা জেগে ওঠে। চোখের সামনের দৃশ্য ঝাপসা হয়ে ওঠে, ম্লান হয় বোধ, নিঃশ্বাস গাঢ়…
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

অনভ্যস্ত কথোপকথন


প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের স্বপ্ন
আমি কোথায় রেখেছি?
ওই স্বপ্ন রাখার জায়গা নেই আমার,
আমি মিশে যাওয়া লোক
আমি কখনো শব্দে মিশে যাই
কখনো মিশে যাই জনকোলাহলে
কখনও এই বাতাসের মাঝে

মিশলেও তা ক্ষণিকের জন্য,
তারপর টের পাই হারিয়ে যাওয়ার স্পর্শ
টের পাই আমার স্বত্ত্বা হারিয়ে যায়
আমি চলে যাই অরণ্যে
আমি চলে যাই অতলে
আমি থাকিনা কোথাও
আমি হারিয়ে যাওয়া একটা স্বত্বা
আমি নির্বিষ এক নিনাদ
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা | 4 টি মন্তব্য

এক অসাধারণ জীবনকথা যা জেনে রাখা উচিত


আমি আজ একটা লেখা শেয়ার করবো সবার সাথে। এই লেখাটি একটি বক্তব্যের লেখ্যরূপ যে বক্তব্যটি উপস্থাপিত হয়েছিলো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। বক্তব্যটি বেশ পুরোনো। তবে আমার জীবনে শোনা সবচাইতে মুগ্ধকর আর উৎসাহমূলক বক্তব্য। তাই সবার সাথে শেয়ার করে নিতে চাইছি। এই বক্তব্য দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। যিনি অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। বক্তব্য রেখেছিলেন ২০০৫ সালের ১২ জুন। লেখাটির ইংরেজি রূপ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া।

বক্তার জীবনের মতন এত রকম কঠিন সময়, কষ্টকর সময় আর বৈচিত্র্য আমাদের সবার জীবনে থাকেনা। কিন্তু আমাদের জীবনে থাকে অনেক রকম ঘাত-প্রতিঘাত আর সফলতার আকাঙ্ক্ষা। আর তাই সবারই এই লেখাটা পড়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, ভালো লাগবে আর অনুপ্রাণিত হবেন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি 🙂

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in অনুবাদ | Tagged , , | 34 টি মন্তব্য

শীত শীত সন্ধ্যা মনে হয় বেশি নেশাধরা

​শীতের সন্ধ্যার চেয়ে শীত শীত সন্ধ্যা মনে হয় বেশি নেশাধরা। হালকা বাতাস হয়ত ফাল্গুনের কথাই মনে করিয়ে দেয়, কখনো কখনো পৌষের সন্ধ্যাও খুব খারাপ না। কখনো কখনো স্মৃতিগুলো বিস্মৃতি হতে হতে স্মৃতিই খুঁজে পাওয়া যায় না। ফাল্গুনের সন্ধ্যার ভালোলাগা তবু মনে করিয়ে দেয় অনুভূতির কথা। শীতের সন্ধ্যায় আবার উদাস দুপুরের কথা মনে পড়ে যায়। তখন মনে হয় সে-ই বুঝি ভালো ছিলো। স্মৃতিরা জাবর কাটার মতন। এমন তো হতে পারতো যখন হয়ত শীতের সন্ধ্যা থেকে একটা টানেলের ভেতর দিয়ে ছেলেবেলার তপ্ত দুপুরে ফিরে যাওয়া যেতো। হয়ত সোঁদাগন্ধ ভরে থাকা এক বৃষ্টিস্নাত বিকেলে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলার নামে মাঠে দৌড়ানো যেত। হয়ত ভুলে থাকা যেত খেলার মাঠের সঙ্গীদের বেশিরভাগই জীবনযুদ্ধে পরাজিত, বিদ্ধস্ত, হতভাগা হবে। হয়ত ওদের হাসিমুখগুলো বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা যেত। অলীক কল্পনাগুলোর মাঝে ডুবে থাকাও অনেক সময় জীবনের শ্রান্তি,অর্থহীন প্রলাপের মাঝে ডুবে থাকা অদ্ভুত সন্ধ্যার নাম ভালোলাগা…

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই 

​সেদিন অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে খেয়াল করলাম, আমার জন্মসালটা খুঁজে পেতে অনেকগুলো স্ক্রল করতে হলো। মাউস নামাতে নামাতে টেবিলের নিচে এসে পেলাম সালটা। তখনই খেয়াল হলো — অনেক বয়স হয়েছে বোধহয়। জীবনের এতগুলো বছর চলে গেলো, অফিসের কাজগুলো প্রফেশনাল ভাব নিয়ে শক্তপোক্ত বাবুদের ভাষাতেই বসকে রিপোর্ট করি, নিজের চেয়ারে বসতে এসে আমার ভিতরের ছটফটে শিশুটাকেই বসাই যেন। স্কুলের মাঠে যখন আমি আর নির্ঝর ছুটির পর দৌড়ে বড় মাঠের কোণার পাকা পিচে যেতাম ক্রিকেট খেলব বলে… তখনো আমার অনুভূতিগুলা এমনই ছিলো।
 
আমরা কতটাই বড় হই? কেন যেন মনে হয়, সময়ের সাথে সাথে আমরা অনেকগুলো চাদর দিয়ে আমাদেরকে মুড়িয়ে রাখি। সেখানে থাকে প্রচেষ্টা, সেগুলো আপনাতেই হয়না। অন্যদের সাথে তাল মিলাতে জোরাজুরি করে নিজেদের আমিকে ভরে ফেলি অন্য কিছুতে… একটা কবিতার পংক্তি ছিলো মনে আছে — “আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই”। আমিও বোধকরি আমাকেই খুঁজে ফিরি। দুই যুগ পেরিয়েছি সেই কবেই। স্মৃতির মাঝে নিত্যনতুন স্মৃতির পরত পড়েছে। অথচ আমি ঠিক আগের মতই যেন আছি। নতুন স্মৃতিগুলোতে অনুভূতির দৈন্যতা, পাওয়া আর না পাওয়ার অনেক হিসেব নিকেশ। অনেক তুলনা করা। আমরা মনে হয় তুলনামূলক সুখ-দুঃখে ভুগি। 

একসময়, স্কুলে পড়তে বাসায় ফিরে নিজের মনে বইটা খুলে পড়তাম, নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতাম, পেরে গেলে বই রেখে তিনগোয়েন্দা পড়তে বসতাম। নিষ্কলুষ মস্তিষ্কে পড়াগুলো, কিশোর-রবিন-মুসা-জিনাপার্কারদের আলাপ আলোচনা ও কল্পনার জগতে তাদেরকে সূক্ষ্ম করে বসাতে পারতাম। অথচ এখন মনোসংযোগ কাকে বলে জানিনা। অনেক শংকা, অনেক ঘৃণা, অনেক তুলনামূলক পাওয়া-না পাওয়ার চিন্তা আমাকে ঘিরে থাকে মনে হয়। আমি আমার আপনাকে খুঁজিয়া বেড়াই। জীবন কবে শেষ হয়ে যাবে, তা তো জানিনা। আমার মনে হতে থাকে যেন আমার সেই বাল্যজীবনকে আমি ঘিরে থাকি। এমনকি কৈশোর-তারুণ্যও না। যৌবন আমার অনাকাংখিত সময়। 

আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই এই ইট-কাঠ-পাথরের জগতের বাইরে, 
ছেলেবেলার মাঠের ধূলোয়, বন্ধুর সাথে দুই টাকার আইস্ক্রিম খাবার অকৃত্রিম আবেগে।

……
২১/১২/২০১২

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

তথ্যের দূষণ

​এইতো অনেক কথা সামনে আমাদের। ফেসবুকে, পত্রিকায়, টিভি-ইউটিউবের ভিডিও কিংবা আরো কত কী! জীবন আমাদের জর্জরিত এখন তথ্যে। তথ্যের সন্ত্রাস, তথ্যের আবর্জনা, তথ্যের দূষণ। যদি কাল সকালে আর ঘুম না ভাঙ্গে, যদি উঠে দেখি পৃথিবীর জীবন শেষ, সামনে কেবল অ্যাকাউন্ট ক্লোজিং, ডেবিট-ক্রেডিটের হিসেব; কেমন হবে ব্যাপারটা? কখনো কি আপনার মাঝে মাঝে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে হাঁসফাঁস লাগে ফেলে আসা দিনটার শত-শত তথ্যদূষণের মাঝে আত্নাটাকে চুপচুপে করে ডুবিয়ে রাখার ‘আফটার ইফেক্ট’ সামলাতে? গান শুনে গুনগুন করে ওঠা মন আনমনে পরীক্ষার হলে, প্রার্থনায়, নামাযে কি ‘অটো’ গেয়ে ওঠে? এমন কাজ করে কি আদৌ শান্তি লাগে যে কাজ কেমনে হয়ে গেলো জানিনা? 

সভ্যতার বিষগ্রস্ততা শুধু ধোঁয়ায় নয়, ফর্মালিনে নয়, বিটি বেগুনে নয়, ঔষধ-পথ্যে দেয়া ভেজালে নয়। সভ্যতার বিষ আছে তথ্যে, বিলবোর্ডে, পেপারে, টিভিতে, ইন্টারনেটের সর্বত্রে। সারাদিন বেচে থাকা অন্যের জীবনে। অন্যদের কথা, অন্যদের কাজে, অন্যদের তৈরি করা নিয়মে, অন্যদের তৈরি করা সুখের ধারণায়। 

কী অদ্ভুত এক চক্রে আচ্ছন্ন জীবন আমাদের। হায়! যারা চলে যাচ্ছে, যারা চলে যাবো। কতটুকু অর্থবাচকতা থাকে জীবনে? প্রতিদিনের জীবনে কিংবা গোটা জীবনে? হিসেবের মানদন্ড ধর্ম হোক, আত্মার শান্তি হোক, যার-যা-ইচ্ছা তাতেই হোক। প্রশান্তিতে থাকে কয়টা হৃদয়?

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

নির্ঘুম 

​পরীক্ষার দিন শেষে রাতের বেলায় আমি ঘুমাতে পারিনা। বছরের পর বছর এর ব্যত্যয় নেই। যা ছিলো সবটুকু লিখে এসে সব ছেড়ে দিয়ে ভীষণ অবসাদ লাগে। শূণ্য শূণ্য লাগে যেন! প্রায় দেড় বছর ধরে দাতে দাত চেপে লেগে থাকা অনেক কঠিনই ছিলো! এই সময়ের আগের আমি আর পরের আমি অনেক আলাদা। আল্লাহর রহমত ছাড়া কিচ্ছু হয়না। নইলে কত আরাধ্য স্বপ্ন কিছুতেই পূর্ণ হয়না অনেকের, আবার অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়েও অনেক কিছু হয়ে যায়। 

দিনশেষে থাকে কিছু স্মৃতি আর আমাদের একান্ত আমরা।
১৯/১২/২০১৬, ০২:০২ মধ্যরাত্রি

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

সৃষ্টির এই অতল গভীরতায়

ক্রমশ গভীর হয়ে আসা রাতের একটা সময়ে দূর থেকে ভেসে আসছিলো “আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙ্গে যায়…” গানটার সুরের ঢেউ, কন্ঠের আর্তি, অদ্ভুত এক হাহাকার মিলে কথাগুলো ভাসছিলো। সেই ১৯৪৮ সালে যে গানটা রচনা হয়েছিলো, নতুন শতাব্দীতে এসে গানটি শুনে অনুভূতির ঢেউয়ে ভেসে যেতে যেতে আমার চাপা একটা কষ্ট হয় কেন? হয়ত আমি অনুভব করতে পারি গান লিখতে কতটা জ্বালা হতে হয় বুকে, বুকের ভেতর কতটা হাহাকার হলে গানে সুর ওঠে, মন-শরীর মিলে কতটা অনুরণন হলে গানের সৃষ্টি হয়ে ওঠে…

ওইতো, ‘বাঁধন-হারা’ উপন্যাসটা পড়ার সময় নজরুলের প্রতি আমার যে সম্মান আর মোহমুগ্ধতা জেগেছিলো সেটাও সেই সৃষ্টির পেছনের কষ্ট উপলব্ধি করেই। এখনো খুব সুন্দর কোনো একটা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বুকে হাহাকার জেগে ওঠে। ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি তোমায়’ গানটা শোনার সময়েও বুকে অস্থিরতা জেগে উঠেছে জীবনে অনেক। রবিঠাকুর কাকে এত খুঁজেছেন সবখানে? সঞ্চয়িতা নিয়ে কাটানো শত-শত রাত্রিদিনেও কি এই হাহাকারকেই খুঁজে পাইনি আমি কবিতার ছন্দে-ছন্দে, রন্ধ্রে রন্ধ্রে? সাবরীর হাতের আঁচড়ে জেগে ওঠা একেকটা ছবির সাক্ষী আমি থেকেছি, দেখেছি কতটা শ্রমের ফসল একেকটা সৃষ্টি। মানুষগুলো তাদের সময়গুলো শেষ করে চলে গেছেন অনন্তের জগতে, আমরা অসহায় দ্রষ্টা হয়ে তাদের সৃষ্টিগুলোকে উপভোগ করে যাই।

চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘যতদূর দৃষ্টি যায়’ ততদূর বিস্তৃত কলেজ, টিটিসি দেখে এক বিশালতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার অনুভূতি হয়েছিলো, সম্মান জেগেছিলো ইদরিস সাহেবের প্রতি যিনি নিজের এই বিশাল জমি লিখে দিয়েছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য। আচ্ছা, কতটা বড় হৃদয় হলে মানুষ অমন করতে পারে? সেই মানুষগুলোর কথা মনে হয় যারা ইংরেজদের হাত থেকে এই দেশের মানুষের আজাদীর জন্য চেষ্টা করে চলেছিলেন বছরের পর বছর। একটা সময় স্বাধীন হয়েছিলো উপনিবেশ থেকে, সেই মানুষেরা হয়ত জানেননি।

বড় কাজগুলো যারা করেন, তারা কি আদৌ কোনোদিন উপভোগ করতে পারেন? আমার কাছে মনে হয়, যিনি যত বেশি উপভোগ করতে পারেন, তিনি তত বেশি ক্ষুদ্র মানুষ। যারা বড় মানুষ, তারা পারেননি কিছু ভোগ করতে। ভোগ আর সৃষ্টি কি পরস্পর ব্যাস্তানুপাতিক নয়? “আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন” গানটা শুনতে শুনতে আবার যেন ডুবে যাই সুরের ঢেউতে, শিউরে উঠি অনুভূতির কম্পনে… আচ্ছা, এত অল্পের মাঝে এত গভীরতা আল্লাহ কেমন করে দিলেন? সৃষ্টির এই অতল গভীরতায় ডুবে থেকে মানুষ কেমন করে সহ্য করেছে নিজের অসহায়ত্ব আর ক্ষুদ্রতাকে? কেমন করে মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী দেখে গেছে সভ্যতার পালাবদলে ভীষণ পরিবর্তনগুলো। সবাই কি পারে নির্বিকার চেয়ে থাকতে? পারে গ্লানিগুলো সয়ে যেতে?

০১/০৯/১৬

Posted in যাপিত জীবন, স্মৃতিকথা | মন্তব্য দিন

মুভি: বেলাশেষে

একটু দেরি করে হলেও বেলাশেষে মুভিটা দেখা হয়ে গেলো। ২০১৫ সালে মুভিটা প্রকাশ পায় কলকাতায়। মূল চরিত্রে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। গল্প, স্ক্রিপ্ট এবং ডিরেকশনে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পেছনে ছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়।

বেলাশেষে এত অসাধারণ লেগেছে মুভিটা যে একটা ব্লগই লিখে ফেলছি এই উপলক্ষে। একটা অদ্ভুত সুন্দর, ছিমছাম মুভি। দেখার মতন, বোঝার মতন। চলমান সময়ে যা অনেকে হাজার কথায় বুঝেনা, উপলব্ধি করে না এমন অনেক কিছুই খুব সম্ভব এই মুভি দেখে অনুভব করা সম্ভব হবে।

ইউটিউবে মুভিটার পুরোটাই পাওয়া যায়। দুইটি লিংক দিলাম এখানে – প্রথমটি এবং দ্বিতীয়টি

একটা মুভিতে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক, অভিযোগ-অনুযোগ ইত্যাদি বিষয়গুলো এত সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায় তা না দেখলে বুঝতে পারতাম না।

আই এম বি ডি-তে দেখলাম ৮.৬ রেটিং। আমি হয়ত ৯ দিবো।

Posted in মুভি | মন্তব্য দিন

কতটুকু সভ্য হলাম এত প্রযুক্তিতে?

সবকিছুর জীবন চক্রেই একটা চূড়ায় ওঠা সময় থাকে, পতনেরও। এটা সময়ের বাস্তবতা, জীবনেরও। এক সময়ে চিঠিতে বইতো আবেগ। হাতের লেখার স্পর্শে, আঁকাবাঁকা পথে আবেগের ধারা কাগজের উপরে বিন্যস্ত হয়ে চলে যেতো পাঠক-পাঠিকার হাতে। কখনো অশ্রু, কখনো তীব্র ভালোলাগার শীতল অনুভূতিতে উদ্বেল হতো মানুষ। আধযুগের মাঝেই এসএমএস, ইমেইল হয়ে ভিডিও কল চলে এসেছে। যতখানি ছবি আসে, কথা আসে, আবেগ ততটা আসে কি? দূরান্তরে থাকা মানুষের যোগাযোগের প্রয়োজন মিটেছে অনেকটুকুই, আবেগের আর্তিটুকু মিটেছে হৃদয়গুলোর? এখনকার আই এম তথা ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জারে স্বল্প পরিসরে লেখা কথাগুলোকে নানান জনে নানান ভাবে বুঝে। ভুল বুঝাবুঝি কি বেড়ে যায়নি অনেক বেশি?

সময় বদলায়, বদলাতেই হয়। পরিবর্তনই জীবনের নিয়ম। তবু কিছু সুপ্রাচীন বিষয় আছে যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মানবজাতি বয়ে বেড়িয়েছে। সবকিছুর আধুনিকায়ন হয় না। যোগাযোগের মাধ্যমের হয়ত আধুনিকায়ন হয়েছে, হয়নি আবেগের, অনুভূতির, ভালোলাগার, চিন্তনের। তাই হয়ত এত মাধ্যম, এত ছবি, ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাট, গুগলটক, স্কাইপ থাকা সত্বেও তিয়াশ মেটে না অন্তরগুলোতে। কথা বলার এত জায়গা, তবু কেউ শোনে না। সবাই বলে। ফেসবুকে শত-শত লেখা, হাজার হাজার লাইক। শত শত ওয়েবসাইট। প্রচুর মত। কে বলছে, কী বলছে, কথার সারবস্তু আর সত্যতা যা-ই থাকুক, সবাই বলছে। গবাদি পশু, কীটপতঙ্গের মতন চিন্তার উন্মেষবিহীন মানব মস্তিষ্কও লিখে চলেছে এখানে-ওখানে…

মোটের উপরে মনুষ্যত্বে, মানবিক আচরণে, সমাজে উত্তম পরিবর্তন কতটুকু? প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন তিক্ততা কি কেবল বেড়েই চলছে না? হে নবসভ্যতা, কতটুকু সভ্য হলাম এত প্রযুক্তিতে?

২৩/০৯/১৬

Posted in যাপিত জীবন | মন্তব্য দিন