ইদানিং মাঝে মাঝেই আমার মনে হয়, এই সুন্দর পৃথিবীটা ছেড়ে, আমার প্রিয় চিরচেনা মুখগুলো ছেড়ে হয়ত কোন একদিন চলে যেতে হবে অজানার পানে। হয়ত চলে যেতে হবে অনন্তের পথে… আর ফিরে যাওয়া হবে না পুরোনো প্রিয় বন্ধুদের আড্ডায়, মায়ের আঁচলে মুখ মোছা হবেনা, আপুর সাথে অভিমান করে কষ্ট পাওয়া যাবেনা… মনে হলে বুকের কোণে একটা ব্যথা অনুভূত হয়… এই কবিতায় আমার এই অনুভূতিটার একটা প্রতিকৃতি খুঁজে পেয়েছি….

আর আসবো না বলে দুধের ওপরে ভাসা সর
চামোচে নিংড়ে নিয়ে চেয়ে আছি। বাইরে বৃষ্টির ধোঁয়া
যেন সাদা স্বপ্নের চাদর
বিছিয়েছে পৃথিবীতে।
কেন এতো বুক দোলে? আমি আর আসবো না বলে?
যদিও কাঁপছে হাত তবু ঠিক অভ্যেসের বশে
লিখছি অসংখ্য নাম চেনাজানা
সমস্ত কিছুর।
প্রতিটি নামের শেষে, আসবো না।
পাখি, আমি আসবো না।
নদী আমি আসবো না।
নারী, আর আসবো না, বোন।
আর আসবো না বলে মিছিলের প্রথম পতাকা
তুলে নিই হাতে।
আর আসবো না বলে
সংগঠিত করে তুলি মানুষের ভিতরে মানুষ।
কথার ভেতরে কথা গেঁথে দেওয়া, কেন?
আসবো না বলেই।
বুকের মধ্যে বুক ধরে রাখা, কেন?
আর আসবো না বলেই।
আজ অতৃপ্তির পাশে বিদায়ের বিষণ্ণ রুমালে
কে তুলে অক্ষর কালো, ‘আসবো না’
সুখ, আমি আসবো না।
দুঃখ, আমি আসবো না।
প্রেম, হে কাম, হে কবিতা আমার
তোমরা কি মাইল পোস্ট না ফেরার পথের ওপর?
———————————–
(সংকলিত কবিতা)
কবিঃ আল মাহমুদ
কাব্যগ্রন্থঃ সোনালি কাবিন





ধন্যবাদ মাহমুদ!
আপনাকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ আমার এই ছোট্ট অনাড়ম্বর ব্লগে এসে, পড়ে মন্তব্য করার জন্য…
চিন্তায় ফেলে দিলেন ভাই…..
কবিতাটি পড়ার পর একধরণের ঘোরের ভিতরে আছি! সত্যিই তো আমি আর আসবো না বলে কত কিছু করছি, কিন্তু একবারও উপলব্ধি করতে পারিনি……
ভাইরে,
জীবনের কথাগুলো নিয়েই আমাদের কবিতা রচিত হয়। এইটাও সেইরকম… আর সত্যিই তো আমরা ভেবে দেখিনা… আমি আর আসবো না…
আল মাহমুদ দারুণ একজন কবি!!
সাধারণত কবিতা পড়ি না তাই ধারণা কম। সেই কারণে আল মাহমুদ সম্পরকে ধারানা আর কম। আল মাহমুদের এই কবিতাটা খুব ভাল লাগল। ধন্যবাদ ফয়সল এই কবিতা পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ
ছবিটা সেইরকম!
এইটা আমাদের ভার্সিটি লাগোয়া “ভৈরব” নদী সংলগ্ন একটা গ্রামের পথ…
খুব সুন্দর মেঠো পথ…
কবিতাটা আগেও পড়েছি, কিন্তু এবার পড়ে মনে হল সত্যিই অসাধারন অনুভুতির প্রকাশ
Pingback: কবিতা এমন | আমার স্বপ্নময় জগত