তুমি আর আমি

তুমি ভুলে গেলে কি আর আমি ভুলে যাব?
আমি ভুলে গেলে কি আর তুমি ভুলে যাবে?
আমরা ভুলে গেলেই কি আর সবাই ভুলে যাবে?
সবাই ভুলে গেলেও কি আর সব মুছে যাবে?

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

শুদ্ধতম দিন : একটি বিক্ষিপ্ত স্মৃতি

জীবনের একটা শুদ্ধতম একটা দিনের কথা মনে পড়লো…
 
প্রচন্ড রোদে তাতিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ডাইনিং হলে লাঞ্চ সেরে তারিক হাউসের ১ নাম্বার রুমে ফিরলাম। যোহরের নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে গায়ে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবীতে ফিরে হাতে দু’টো বই এবং খাতা নিয়ে কমন রুমের কোণায় বসে গেলাম। আর মাত্র ক’দিন পরেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। মনের মধ্যে প্রচন্ড পড়ার তাগিদ, জগতের আর কিছুর প্রতিই কোন আসক্তি নেই, দুশ্চিন্তা নেই। খটর মটর শব্দে ন্যাশনাল ফ্যান ঘুরছে। পরিত্যক্ত টিটি টেবিলে আমি পড়তে বসলাম সর্বজ্ঞানীকে স্মরণ করে। অপার্থিব অনুভূতি, প্রশান্তি মনে, সামনে অনেকগুলো অক্ষর, জ্ঞান। আমি সমস্ত শক্তিকে একত্রিত করে মনোযোগ দিলাম সাদা পাতার উপরের কালো অক্ষরের বর্ণগুলোকে আত্মস্থ করতে…

সেই কিছু দিনগুলোতে আমি মিথ্যা বলতাম না, দিনে কোন গালি দিতাম না, কারো সম্পর্কে কোন ধারণাও পোষণ করতাম না, অকারণে অনর্থক কথাও বলতাম না। জীবনে ওইরকম সময় আর কখনো আসে নাই। আর কোনদিন আসবে বলে মনেও হয় না। আল্লাহর কাছে সেই শুদ্ধতম অনুভূতিগুলোকে ফিরে ফিরে চাইতে ইচ্ছা করে। জানি, সময় পেছনে যায়না। জানি, অশুদ্ধ কলঙ্কের মানবসত্ত্বায় শুদ্ধতা ও নিষ্কলুষতা আসে না, আর্তি হয়েই রয়ে যায়…

Posted in ব্লগর ব্লগর | 2 টি মন্তব্য

মাঝে মাঝে বেঁচে ওঠা



আমারও বড় ইচ্ছে ছিল সৃষ্টিশীল হব, গুছিয়ে রাখব আবেগ অনুভূতিদেরকে শব্দের খামে ভরে। ইচ্ছা ছিল কবিতা সন্ধ্যায় স্নিগ্ধতার কবিতা পড়ে চোখ বন্ধ করে সৃষ্ট শব্দদের অনুভব করার। চাওয়া ছিল জীবনানন্দ, রবিদা আর আল মাহমুদের বই হাতে উদাস মেঘলা বিকেলের কাব্যবিলাস…

যন্ত্রের পাশে থেকে যান্ত্রিক জীবনে এতটাই শুষে গেছি, ইচ্ছেগুলো নেই আর। জীবনের বাস্তবতাগুলোকে চারপাশে দেখলে আর চাওয়াগুলোকে আঁকড়ে ধরার মানসিক শক্তি পাইনা। জীবন যেন অপ্রকাশিত কবিতার পান্ডুলিপি হয়ে যায় কিছু ক্ষণে। আগ্রহভরে লিখে তাকে দুমড়ে মুচড়ে ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে ছুঁড়ে ফেলা সলজ্জ অস্বস্তিতে…

তবু কিছু অভিনব ক্ষণ থাকে, ক্ষয়ে যেতে যেত অযাচিতভাবে মাঝে মাঝে আচানক জেগে উঠি কিছু স্বপ্নের স্পর্শে। ওই জেগে ওঠাটুকুই আসলে আমার বেঁচে থাকা। বাকিটা আসলে মৃত্যুই…

Photo Courtesy : Google

Posted in ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

নীতিকথা আর এই সমাজে বিকোয় না


ছবি কৃতজ্ঞতাঃ নাভিল


নীতিকথা আর এই সমাজে বিকোয় না, যখন প্রতিটা তরুণ-তরুণীর মুখে প্রতিদিন কেবল সৌন্দর্য, যৌনাবেদনময়ীদের আলাপন, প্রসাধনের আদ্যোপান্ত, সেলিব্রিটিদের নিয়ে যত গল্প তার এক শতাংশও আসে না অন্যায়ের প্রতিবাদে, নতুন কিছু করার চিন্তায় বিভোর হওয়াতে, সমাধান বের করার প্রত্যয়ে…

জাতি হিসেবে যখন আমরা প্রায় সবাইই অর্থোপার্জনের ক্ষেত্রে পরোয়া করিনা দুর্নীতি-সুনীতির, নিজ চিন্তাকে/নিজেকে স্থাপন করতে প্রবল সাম্প্রদায়িক; সবচাইতে বড় কথা, অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা সবাইই প্রবল নিশ্চুপ আর গা এড়ানো মানসিকতার — মনে করি ওইটা আমার বিষয় না। অথচ একদিন সেই অন্যায়টাই আমাদের গায়ে এসে পড়ে, সেদিন ভিকটিম হওয়া ছাড়া গতি থাকে না। একটা সমাজে, একটা জনগোষ্ঠীতে অন্যায়ের চর্চাকে মুখ বুজে সহ্য করার অপর নাম তাকে প্রশ্রয় দেয়া…

বস্তত আমরা নিজেরাই আমাদের ধ্বংসকে ডেকে আনি, প্রতিটি অন্যায় আর অস্থিরতা মূলত আমাদেরই নিজেদের অর্জন। সমাজে বাস করি বলে আমরা অন্যের বিশাল অপরাধের ফলটা ভোগ করি — কেউ বেশি অপরাধ করলে বা কম করলেও আমরা পাই হয়ত গাণিতিক গড় করে… সামাজিক জীবনের তীব্র তিক্ত একটা বাস্তবতা এটি…

ছোটবেলায় শোনা কবিতার লাইনটা মনে পড়ে যায়,
“অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে,
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।”

তাছাড়া মার্টিন নেইমোলারের সেই অসাধারণ উক্তি আমি বারবার মনে করি, মানসচোখে বহূদূরে যা দেখতে পাই, তা খুবই ভীতিকর বলেই বারবার এই উক্তিটা মনে হয় –

First they came for the communists,
and I didn’t speak out because I wasn’t a communist.

Then they came for the socialists,
and I didn’t speak out because I wasn’t a socialist.

Then they came for the trade unionists,
and I didn’t speak out because I wasn’t a trade unionist.

Then they came for me,
and there was no one left to speak for me.

– Martin Niemöller (1892 – 1984)

Posted in উপলব্ধি | 2 টি মন্তব্য

সভ্যতায় অপলাপ



মাঝে মাঝে সব ভেঙ্গেচুরে ফেলতে ইচ্ছে করে। সমস্ত জঞ্জাল
সমস্ত অনিয়ম আর অনৈতিকতার শেকড় উপড়ে দিতে ইচ্ছে করে।

মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে সমস্ত সুন্দরকে হত্যা করি গলা টিপে
সুন্দরকে উপলব্ধির মানবাত্মাই নেই জগতে, ওদের থেকে লাভ কি?

মাঝে মাঝে নিজেকে শূণ্য করে দিতে ইচ্ছা করে। স্রেফ হারিয়ে যাওয়া।
এই শহুরে সভ্যতার মিছে প্রকান্ড মাঠে কাকতাড়ুয়া হয়ে দুলতে ভাল লাগেনা।

পদ্মাপাড়ের জীবনে ছিলো জোছনা রাতের স্বপ্ন, ছিলো বৃষ্টিতে ভেজার আর্তি
ইট-কাঠ-পাথর-কম্পিউটারের জীবন কেমন বিদঘুটে লাগে, প্রাণহীন সন্তরণ।


ঢাকা, প্রথম প্রহর
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

Posted in আউলা কথন, কবিতা | 3 টি মন্তব্য

প্রাণের স্পন্দনে

This slideshow requires JavaScript.

আজকের দিনটি ছিল বিগত কয়েক মাসের মধ্যে সেরা একটা দিন, আলহামদুলিল্লাহ।

আমার অস্তিত্বের শেকড় পদ্মাপাড়ের মোক্তারপুরে রেখে এসেছিলাম, তা প্রায়ই টের পাই। সময়ের সাথে তা বেড়ে যেন অশ্বত্থ হয়েছে, ডালপালা ছড়িয়ে গেছে দেশের এপ্রান্তে ওপ্রান্তে, বিশ্বজুড়ে। ফিরে পাই মাঝে মাঝেই।

পুরোনো বন্ধুদের এই ভালোবাসা অন্যরকম, এই আপন অনুভূতি অন্যরকম। ১৩ বছরের পুরোনো মুখগুলো, আমার ৫ বছরের রুমমেট দু’জনের সাথে দেখা হলো আজ। সেই স্মৃতিগুলোর রোমন্থন, আগের মতন হাসিমাখা কিছু সময়, অথচ একদম সবাই আগের মতন। কৈশোরে ফিরে যাওয়া হয়ে যায় একটা ঘণ্টাতেই।

ক’দিন ধরে মনে জমে থাকা নাগরিক জীবনের ক্লেদ, তিক্ততা নিমিষেই মিশে গেলো … এর নামই বোধকরি ভালোবাসা …

পুনশ্চঃ আজ প্রিয় বন্ধু আলীর জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সেই নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করতে আমরা ছুটে গিয়েছিলাম ঢাকার কোণে উত্তরায়। আল্লাহ তাদের এই পৃথিবীতে সুখী করুন, অনন্ত জীবনেও একসাথে শান্তিময় বাগানে ছুটে বেড়ানোর জন্য কবুল করে নিন।

Posted in স্মৃতিকথা | 3 টি মন্তব্য

গাংচিল


ছবি কৃতজ্ঞতাঃ গুগল।

আমার গাংচিল নিয়ে কোন তথ্য লেখার সম্ভাবনা নেই, নেই কোন সাহিত্য লেখারও সম্ভাবনা। তবে, এই শিরোনামটা আগেই ভেবে রেখেছিলাম। যখন গতকাল সেই একশ ফুট উঁচু থেকে জানালার পাশে ডানা মেলে নিরন্তর উড়ে যাওয়া চিলটাকে দেখছিলাম। বহুমুখী চাপের মাঝে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বিশাল মাঠের ওপর আপন কক্ষপথে ঘুরতে থাকা চিলটার দিকে তাকিয়ে হালকা হচ্ছিলাম নিজের অজান্তেই। কখন যেন নিজেকে চিলের মাঝে স্থানান্তর করে দিলাম, টেরই পাইনি। ওর চোখ দিয়ে আকাশে উড়ে দেখছিলাম মানুষগুলোকে — ছটফটে, কুৎসিত, উদাস, বিষাদক্লিষ্ট, আনন্দিত, স্বপ্নবাজ, বেদনাহত। এরকম আরো নানা রকম মানুষ।

সেই চিল ফেলে গাংচিল কেন মনে এলো তার কারণটাও বোধকরি বলতে পারবো। কারণ, আমি যেদিন কয়েক বছর আগে দারুচিনি দ্বীপে যাচ্ছিলাম দলবলসহ — সেদিন সমুদ্রে আমাদের জাহাজখানির পেছনে অমন গাংচিলেরা উড়ছিলো। ডানা মেলে যেন একটা প্রতিযোগিতা। আমি সবকিছু ভুলে অন্তহীন সমুদ্র আর গাংচিলের ওড়াওড়িতে হারিয়ে গিয়েছিলাম। Continue reading

Posted in ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন