আমার কাছে মনে হয় যেন বন্ধুর উপস্থিতির চাইতে তার অনুপস্থিতিটা বেশি উপলব্ধি করা যায়। আচ্ছা, ইংরেজিতে “miss you” বলে একটা শব্দ আছে। বাংলায় নাই কেন? আমাদের পূর্বপুরুষরা কি কাউকে “মিস” করতেন না? তারা কি ছেলেবেলার বন্ধুদের মনে করে nostalgic তথা স্মৃতিকাতরতায় ভুগতেন না শেষ বয়সে?
ছেলেবেলা আসলে সবারই সুন্দর হয়। যার যার কাছে তার তার ছেলেবেলা সুন্দর… স্বপ্নময়তায় ভরপুর। ছেলেবেলার টিনটিনের কমিকস, চাচা চৌধুরী, বিল্লু, পিংকী, ফ্যান্টম, শক্তিমানের কমিকস পড়ার কথা মনে পড়ে যায় মাঝে মাঝে। তিন গোয়েন্দার বইগুলো… কিশোর, রবিন, মুসা। আহা! আর সেই জিনা পারকার… জিনার গল্প শুরু করলে বন্ধুমহলে ঝগড়া শুরু হইত অনেক সময়।
“জিনা কার” এরকম কোন একটা প্রসঙ্গে আরকি…
এছাড়া রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতাতে ডুবে থাকা কৈশোর, নজরুলের কয়েকটা উপন্যাসেই কেটে যেত মাস। শরৎ রচনাবলী, মুজতবা আলী রচনাসমগ্র… শীর্ষেন্দু, সুনীল, সমরেশ…
ইশশ… জুলভার্নের সেই ক্যাপ্টেন হ্যাটেরাস, নোঙ্গর ছেঁড়া, সাগর তলে। সেবার অনুবাদগুলো যেন মোহগ্রস্ত করে রাখতো… গল্পের বইতে ডুবে থাকা… চরিত্রগুলার সাথে নিজেকে জড়িয়ে দেয়া… টানাপোড়েন, অ্যাডভেঞ্চার… ভালোবাসা, রোমান্স… কী দারুণ তীব্র আর তীক্ষ্ম সেই অনুভূতিগুলো!!
সব যেন অতীত হয়ে যাচ্ছে…
কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সময় কী ভীষণ আড়ি আর ভাব নেওয়া নেওয়ি চলত!! কনে আঙ্গুলে আড়ি, বৃদ্ধাঙ্গুলে ভাব… মান-অভিমান ভরা কিছু সময়… পাশাপাশি বসার জন্য জায়গা রেখে দেয়া নিয়ে কত মারামারি!! আহারে বন্ধু! সবাই কীভাবে যেন দূরে সরে যায়… এক সময়ের ভালোবাসা দিন পেরিয়ে গেলে কেমন ম্লান হয়ে যায়…
একটা গান শুনছিলাম। আর তাতেই এইসব ভাবনাগুলো হঠাৎ যেন হামলে পড়ল মনের মধ্যে…শিরোনাম দেখেই বেশিরভাগ মানুষের একটা গানের কথাই মনে পড়ে যাবার কথা। হুমম, এটা সেই গানেরই কথা। কলকাতার ব্যান্ড “চন্দ্রবিন্দু”-র গাওয়া একটা খুব সিম্পল গান। কেন যেন এটা আমার বেশ মনে ধরে গিয়েছিল। হয়ত সবারই আমার মতনই মনে ধরে যায় বলেই গানটি অনেকের বেশ প্রিয়। বেশ ভালো রকমের প্রিয়…
২০০৩ সালে যখন এস,এস,সি, পরীক্ষার ছুটিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে দশটি দিন কাটিয়েছিলাম ভাইয়ার সাথে… তখন ভাইয়াদের বন্ধুমহলে এই গানটির বেশ জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করেছিলাম। আমার বন্ধুমহলেও তার ব্যতিক্রম নয়। লিরিকটা তুলে দিলাম। ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, পরে শুধরে দেয়া যাবে নাহয়।
ছেঁড়া ঘুড়ি রঙ্গিন বল
এইটুকুই সম্বল
আর ছিল রোদ্দুরে পাওয়া
বিকেল বেলা।
বাজে বকা রাত্রি দিন
অ্যাস্টেরিক্স টিনটিন
এলোমেল কথা উড়ে যেত
হাসির ঠেলায়
সে হাসি ছুটে যেত গোধুলি মিছিলে
সবার অলক্ষ্যেতে তুমিও কি ছিলে
সে হাসি ছুটে যেত গোধুলি মিছিলে
সবার অলক্ষ্যে তুমিও কি ছিলে
হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
আর একবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়।
গল্পের মত ইশকুল বাড়ি
জমে ওঠা ক্ষত
খেলব না আড়ি
গল্পের মত ইশকুল বাড়ি
জমে ওঠা ক্ষত
খেলব না আড়ি
সে খেলা কানাগলি
রোজ চুপিসারে
এবং আগুন ছিল লাস্ট কাউন্টারে
হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
আর একবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়।
বইমেলা ধূলো গার্গি শ্রেয়সী
চেনা মুখগুলো
পরিচিত হাসি
বইমেলা ধূলো গার্গি শ্রেয়সী
চেনা মুখগুলো
পরিচিত হাসি
সে হাসি রোদ ঝিকিমিকি কার্নিশে
সাহসী চুম্বন আজো পারেনি সে
হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
আর একবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়।
ছেঁড়া ছবি স্ফটিক জল
এইটুকু সম্বল
বাদ বাকি রোদ চলে যাওয়া বিকেল বেলা
একঘেয়ে ক্লান্ত দিন ক্যাম্পোজ-অ্যাসপিরিন
যানজটে দেরি হয়ে গেল বিকাল বেলা
মরা মাছের চোখ যায় যদ্দুরে
শুকানো জলছবি আজো রোদ্দুরে
হাওয়ায় হাওয়ায়
হাওয়ায় হাওয়ায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়
আর একবার যদি তোমাদের দলে নাও খেলায়
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়।





সায়ানের এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধু গানটা শুনেন। সাম্প্রতিক সময়ে শোনা প্রিয় একটা গান।
বাংলায় miss you নাই, ইংরেজিতে আবার অভিমান নাই
খুব মজা পেলাম তানিম… আসলেই তো!! ইংরেজি তে তো অভিমান বলে কিছু নেই
সায়ানের গানটা খুঁজে দেখবো নে…
বন্ধু! আমি একশত হাত দূরে! সেইদিন একজন …..নাহ থাক, কমু না। খিকজ!
খিকয! না কইলে কিন্তু ধারণা কইরা নিমু
বন্ধু থিকা দূরে থাকা মানুষ হইলো অভাগী
করো করো, ধারণা কইরা নাও। কাজে দিবো না। হু হু! অভাগী হয়েই ভাল আছি। অনেক অনেক ভাল।
ভালো আছ। থাকবা কিনা সেইটা নিয়া বলতেছিলাম আরকি! ধারণা করেই নিলাম, সময় আসলে দেইখো কেম্নে বলি!
আর… ভালো থাক।
এই গান টা আমার প্রিয়তম গান
উপস্থিতির থেকে বন্ধুর অনুপস্থিতিটা বেশি উপলব্ধি করা যায় হয়তো। কিন্তু নতুন বন্ধু এসে পুরোনোর নেওয়াও এক চলমান প্রক্রিয়া। আমার অভিঙ্গতা- অনেক দিনের অদেখায় বন্ধুত্ব আলগা হয় সময়ের পলি জমে। ছোটবেলার অন্তরঙ্গ বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে সাধারন কুশল বিনিময়ের পর কথা হাতরাতে হচ্ছে – এরকম অভিঙ্গতা হয়নি কখনও। লেখাটা ভাল হয়েছে।
তাপস ভাই, ধন্যবাদ এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য…
আসলেই নতুন বন্ধু এসে পুরোনোর জায়গাটা করে নেয়া একটা চলমান প্রক্রিয়া। তবে ছোটবেলার বন্ধুর সাথে কথা হাতড়াতে হয়নি এটা আপনার সৌভাগ্য… এরকম সচরাচর হয়না। আমাকে কথা খুঁজতে হয়েছিল
আমার ব্লগে স্বাগত জানাই
“বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়” – শুনলেই নস্টালজিক হয়ে যাই। আগেকার বিকেলগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। বিকেলগুলো আমাদের কাছে যেন স্বপ্ন নিয়ে আসত। সারা বিকেলজুড়ে হাঁটাহাঁটি, অর্থহীন ঘুরাঘুরি, বেসুরে গলায় অসুরের শক্তি নিয়ে গান গাওয়া- খুব বেশি মিস করি।
ভালো লাগল ভাইয়া লেখাটা।
ছেলেবেলাটা আমাদের কাছে এত স্বপ্ন স্বপ্ন থাকে কেন? বড় হতে থাকলে মানুষের আচরণে কতনা বাধা আর প্রতিবন্ধকতা চলে আসে! ছোটদের কোন বাধা নেই! তারা সবকিছুই করতে পারে… এটা একটা কারণ হতে পারে… আমরা হয়ত স্বাধীনতাটাকে মিস করি…
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু…
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়।
অসম্ভব ভাল লেগেছে। ছোটবেলার অন্তরঙ্গ বন্ধুর
কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।এত ভাল একটি লেখার জন্য
আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।
Pingback: ফিরে দেখা ২০১০: আমার স্বপ্নময় জগত | আমার স্বপ্নময় জগত
লেখা ভাল্লাগলো…
গানটা খুব খুব প্রিয়!
ধন্যবাদ
গানটা অনেক ভাল্লাগতো আমারও…
ব্লগে স্বাগতম….
আজকে সকাল থেকে এই গানটা শুনতে ইচ্ছা করতেছে, শুনতেছিও , কিন্তু যে সিঙ্গারেরটা শুনতে ইচ্ছা করতেছিলো, তারটা খুঁজে পাচ্ছিনা