দালাইলামার এই লেখাটা পড়েছিলাম অনেকদিন আগে। প্রায়ই পড়তাম, ভালো লাগতো। কারণ, এতে সত্যিই আমাদের নৈতিকতার অবক্ষয়গুলোর ছবি চিত্রিত আছে। আমাদের অন্ধ দৌড়ের একটা চিত্র এতে উল্লেখিত। অনেকগুলো মূহুর্তকে এঁকে দিয়েছেন লেখক। হয়ত চেয়েছেন বোধকে জাগ্রত করতে। বোধ আমাদের এতই গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে এখন, জেগে আর ওঠা হয়না তার।
লেখাটার ইংরেজি শিরোনাম — Paradox of Our Times — আমি অনুবাদের নাম দিলাম “আমাদের এই সময়ের গোলকধাঁধাঁ”। হুবহু অর্থ হয়ত হয়নি, আমি যতটুকু বুঝেছি, তার উপরেই কাজ করেছি। ইংরেজি রচনাটা এখানে আছে, আমি সংগ্রহ করেছিলাম।
আমাদের এই সময়ের গোলকধাঁধাঁ : দালাইলামা
এই সময়ের ব্যাপারটা কি এমন
আমাদের অট্টালিকাগুলো বিশালাকার, কিন্তু সহনীয়তা কম
পথচলার পথ প্রশস্ত , কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ
সম্পদ কম, কিন্তু ব্যয় বেশি
আমাদের ঘরগুলো বড়, পরিবারগুলো ছোট
অনেক সুযোগ, কিন্তু সময় কম।
আমাদের অনেক ডিগ্রি, কিন্তু বিবেচনাবোধ কম
জ্ঞান বেশি কিন্তু ন্যায়বিচার কম
দক্ষ লোক বেশি, কিন্তু সমস্যা আরো বেশি
অনেক ঔষধ কিন্তু আমাদের কম সুস্থতা।
সম্পদকে আমরা বহুগুণ বাড়িয়েছি, কিন্তু নৈতিকতাকে কমিয়েছি
অনেক বেশি কথা বলি, মাঝে মাঝে ভালোবাসি, অনেক বেশি ঘৃণা করি
আমরা শিখেছি কীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা যায়, জীবনধারণের নয়।
আমরা আয়ুর বছর বাড়িয়েছি, কিন্তু বছরগুলোতে প্রাণ দেই নি
আমরা চাঁদে যাবার পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে আসি
কিন্তু নতুন প্রতিবেশীর সাথে সাক্ষাত করার জন্য রাস্তা পার হতে অনেক সমস্যা
আমরা বাহিরের জগতকে জয় করেছি, অন্তরের জগতকে নয়।
আমরা বাতাসকে পরিষ্কার করতে চেয়েছি, আত্মাকে করেছি কলুষিত
আমরা পরমাণুকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করেছি, ভাঙ্গিনি আমাদের সংস্কারগুলো
আমাদের আয় অনেক বেশি, নীতি অনেক কম।
পরিমাণে আমরা অনেক বেশি, কিন্তু মানে অনেক কম।
এই সময়টা লম্বা মানুষদের, ছোট চরিত্রের
ভারী মুনাফা, ঠুনকো সম্পর্কের
এই সময়টা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা চেষ্টার, কিন্তু ঘরে ঘরে যুদ্ধের
অনেক অবসর, কিন্তু কম আনন্দ, অনেক রকমের খাদ্য, কিন্তু কম পুষ্টি
এটা সেই সময় যখন দ্বিগুণ আয় হবে, কিন্তু আরো বেশি বিবাহচ্ছেদ হবে
সুন্দর ঝলমলে বাড়ি, কিন্তু ভাঙ্গা সংসার
এটা সেই সময় যখন প্রদর্শনীতে অনেক কিছু, গুদামঘরে নেই কিছু
এটা কি সেই সময়, যখন প্রযুক্তি এই চিঠিটা পৌঁছে দেবে আপনার কাছে
আর সেই সময়টাতে যখন আপনি বেছে নিতে পারেন
এই সময়ের কোন পরিবর্তন আনবেন… নাকি ডিলিট চেপে মুছে ফেলবেন।
** দালাইলামা **
দালাইলামা ১৯৮৯ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার লাভ করেন তিব্বতের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের জন্য। বৈশ্বিক পরিবেশ নিয়ে চিন্তা ও সচেতনতার কারণে নোবেল পুরষ্কার পাওয়া প্রথম ব্যক্তি তিনি। তিনি সমগ্র বিশ্বে অহিংস আন্দোলনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান, আন্তঃধর্মীয় বিশ্বাস ও চেতনাবোধ জাগরণ, আন্তর্জাতিক দ্বায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখায় ১৯৫৯ সাল থেকে ৮৪ টি পুরষ্কার পেয়েছেন। দালাইলামা ৭২টির বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
তিব্বতের বর্তমান দালাইলামা ১৪ তম যার নাম তেনজিন গেতসো। তিনি ১৯৩৫ জন্মগ্রহণ করেন। নিজেকে একজন সাধারণ বৌদ্ধভিক্ষু হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি পছন্দ করেন।





প্রিয় ভাইজান, আপনার লেখার একজন অতি ক্ষুদ্র ভক্ত আমি। আপনার লেখার ভক্তকুল এর একজন হতে পেরে আনন্দিত। লেখাটা হৃদয় ছুঁয়ে গেল। অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
অসাধারণ কথামালা…। অনেক ভালো লাগলো…।