হয়ত অন্য কেউ

misty

এই তীব্র স্থিতির মাঝে গতিটাকেই কেমন বেখাপ্পা লাগে।
ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত?
আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের ছড়িয়ে থাকা কত!
তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয় না।

আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ বয়ে নেয় না।
ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই, আমি হেরে যাই।
এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন, বদলেছি দৃশ্যপট,
অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই অসহায় হয়ে? বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা, ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

নীল


তখন সন্ধ্যা নাকি বিকেল মনে নেই। আবছা আলো, স্মৃতির চাইতে বেশি ঘোর সঙ্গী। কোথাও কোন শব্দ হচ্ছিলো একটানা, যান্ত্রিক শব্দ। হুলুস্থূল চিৎকার, বেদনাহত মানুষের আহাজারি, রিকসার ক্রিং-ক্রিং বেলের শব্দ, একটা বাচ্চা ছেলের কন্ঠে মা-সংক্রান্ত খিস্তি, মোবাইলে বেজে যাওয়া অনবরত হিন্দি গান। বৃষ্টির শব্দও আছে, একটানা ঝরে যাওয়া। ঝরে যায় ক্রমাগত। এই পথের কোন ভবনের জানালায় কিশোরি পর্দা সরিয়ে তাকিয়ে আছে আনমনে এমনই পথে। দোকানে জ্বলে উঠেছে এনার্জি সেভিং ল্যাম্প।

এমন অনেক মূহুর্ত থাকে প্রতিদিনই। মানুষের মনের দৃশ্যগুলো অন্যরকম হয়ত। ঝরে যায় বৃষ্টি, ঝরে যায় অনুভূতি, ঝরে যায় স্মৃতি। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় অনেক তীব্র অনুভূতিরাও জাঁকিয়ে ওঠে, মাটির সোঁদা গন্ধে হয়ত মস্তিষ্কের ভিতরে অনাহূত যন্ত্রণা জেগে ওঠে। চোখের সামনের দৃশ্য ঝাপসা হয়ে ওঠে, ম্লান হয় বোধ, নিঃশ্বাস গাঢ়…
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

অনভ্যস্ত কথোপকথন


প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের স্বপ্ন
আমি কোথায় রেখেছি?
ওই স্বপ্ন রাখার জায়গা নেই আমার,
আমি মিশে যাওয়া লোক
আমি কখনো শব্দে মিশে যাই
কখনো মিশে যাই জনকোলাহলে
কখনও এই বাতাসের মাঝে

মিশলেও তা ক্ষণিকের জন্য,
তারপর টের পাই হারিয়ে যাওয়ার স্পর্শ
টের পাই আমার স্বত্ত্বা হারিয়ে যায়
আমি চলে যাই অরণ্যে
আমি চলে যাই অতলে
আমি থাকিনা কোথাও
আমি হারিয়ে যাওয়া একটা স্বত্বা
আমি নির্বিষ এক নিনাদ
বিস্তারিত পড়ুন

Posted in কবিতা | 4 টি মন্তব্য

এক অসাধারণ জীবনকথা যা জেনে রাখা উচিত


আমি আজ একটা লেখা শেয়ার করবো সবার সাথে। এই লেখাটি একটি বক্তব্যের লেখ্যরূপ যে বক্তব্যটি উপস্থাপিত হয়েছিলো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। বক্তব্যটি বেশ পুরোনো। তবে আমার জীবনে শোনা সবচাইতে মুগ্ধকর আর উৎসাহমূলক বক্তব্য। তাই সবার সাথে শেয়ার করে নিতে চাইছি। এই বক্তব্য দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। যিনি অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। বক্তব্য রেখেছিলেন ২০০৫ সালের ১২ জুন। লেখাটির ইংরেজি রূপ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া।

বক্তার জীবনের মতন এত রকম কঠিন সময়, কষ্টকর সময় আর বৈচিত্র্য আমাদের সবার জীবনে থাকেনা। কিন্তু আমাদের জীবনে থাকে অনেক রকম ঘাত-প্রতিঘাত আর সফলতার আকাঙ্ক্ষা। আর তাই সবারই এই লেখাটা পড়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, ভালো লাগবে আর অনুপ্রাণিত হবেন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি🙂

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in অনুবাদ | Tagged , , | 34 টি মন্তব্য

সৃষ্টির এই অতল গভীরতায়

ক্রমশ গভীর হয়ে আসা রাতের একটা সময়ে দূর থেকে ভেসে আসছিলো “আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙ্গে যায়…” গানটার সুরের ঢেউ, কন্ঠের আর্তি, অদ্ভুত এক হাহাকার মিলে কথাগুলো ভাসছিলো। সেই ১৯৪৮ সালে যে গানটা রচনা হয়েছিলো, নতুন শতাব্দীতে এসে গানটি শুনে অনুভূতির ঢেউয়ে ভেসে যেতে যেতে আমার চাপা একটা কষ্ট হয় কেন? হয়ত আমি অনুভব করতে পারি গান লিখতে কতটা জ্বালা হতে হয় বুকে, বুকের ভেতর কতটা হাহাকার হলে গানে সুর ওঠে, মন-শরীর মিলে কতটা অনুরণন হলে গানের সৃষ্টি হয়ে ওঠে…

ওইতো, ‘বাঁধন-হারা’ উপন্যাসটা পড়ার সময় নজরুলের প্রতি আমার যে সম্মান আর মোহমুগ্ধতা জেগেছিলো সেটাও সেই সৃষ্টির পেছনের কষ্ট উপলব্ধি করেই। এখনো খুব সুন্দর কোনো একটা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বুকে হাহাকার জেগে ওঠে। ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি তোমায়’ গানটা শোনার সময়েও বুকে অস্থিরতা জেগে উঠেছে জীবনে অনেক। রবিঠাকুর কাকে এত খুঁজেছেন সবখানে? সঞ্চয়িতা নিয়ে কাটানো শত-শত রাত্রিদিনেও কি এই হাহাকারকেই খুঁজে পাইনি আমি কবিতার ছন্দে-ছন্দে, রন্ধ্রে রন্ধ্রে? সাবরীর হাতের আঁচড়ে জেগে ওঠা একেকটা ছবির সাক্ষী আমি থেকেছি, দেখেছি কতটা শ্রমের ফসল একেকটা সৃষ্টি। মানুষগুলো তাদের সময়গুলো শেষ করে চলে গেছেন অনন্তের জগতে, আমরা অসহায় দ্রষ্টা হয়ে তাদের সৃষ্টিগুলোকে উপভোগ করে যাই।

চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘যতদূর দৃষ্টি যায়’ ততদূর বিস্তৃত কলেজ, টিটিসি দেখে এক বিশালতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার অনুভূতি হয়েছিলো, সম্মান জেগেছিলো ইদরিস সাহেবের প্রতি যিনি নিজের এই বিশাল জমি লিখে দিয়েছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য। আচ্ছা, কতটা বড় হৃদয় হলে মানুষ অমন করতে পারে? সেই মানুষগুলোর কথা মনে হয় যারা ইংরেজদের হাত থেকে এই দেশের মানুষের আজাদীর জন্য চেষ্টা করে চলেছিলেন বছরের পর বছর। একটা সময় স্বাধীন হয়েছিলো উপনিবেশ থেকে, সেই মানুষেরা হয়ত জানেননি।

বড় কাজগুলো যারা করেন, তারা কি আদৌ কোনোদিন উপভোগ করতে পারেন? আমার কাছে মনে হয়, যিনি যত বেশি উপভোগ করতে পারেন, তিনি তত বেশি ক্ষুদ্র মানুষ। যারা বড় মানুষ, তারা পারেননি কিছু ভোগ করতে। ভোগ আর সৃষ্টি কি পরস্পর ব্যাস্তানুপাতিক নয়? “আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন” গানটা শুনতে শুনতে আবার যেন ডুবে যাই সুরের ঢেউতে, শিউরে উঠি অনুভূতির কম্পনে… আচ্ছা, এত অল্পের মাঝে এত গভীরতা আল্লাহ কেমন করে দিলেন? সৃষ্টির এই অতল গভীরতায় ডুবে থেকে মানুষ কেমন করে সহ্য করেছে নিজের অসহায়ত্ব আর ক্ষুদ্রতাকে? কেমন করে মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী দেখে গেছে সভ্যতার পালাবদলে ভীষণ পরিবর্তনগুলো। সবাই কি পারে নির্বিকার চেয়ে থাকতে? পারে গ্লানিগুলো সয়ে যেতে?

০১/০৯/১৬

Posted in যাপিত জীবন, স্মৃতিকথা | মন্তব্য দিন

মুভি: বেলাশেষে

একটু দেরি করে হলেও বেলাশেষে মুভিটা দেখা হয়ে গেলো। ২০১৫ সালে মুভিটা প্রকাশ পায় কলকাতায়। মূল চরিত্রে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। গল্প, স্ক্রিপ্ট এবং ডিরেকশনে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পেছনে ছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়।

বেলাশেষে এত অসাধারণ লেগেছে মুভিটা যে একটা ব্লগই লিখে ফেলছি এই উপলক্ষে। একটা অদ্ভুত সুন্দর, ছিমছাম মুভি। দেখার মতন, বোঝার মতন। চলমান সময়ে যা অনেকে হাজার কথায় বুঝেনা, উপলব্ধি করে না এমন অনেক কিছুই খুব সম্ভব এই মুভি দেখে অনুভব করা সম্ভব হবে।

ইউটিউবে মুভিটার পুরোটাই পাওয়া যায়। দুইটি লিংক দিলাম এখানে – প্রথমটি এবং দ্বিতীয়টি

একটা মুভিতে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক, অভিযোগ-অনুযোগ ইত্যাদি বিষয়গুলো এত সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায় তা না দেখলে বুঝতে পারতাম না।

আই এম বি ডি-তে দেখলাম ৮.৬ রেটিং। আমি হয়ত ৯ দিবো।

Posted in মুভি | মন্তব্য দিন

কতটুকু সভ্য হলাম এত প্রযুক্তিতে?

সবকিছুর জীবন চক্রেই একটা চূড়ায় ওঠা সময় থাকে, পতনেরও। এটা সময়ের বাস্তবতা, জীবনেরও। এক সময়ে চিঠিতে বইতো আবেগ। হাতের লেখার স্পর্শে, আঁকাবাঁকা পথে আবেগের ধারা কাগজের উপরে বিন্যস্ত হয়ে চলে যেতো পাঠক-পাঠিকার হাতে। কখনো অশ্রু, কখনো তীব্র ভালোলাগার শীতল অনুভূতিতে উদ্বেল হতো মানুষ। আধযুগের মাঝেই এসএমএস, ইমেইল হয়ে ভিডিও কল চলে এসেছে। যতখানি ছবি আসে, কথা আসে, আবেগ ততটা আসে কি? দূরান্তরে থাকা মানুষের যোগাযোগের প্রয়োজন মিটেছে অনেকটুকুই, আবেগের আর্তিটুকু মিটেছে হৃদয়গুলোর? এখনকার আই এম তথা ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জারে স্বল্প পরিসরে লেখা কথাগুলোকে নানান জনে নানান ভাবে বুঝে। ভুল বুঝাবুঝি কি বেড়ে যায়নি অনেক বেশি?

সময় বদলায়, বদলাতেই হয়। পরিবর্তনই জীবনের নিয়ম। তবু কিছু সুপ্রাচীন বিষয় আছে যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মানবজাতি বয়ে বেড়িয়েছে। সবকিছুর আধুনিকায়ন হয় না। যোগাযোগের মাধ্যমের হয়ত আধুনিকায়ন হয়েছে, হয়নি আবেগের, অনুভূতির, ভালোলাগার, চিন্তনের। তাই হয়ত এত মাধ্যম, এত ছবি, ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাট, গুগলটক, স্কাইপ থাকা সত্বেও তিয়াশ মেটে না অন্তরগুলোতে। কথা বলার এত জায়গা, তবু কেউ শোনে না। সবাই বলে। ফেসবুকে শত-শত লেখা, হাজার হাজার লাইক। শত শত ওয়েবসাইট। প্রচুর মত। কে বলছে, কী বলছে, কথার সারবস্তু আর সত্যতা যা-ই থাকুক, সবাই বলছে। গবাদি পশু, কীটপতঙ্গের মতন চিন্তার উন্মেষবিহীন মানব মস্তিষ্কও লিখে চলেছে এখানে-ওখানে…

মোটের উপরে মনুষ্যত্বে, মানবিক আচরণে, সমাজে উত্তম পরিবর্তন কতটুকু? প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন তিক্ততা কি কেবল বেড়েই চলছে না? হে নবসভ্যতা, কতটুকু সভ্য হলাম এত প্রযুক্তিতে?

২৩/০৯/১৬

Posted in যাপিত জীবন | মন্তব্য দিন

কিছু রাত বখাটে ভীষণ


সবগুলো রাত কেবল অন্ধকার নয়, কিছু রাত বখাটে ভীষণ। পথপ্রান্তরের ধুলোগুলো লুকিয়ে মানুষের নাক দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দেয়, ধরিয়ে দেয় চিন্তার হলাহল। ছেলেবেলার কান্নার গমকগুলো মাঝে মাঝে এসে দাঁড়ায় চিন্তার দেয়াল জুড়ে। ফেলে আসা খেলার মাঠের ঘাসকাটার গন্ধ এসে স্নায়ুগুলোকে স্তম্ভিত করে নির্নিমেষ। জীবন কিছু স্মৃতিই তো। রাতের গভীরতায় বখাটেপনায় যোগ হয় জীবনের হিসেব নিকেশ। পালিয়ে বাঁচতে পারেনা দুর্বল চিত্ত। না পাওয়ার হাহাকারে এক চিমটি উদাস দুপুর এসে বিস্ফোরণ ধরায়। রাতগুলো নির্মম ভীষণ। অমনি করে বয়ে যায় হাজার বছরের রাত। অকৃত্রিম ধারায়, প্রাণ থেকে প্রাণে, যুগ যুগান্তর ধরে পৃথিবীর প্রান্ত জুড়ে…

Posted in পরাবাস্তব | মন্তব্য দিন

জীবন কি একটা সমুদ্রের মাঝে ভেসে যাওয়া নৌকার মতন নয়?

মানুষগুলোর জীবন একটা সমুদ্রের মাঝে ভেসে যাওয়া একটা নৌকার মতন নয়? গোটা সমুদ্রের কিছুই সে জানে না। জানেনা এই সমুদ্রের কোন প্রান্তে কোথায় কোন স্থলভাগ আছে, জানেনা গভীরে অতলে কত কিছু লুকিয়ে আছে, কত না দেখা-না কল্পনা করা জগতও আছে তারই নিচে, চারপাশে, লক্ষ্যে-অলক্ষ্যে। দিনমজুরদের জীবনের অংশ না হলে কেউ কখনো উপলব্ধি করতে পারবে স্বল্প সীমায় জীবনকে যাপন ও বিনোদন কেমন হতে পারে? যার একটা পা নেই, তার জ্বালা ও সঙ্কটময় জীবন পা-সমৃদ্ধ মানুষগুলো কি কষ্মিনকালেও ভাবতে পারে? বাবা-মা যার বেঁচে নেই, তাদের ‘ছায়াহীনতা’ কি কখনো বাবা-মায়ের নিত্য আগলে রাখা জীবনে থাকা সন্তানগুলো ভাবতেও পারবে? সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার কষ্ট কেমন হয় তা কি ভালোবাসার বন্ধনে থাকা যুগলেরা ঘুণাক্ষরেও টের পায়? ক্যান্সার রোগে বিছানায় পড়ে থেকে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাওয়ার কষ্ট কি যৌবনে ফ্রাইড চিকেন গোগ্রাসে গেলা জীবনে ভাবতে পারে কেউ?

যে নিজেকে বিনয়ী ভেবে ফেলেন, তিনি তো কখনই বিনয়ের স্পর্শই বুঝেননি। নিজেকে যিনি জ্ঞানী বলে মনে করে ফেলেন, তিনি কখনই বুঝেননি ‘কেমন করে বসতে হয়, হাসতে হয়’–তার মাঝেও জ্ঞান আছে। এককালের সর্বসেরা হয়ে যারা মরে যায়, পরের প্রজন্মে কেউ তাদের গড়ে যাওয়া রেকর্ড মুড়িভাজার মতন সহজ করে ফেলে। প্রতিটি জ্ঞানীর চেয়ে একজন জ্ঞানী আছে, প্রতিটি দক্ষ মানুষের চেয়েও আরেকজন দক্ষ আছে। প্রতিটি সুন্দর মানুষের চেয়ে আরেকজন সুন্দর আছেন, কাছেই, আশেপাশেই। প্রতিটি বিনয়ীর চেয়েও বেশি বিনয়ী আছেন, চালাকের চেয়েও বেশি চালাক থাকে হরহামেশাই।

“কক্ষনো না/ সবচাইতে সেরা/ জঘন্যের জঘন্য/ কোনোদিন হতে পারে না/ অসম্ভব/ ইতিহাসের সর্বোচ্চ/ সবচেয়ে তুচ্ছ/ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ”– ইত্যাদি প্রায় ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত বিশেষনগুলো মূলত অজ্ঞদের অলংকার। এটুকুন জীবনে সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা নিতান্ত কিছু ছাঁচে ধরা কাজ করে নিজেদের শ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ, সেরা, নিকৃষ্ট, অভাগী, হতভাগ্য, ফালতু মনে করা মানুষগুলো জীবন কেমন হতে পারে তার কিছুই পায়না। মানুষের জীবনগুলো নানান সংগ্রামের মাঝে প্রমাণিত হয় তা কত বেশি অসহায়। মানুষ হয়ত বেশিরভাগ সময়ে নিজের অসহায়, তুচ্ছ, পরাজিত চেহারাটুকু দেখতেই ভয় পায়। ভিন্ন সব বিশেষণ দিয়ে তাই হয়ত প্রচুর কথা হয়। বিপুলা পৃথিবীর এত অল্প দেখেই মানুষগুলোর কেমন করে দাম্ভিক, অহংকারী চেহারাকে অতি-আত্মবিশ্বাসী রূপ দিয়ে প্রকাশ করতে পারে? অল্প ক’টা দিন পরে তো মাটিতেই ফের মিশে যাওয়া। কীসের এত আকর্ষণ, এত কামনা আর সম্পদকে আয়ত্বে রেখে দেয়ার উদগ্র বাসনা? মানুষগুলো খুব দুর্বল আর অসহায় নয় কি?

Posted in যাপিত জীবন | ১ টি মন্তব্য

সেবা প্রকাশনী

হঠাতই একটা স্মৃতি মনে পড়লো। তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, গ্রামের বাড়িতে গেছি। একতলার ছাদে বসে ‘জিনার সেই দ্বীপ’ পড়ছি রুদ্ধ্বশ্বাসে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে, গোবেল বীচে আলো। পুরোনো দুর্গের ভেতরের আলো দেখে কিশোর-মুসারা কৌতুহলী হয়ে উঠলো।সেই সময়ে সেবা প্রকাশনীর বইগুলো ছিলো অক্সিজেনের মতন। স্নিগ্ধ ছিলো লেখনী। অনুবাদ বইগুলোর প্রতি মোহনীয়তা ছিলো আমার। গোয়েন্দা রাজু সিরিজ ছিলো চমৎকার। তিন বন্ধু সিরিজের ফগরেম্পারকট, শুটকি টেরি, রবিন, কিশোর, মুসা, ফারিহা, জিনা, টিটু। একটা ভলিউম শেষ করতাম এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘন্টায়। প্রতিদিন একেকটা তিনগোয়েন্দা ভলিউম। কী নেশা বই পড়ার তখন! অথৈ সাগর, জলদস্যুর দ্বীপ, কাকাতুয়া রহস্য, ভুতের হাসি, ছুটি, ছিনতাই, ভীষণ অরণ্য, গোলাপী মুক্তো, কংকাল দ্বীপ আজো হৃদয়ে গেঁথে আছে।

দেশে কত শত পদক, পুরষ্কার হয়। সেবা প্রকাশনীর পেপারব্যাক সুলভ মূল্যের বইগুলোর কৃতজ্ঞতা স্বীকার কেউ আনূষ্ঠানিকভাবে করে না। ভিক্টর হুগো, চার্লস ডিকেন্স, মার্ক টোয়েনের অনুবাদগুলো থেকে কত শত অনুভূতিরা সঙ্গী হয়েছিলো তার কথা ভাবলে হৃদয় সিক্ত হয়। লা মিজারেবল, এ টেল অভ টু সিটিজ, হাকলবেরি ফিন, নোঙর ছেঁড়া, ক্যাপটেন হ্যাটেরাস। কী নিদারুণ অ্যাডভেঞ্চার! ক্যাপটেন হ্যাটেরাস যখন উত্তর মেরুতে হিমবাহতে করে এগিয়ে যাচ্ছিলো, আমি সোফায় বসে পা উঠিয়ে পড়ছিলাম! এরকম টুকরো টুকরো স্মৃতিরা খুবই সুমধুর।

রকিব হাসান, সেবা প্রকাশনী ও জুলভার্ন আমাকে অদ্ভুত মায়াময়, মুগ্ধতাভরা অনন্য কৈশোরের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলো। বন্ধুরা ছিলো সেন্ট্রাল গভমেন্টের সাব্বির, রিশাদ, কাজল। অনন্য সুন্দর বইগুলো পড়ার আনন্দের কথা ২০ বছর পরে স্মরণ করে রকিব হাসান ও সেবা প্রকাশনীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

২৭/০৩/১৬

Posted in দেশ, স্মৃতিকথা | মন্তব্য দিন

মানুষ কি জানেনা সে কত অসহায়?

হোসেনি দালান রোডে আর রাজা বাদশাহদের ছাপ নেই, নামেই আছে। কয়েক শত বছর আগে এই পথে যার হেটে যেত সভ্যতার সর্বোচ্চ ছাপ দেখে, শ্রেষ্ঠত্বের স্পর্শ নিয়ে। এখন সেখানে নেহাতই ঠেকায় পড়া লোকেরা চলে। সময় বদলে এখন আভিজাত্য বয়ে গেছে বনানী, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। সব ফেলে সমুদ্রপাড়ে যাওয়া? কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ক’জনাই বা অনুভব করতে যায় সমুদ্রের বিশালতা? মনটা বড্ড বেশিই ব্যস্ত থাকে সেলফিতে, ফটোসেশনে, একটু পরের ফুডমেনুতে, অথবা অন্যকিছুতে। অনুভূতি কি খুব অচেনা কিছু নয় কি? মানুষ কি নিজের কাছ থেকেই বেশি পালায় না?

ঈদের সময় এলো যখন, চারিদিকে নানামুখী আয়োজন। বঙ্গবাজারের বিক্রেতাদের হতাশার ওম স্পর্শ করে ক্রেতাদের হৃদয়কে, বেচাকেনা নেই স্যার! অথচ, শহরের অলিতে গলিতে চিপা-চাপায় নিত্যনতুন ফুডশপগুলোর বিক্রেতাদের কন্ঠে হয়ত অন্য সুর! অথবা, খানিক দূরের অন্য শহরের মানুষদের, কড়াইল বস্তির রিকশাওয়ালার পরিবারের অনুভূতি কেমন–ক’জন ঢাকাবাসী দেখেছে? আরো দূরে, ঐ গাজায় কিংবা কাশ্মীরের অবরুদ্ধ ঈদ কেমন হয়? পাশের বাড়ির ছেলেটা যখন হঠাৎ আর্মির গুলি খেয়ে মরে যায়, সে দৃশ্য সামলে আবার এগিয়ে চলা… কেমন? সিরিয়ায় রাসায়নিক বোমায় পর্যুদস্ত শহরের ছোট শিশুগুলোর ঈদ কেমন হয়? অথবা আরো দূরে, পরিবারকে পেছনে ফেলে ভবিষ্যতে কিছু করার আশায় হেলসিংকিতে কিংবা ক্রাইস্টচার্চে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি ছেলেটার বুকে কেমন হাহাকার জাগায় ঈদ?

মানুষ হয়ত ভাবতে চায় না। হয়ত পারেও না। নিজের চিন্তা ও উপলব্ধি থেকে ইচ্ছা করেই হয়ত পালায়। হয়ত নিজের তুচ্ছতা আর অসহায়ত্ব উপলব্ধি করতে চায়না দেখেই নিত্যনতুন ক্ষুদ্র কাজকেই বড় বানিয়ে তাতে ডুব দেয়। মানুষ কি জানেনা সে কত অসহায়? প্রচন্ড পরাক্রমশালী দেশনেতাও কি জানেনা তার আগের ২০০ বছরের নেতাদের সবাইকেই যেতে হয়েছে, অনেক ঘৃণা, হতাশা আর দৈন্যকে ঘাড়ে করেই? তবুও কেউ কি ছাড় দেয়? পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই কারো। কোনো মানুষেরই নেই। বেঁচে থাকলে, টিকে থাকতে সামনে দৌড়াতেই হয়।

পানিতে ভেসে থাকতে হলে পা নাড়াতে হয়। পৃথিবীতে টিকে থাকলে হলেও ছুটতে হয়। উর্ধ্বশ্বাসে হন্তদন্ত ছুটে চলা। এভাবেই শত-সহস্র বছর ধরে মানুষ ছুটছে। কেবল ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় নিজ জীবনকে তারা উপস্থাপন করে। বেশিরভাগ মানুষ নিজের কথাটুকু নিজেই বিশ্বাস করে না। তবুও বলে, চারিদিকে হাজার কোটি শব্দের দাম্ভিক উপস্থাপন… অদ্ভুত এক ইন্দ্রজালের এই পৃথিবী!!

০৯/০৯/১৬

Posted in যাপিত জীবন | মন্তব্য দিন