ক্ষণজন্মা আকাঙ্ক্ষা

মাঝে মাঝে এত বেশি বিধ্বস্ত লাগে, এতটাই exhausted লাগে যে মনে হয় যদি সেইন্ট মার্টিনের জনমানবহীন পাড়ে একটা তাবু নিয়ে অন্তত ক’টা দিন থাকতে পারতাম! এই নাগরিক জীবনের চাপে পিষ্ট হয়ে শরীর-মন খিটখিটে হয়ে শক্ত হয়ে বসে আছি। আমাকে একটু অবসর দাও! অন্তত একটিবার!! মরে যেতে চাইনা, শুধু একটু অবসর। আমি বুকভরে শ্বাস নিয়ে যদি একটু নিঃশঙ্কোচে হাসতে পারতাম। একটিবার, আর তো চাপ সইতে পারেনা এই শরীর-মন-অন্তর!! কিছু জীবনে কখনো অ্যাডভেঞ্চার হয়না…

সময় বয়ে চলে, অনুভূতিরা ম্লান হয়, আতঙ্করা থেকে যায়। আতঙ্ক শক্তিশালী হতে থাকে ক্রমশঃ। তারা ডালপালা মেলে গভীর থেকে গভীরে শেকড় স্থাপন করে। আমি হঠাত অনিয়ত কান্না শুনি, কিছু সুন্দরের স্মৃতিচারণ করি, ফিরে ফিরে খুঁজি এই সমাজের, দেশের সহস্র মৃত্যু-খুন-জখমের মাঝে একচিলতে সুন্দর শব্দ, কোলাহলের মাঝে ক্ষণকালের বিমূর্ত সংগীতের মতন। হে আমার স্রষ্টা! এই ভয়ংকর বিবেকময় সমাজের মাঝে আমাদের দয়া করো। আমাদের মানুষগুলোকে পথের সন্ধান দাও, পশুত্বকে দেখে আর পারিনা ধৈর্য্যধারণ করতে!
Continue reading

Posted in অনুভূতির দর্শন | 2 টি মন্তব্য

ভ্রমকথা

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ শ্রদ্ধেয় Rushdi Shams স্যার [ফ্লিকার লিঙ্ক],
ছবির নামঃ A Momentary Lapse of Reason

—–
লিখতে বোধহয় ভুলেই যাচ্ছি। কত-শত দিন পর যেন লিখতে বসেছি! কেমন যেন আড়ষ্ট লাগছে। শীতে জমে গিয়ে আড়ষ্টতা না, বরং অনুভূতিদের জমে যাওয়ার অস্বাভাবিকতা। অথচ দু’চারটা কথা বুকের ভেতর খচখচ করে অনেকদিন ধরেই। তারা লেখার মতন শব্দস্রোত হয়ে আর ঝরে না বুকের ভেতর জমে ওঠা পাথরের শরীর বেয়ে ঝরে পড়া এই অনুভূতির ঝর্ণা বেয়ে… হ্যাঁ, পাথরই বৈকি! সময়ের সাথে সাথে, কালাতিক্রান্ত হয়ে, প্রকৃতিতে বেঁচে থাকায় স্রষ্টার দেয়া যোগ্যতার ফলশ্রুতিতেই একসময় নরম কাদামাটি জমে পাথর হয়। মাটির পৃথিবীতে হয়ত লাগে সহস্রাব্দ। কিন্তু মানব হৃদয়ের অনুভূতিতে তারা হয়ত কয়েক অব্দেই তা সহস্রাব্দের কাজ করে যায়। গত বছরের শেষটা, আর এই বছরের শেষটা — দু’য়ের মাঝে কতনা ব্যবধান। তার কয়েক বছর পেছনে ফিরে তাকালে তো এই আমার সাথে মেলাতেই পারিনা! যোজন-যোজন পার্থক্য এই দুই মানুষে!

এই জীবন! সুবহানাল্লাহ! এই জীবনকে নিয়ে আমার কত আয়োজন ছিলো! এই হৃদয় একসময় উর্বর মাটির মতন ছিলো। যা ভালোবেসেছি, যা নিয়ে মেতেছি — তাতেই এসেছিলো প্রাপ্তি। প্রচেষ্টা আর ভালোবাসার ফলন ছিলো। ভালোবাসতে, কারো জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে, অনুভূতিপ্রবণ হতে অস্বস্তি হয়নি ক্ষণকালের জন্যও। অথচ, কী নিদারুণ এই সময়। এই আমার আল্লাহর নিদর্শন। আজকাল হৃদয় যেন ক্রমে কঠিন হয়ে চলেছে। কোন স্বপ্নই আজ আমায় আর স্পর্শ করেনা যেন! চোখ বন্ধ করে কিছু পেতে ইচ্ছে করেনা! আমি বরাবরই এরকম ছিলাম কমবেশী। কিন্তু এ এক অন্যরকম ঔদাসীন্য। এই মৃত্তিকাসম হৃদয়কে আজকাল বিবশ নিরুদ্বিগ্ন পাথরের মতন লাগে। ক্রমাগত আঘাতে, খোঁচায়, ভীতির শীতলতা, সময়ের দুশ্চিন্তা, জীবিকার চাপে পিষ্ট হবার মতন নানাবিধ প্রাকৃতিক চাপ-তাপ-আঘাতে এই নরম মৃত্তিকার হৃদয়ও যেন আজ বিবশ পাথরের মতন হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
Continue reading

Posted in অনুভূতির দর্শন | 2 টি মন্তব্য

স্বাধীনতা, আমার স্বপ্নের স্বাধীনতা!

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ জেবা ইসলাম [ফ্লিকার লিঙ্ক] | ছবির নামঃ আমার বাংলাদেশ

—–

ফারাক্কা এসেছিলো,অনেক কিছু দিয়েছে। টিপাইমুখ এসেছে,সেও হয়ত সত্য হবে। অতি সম্মানিতদের হাত ধরে পাওয়ারপ্ল্যান্ট,পদ্মাসেতু,পাতালরেল আর উড়ালসেতুর আশাবাদ আসে। শুধু, আশ্বাসগুলো যাদের হাত ধরে আসে, তারা একটা সময় পরে দৃশ্যপটে থাকেনা — তাদের জীবনে তারা বিমানে চড়ে, নিউজার্সিতে ফ্ল্যাট কেনে, ছেলেমেয়েরা অক্সফোর্ড-হার্ভার্ড-বোস্টনে পড়ে। শেষজীবনে তারা একজন একজন করে মাটির নিচে ডুব দেন,নয়ত প্রথমবিশ্বের অ্যাপার্টমেন্টে বসে পত্রিকা হাতে অ্যাপেলজুস খান। শুধু কাঁটাতারে ঝুলতে থাকে ফেলানীরা,লাশ হয় বিডিআর সদস্যরা, শুকিয়ে যায় কপোতাক্ষ,প্রমত্তা পদ্মা অথবা বড়াল নদী। কখনো ফ্লাইওভার ফেটে পড়ে, লঞ্চ-ট্রেন উলটে যায়, প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে খুন হয় কোন নেতা, সখিনাবিবি আর করিমনদের সন্তানরা হারিয়ে যায় মাদকের টানে, পেটের দায়ে টাকার জন্য খুন হয়ে।

দুই জীবনের এই ব্যবধান আর ঘুচে না। প্রবঞ্চকরা খেলে দেশ নিয়ে, জন্মচামচারা তেল দেয় আমৃত্যু। অসহায়েরা আহাজারি করে–সেও এই দেশ নিয়েই; আর তাদের দুঃস্বপ্ন হওয়া সন্তানদের নিয়ে। তারপর একদিন,অপমৃত্যুর সংখ্যায় ১ যোগ হয়। হতভাগা দেশটা, আর তার মানুষগুলো শুধু ছিঁড়ে-ছিবড়ে যেতে থাকে, ইতিহাসে বাড়তে থাকে স্বাধীনতার ৩০,৪০,৫০… বছরপূর্তির উদযাপন। কেক কাটা,কবুতর ওড়ানো…

অথচ, সেই “স্বপ্নের স্বাধীনতা” আর যে আসে না…

Posted in দেশভাবনা | Tagged , , | 5 টি মন্তব্য

বিচ্ছিন্ন আবেগ



আর কত লিখবো? ইচ্ছে করে সবগুলো লেখাকে গলা টিপে হত্যা করি।
প্রতিটি শব্দকে নখরের আঁচড়ে ফালাফালা করে পঙ্গু করি অনুভূতির আত্মাকে।
এ আমার জিঘাংসা, এ আমার অপরিণত ভালোবাসার অভিক্ষেপ।
আমি জানি আমি আমার সামনেই বারংবার নতজানু হই।

কী হবে এই অনুভূতিদের দিয়ে, যখন অনুভূতিরা অপসৃয়মান সূর্যের মতন।
ভালোবাসারা ছিটকে বের হয়ে আসে হৃদয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে।
বেলা শেষে লজ্জায় আর অধোবদনে ফিরে যায় ছোট্ট কুঠুরিতে
যেখানে অনেক সীমানা, অনেক নিয়মের বাগান সাজানো।

Continue reading

Posted in কবিতা | 5 টি মন্তব্য

১১/১১/১১


আজকের দিনখানা নিয়া মানুষজন বিয়াপক চিন্তাক্লিষ্ট। ইরাম [এইরকম] বাইনারি নাম্বারওয়ালা তারিখ নাকি অনেক বছর আইসবে না। সিরাম [সেইরকম] সুন্দর তারিখ আইজকে। স্মৃতিময় করিয়া রাখিতে অনেকের বিয়াপক আগ্রহ লক্ষ্য করিলাম।

লিখিবার কুনু সাধ নাইক্কা। নিতান্ত একখানা লাঠি পুঁতিবার আশায় কীবোর্ড চাপিতেছি। বাঁচিয়া থাকিলে “পার্ট” লইবো জনসাধারণের নিকট — আমি ছয়খানা ১ [এক] তারিখে একখানি ব্লগপোস্ট পয়দা করিয়াছিলাম, সেইদিন সুন্দরী ঐশ্বরিয়া একখানা সন্তান পয়দা করিয়াছিলো :P
শুনিলাম ঐশ্বরিয়া রাই ওরফে ঐশ্বরিয়া বচ্চন তাহার সন্তান আজকে ভুমিষ্ঠ না হইলেও জোরপূর্বক এই ধরাতে আনয়ন করিবেন।
Continue reading

Posted in এলোমেলো দিনলিপি | 9 টি মন্তব্য

আর্তনাদ | ৫


নীল আশার আর্তি কেন অমন হয়
বিস্তীর্ণ বর্ষায় ভিজে যায় উদাস দুপুর
কেন ফিরে ফিরে যাই তোমার কাছে
আমার অসহায় অনুভূতিদের একাকীত্বে

আমি বারংবার ভেসে যেতে চেয়েছি
নীল সায়রের টানে
আমি তোমাতে ঘিরে আবর্তিত হতে চেয়েছি
কোন এক বিদগ্ধ সংগীতের সুরের মূর্ছনা মাঝে

আমি ফিরে ফিরে চেয়েছি অজস্র তারার আলোয়
এক চিলতে স্বপ্নের রেখার কোলাহল
আমার জীবনের মাঝে এই নক্ষত্রালোকে
এক কৃষ্ণগহবর আছে তুমি জানো?
Continue reading

Posted in আউলা কথন, কবিতা | 4 টি মন্তব্য

হারিয়ে যাওয়া


আচ্ছা, হারিয়ে যাওয়া কাকে বলে? যে আশেপাশেই ছিলো, যা আশেপাশেই ছিলো — সে হঠাৎ করেই নাই হয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়াকে তাইনা? সে কোথায় চলে গেলে হারিয়ে যাওয়া হবে? যখন আমি সে জানিনা সে কোথায় গেছে, তখনই কেবল হারিয়ে যাওয়া হয়। যদি জানি সে কোথায় গেছে, আছে — তাহলে তো হারানো হয়না তাইনা? যদি সে আমাকে না বলে চলে যায় তবে? অথবা সে ছিলো, আচানক নাই হয়ে গেলো — তাহলেও কি হারিয়ে যাওয়া নয়?

আমি হারিয়ে যাওয়া নিয়ে কেন এত কথা বলছি? শিরোনামটাই বা কেন ভাববাচ্যে দিলাম? কারণ বিশেষ কিছু না। স্রেফ জীবনের একটা সময়ে এসে থাকা, হারানো, পাওয়া জাতীয় জিনিস বেলা শেষেই মাথায় প্রস্তরাঘাত করে। হঠাৎ সেই ক্যাডেট কলেজের দিনগুলোর কথা মনে পড়লো। সেই ভয়ংকর চাপ, সেই মানসিক যন্ত্রণা আর যুদ্ধগুলো। ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র মানবসৃষ্ট জীবনযুদ্ধ — কিন্তু তার আকার আকৃতি আর তীব্রতা একদম কম ছিলোনা। তখন মনে হতো — এইতো আর ক’টা দিন, তারপর সমস্ত স্বপ্নেরাই পূর্ণ হবে। হয়নি… সেখান থেকে ফিরে ভৈরবপাড়ের তেলিগাতি গ্রামের প্রতিষ্ঠানটিতে কাটিয়ে এসেছিলাম অনেকগুলো বছর। আর কখনই জীবনের প্রতি সিরিয়াস হইনি। হতে পারিনি। একটা কিছু পেতে অনেক কিছু ছেড়েছুড়ে পেতে ইচ্ছে করেনি। আমি ‘সুপারফিশিয়াল’ হয়েই কাটিয়ে দিয়েছি আমার জীবনটা। এতটা ভয় পেয়েছিলাম! আমি জানতাম আমার আন্তরিকতাতে খাদ ছিলোনা, স্বয়ং আল্লাহ আমাকে নিজেই এমন কিছু জাল তৈরি করে ঘটনাগুলোকে বানিয়ে দিলেন — যা ছিন্ন করার সামর্থ্য আর বোধগম্যতার অবকাশ অবধি আমার ছিলোনা! তাতে কী? সময় তো থেমে থাকেনি, থেমে থাকেও না।
Continue reading

Posted in এলোমেলো দিনলিপি | 3 টি মন্তব্য