আজ হঠাৎ খুব মন খারাপ নিয়ে ঘুম ভাঙলো। পরীক্ষার আর মাত্র ৮ দিন বাকী, তেমন পড়াও হয়নি। এরকম অবস্থায় মন খারাপ প্রশ্রয় দেয়া অত্যন্ত বোকামি। এছাড়া আমি জানি, যেই কারণে মন খারাপ, সেই কারণ একসময় ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু জীবনের প্রাপ্তির খাতা থেকে যা হারিয়ে যাবে, তা আর কোনদিন ফেরত পাবো না…
জীবনটাই তো এমন! অনেক পাওয়া আর না পাওয়া দিয়ে ঘেরা… অনেক তৃপ্তি আর অতৃপ্তি মাখানো… তাকে তো আপন করে নিলে চলেনা! তাকে সাথে করে চলতে হতে হয়। এলোমেলো হয়ে গেলেও প্রস্তুত হতে হবে অনন্তের জন্য… সেটাতে ভুলে গেলে চলবেই না!
একটা কথা শুনেছিলাম, মেজ ভাইয়ার কাছে। ভাইয়া যেন অন্য কোন একটা রেফারেন্সে বলেছিলো, মনে নেই… কথাটা এরকমঃ
জীবনে যা ঘটেছে, তা ভালো হয়েছে। যা হচ্ছে, তা-ও ভালো হচ্ছে। আর ভবিষ্যতে যা ঘটবে, তা-ও ভালোই হবে।
এটাই জীবন… কত কিছু ঘটে যাবে! মনে হবে যেন বাঁধন-ছেঁড়া কষ্ট… কিন্তু সেটাকে গ্রহণ করে নিতে হবে। গতকাল এক আপুর মৃত্যুর খবর পেলাম যিনি দু’সন্তান রেখে গেছেন এই পৃথিবীতে। একজন দু’বছর, আরেকজন সাত মাস… তিনি কি কখনো জানতে পেরেছিলেন এভাবে এসময়েই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে? কখনো ভাবেন নি হয়ত… বছর তিন-চার আগে হয়েছিলো তার বিয়ে… হয়ত জীবনের অনেক অনেক স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেছে… ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাগুলো মায়ের আদরেরে মর্ম বুঝলোনা আর এই জীবনে…
জীবন কতনা অদ্ভূত! কখনও কত নির্মম!
আমাদের জীবনটাই যে এমন! কেউ তো জানিনা আমার যতি চিহ্ন কোথায়… কী নিয়ে দুঃখ করবো আমি? আজ হয়ত আমি অনেক সুখী, যদি আজই চলে যেতে হয় এই জগত ছেড়ে, তবে আমি কি প্রস্তুত যাওয়ার জন্য? আমি যতটুকু সুখে আছি, অনেকেই তো তার চাইতে খারাপ আছেন, তাইনা?
ছেলেবেলায় শোনা সেই গল্পের কথা মনে পড়ে গেলোঃ
এক লোক মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখেন তার জুতো জোড়া হারিয়ে গেছে। ভীষণ মন খারাপ করে তিনি পথ চলতে শুরু করলেন খালি পায়ে। কিছুদূর যাবার পর তিনি দেখলেন একজন ভিক্ষুককে যার দু’টো পা-ই নেই… তখন তার নিজের জুতো হারাবার দুঃখ ঘুচে গেলো… আমার তো অন্ততঃ দু’টো পা অক্ষত আছে! যাক না দু’জোড়া জুতো…
এটা মনে হয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর একটা কবিতায় পড়েছিলাম আমরা।
যা হারিয়ে গেছে আমার, তার চাইতে অনেক বেশি কিছু আমার কাছেই আছে। অনেকের কাছে সেটুকুও তো নেই! এটাই হয়ত আত্মিক শান্তি অর্জনের ভাবনা হওয়া উচিত। আর সেই শান্তির খোজেই তো আমরা ছুটে চলেছি জগতময়! যদি মনেই শান্তি পাওয়া যায়, তবে আর ক্ষতি কী?
আজ কিছু টিপস পেলাম ইন্টারনেটে, কীভাবে ভালো থাকা যায় সে বিষয়ে কিছু কথা, কীভাবে মনটাকে ভালো রাখা যাবে সে বিষয়ে কিছু কথা…
- নিজেকে কখনও অন্যের সাথে তুলনা করবেন না।
- নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত থাকুন। সবকিছুকে পজেটিভ ভাবে গ্রহন করতে চেষ্টা করুন।
- নিজেকে নিয়ে এবং কাছের মানুষদেরকে নিয়ে অনর্থক বেশি দুঃচিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, দুঃশ্চিন্তা কখনোই সমস্যার সমাধান করবেনা।
- নিছক আড্ডা দিয়ে সময়ের অপচয় করবেন না।
- শত্রুতা এবং অন্যের প্রতি ঘৃণা বজায় রাখবেন না। এতে কেবল দুঃশ্চিন্তা বাড়ে এবং মানসিক শান্তি নষ্ট হয়, যা আপনার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
- নিজের এবং অন্যের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিন, শিক্ষাকে মনে রাখুন, ভুলকে ভুলে যান। অতীতের ভুল নিয়ে অতিরিক্ত ঘাটাঘাটি করে তিক্ততা বাড়িয়ে বর্তমানের সুন্দর সময়কে নষ্ট করবেন না।
- মনে রাখবেন, জীবন একটি বিদ্যালয় যেখানে আপনি শিখতে এসেছেন। জীবনের যত সমস্যা তা এই বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত, এ নিয়ে তাই চিন্তা না করে বীজগণিতের মত সমাধানের চেষ্টা করুন।
- প্রচুর পরিমাণে হাসুন এবং সবসময় হাসিখুশী থাকার অভ্যাস করুন। সেই সাথে অন্যদেরকেও হাসিখুশী রাখতে চেষ্টা করুন।
- জীবনের সব ক্ষেত্রে জয় লাভ করা অসম্ভব। তাই হার মেনে নিতে প্রস্তুত থাকুন। এটাও আপনার একটা মানসিক বিজয়।
- অন্যের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করুন।
- অন্যেরা আপনাকে নিয়ে কি ভাববে তা নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই। নিজের কাজ করে যান আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
- সময়ের কাজ সময়ে করুন, কিছুতেই এখনকার কাজ পরে করার জন্যে ফেলে রাখবেন না।
- যেসব জিনিস চিত্তাকর্ষক ও আকর্ষণীয়, কিন্তু ও উপকারী নয়, তা থেকে দূরে থাকুন।
- সুসময় বা দুঃসময় যাই হোক না কেন, সবই বদলাবে, এটাই চিরন্তন নিয়ম, তাই কোনো কিছুতেই অতিরিক্ত উৎফুল্ল বা অতিরিক্ত দুঃখিত হবেন না।
অনেক তো শুনলাম… এবার শুধু একটা কথা বলতে চাই… মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেছেনঃ
তোমরা ধৈর্য্য ও সালাতের সাহায্যে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে আছেন।
(সূরা বাকারা)
আর আরেকটা কথা বলেই শেষ করতে চাই আজকের মতন… এটাও পবিত্র কুরআন থেকে নেয়া। আমরা মানুষ। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চেষ্টার পর আর কিছুই করার থাকেনা আমাদের… হৃদয়ে একটা শূণ্যতা সৃষ্টি হয় চাওয়া-পাওয়া নিয়ে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সেই জায়গায় কত সুন্দর করে তার অভিভাবকত্বের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন!
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তায়ালাই তার জন্য যথেষ্ট হবেন।
(সূরা তালাক)
এই স্বল্প সময়ের পৃথিবীতে যেন আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে বিদায় নিতে পারি সেই প্রার্থনা আমার সবার জন্য রইলো। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন, সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। সঠিক পথ তো সে-ই পায়, যে তার জন্য স্বপ্ন দেখে, চেষ্টা করে, হৃদয় যার লালায়িত থাকে মুক্তির প্রত্যাশায়……


hmm…dorkari post.mon kharap hole kaje lagbe.
thnx..
মন ভালো হলে কী হবে??
বাহ! অনেক অনেক লেখা দিয়েছেন দেখছি! আমার বোধহয় এক মাস হয়ে গেল ব্লগারে ঢুকিনি। যা হোক, পোস্টটা ভাল লাগল। আর কি কি জানি বলব, ভাবলাম, কিন্তু ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করছে……
হুমম… পড়াশোনা কর…
সময় করে ফিরে আসবে এই প্রত্যাশা রইলো…
নাহ, যেই ভালো লেখা এটা, ভালো না থেকে কোন উপায় নাই দেখছি!
তাই বুঝি ভাইজান?
আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম…
সুন্দর লেখা।ধন্যবাদ ফয়সাল ভাই।
ভাইরাসকে চিনতে পারলাম না যদিও……
ভালো লাগলো জেনে খুশি হলাম
ভাইরাস———–>শামীম……………
এই ব্লগে স্বাগতম হে শামীম
kob balo laglo arolikban
ব্লগে এসে পড়লেন বলে ভালো লাগলো…
Pingback: ফিরে দেখা ২০১০: আমার স্বপ্নময় জগত | আমার স্বপ্নময় জগত
লেখাটা আমার খুব ভাল লাগল । খুব ভাল ।
অপ্রাপ্তির বেদনা ভোলার সুত্রঃ
যা পেয়েছি তাও থাক, যা পাইনি তাও,
তুচ্ছ বলে যা চাইনি তাই মোরে দাও।