হয়ত অন্য কেউ

misty

এই তীব্র স্থিতির মাঝে গতিটাকেই কেমন বেখাপ্পা লাগে।
ভেবে দ্যাখো, আমার শব্দগুলোও কি বেখাপ্পা আর অদ্ভুত?
আমার শত-সহস্র বাক্যগুলো, অনুভূতিদের ছড়িয়ে থাকা কত!
তবু আমার গভীরতম কথা নাকি প্রকাশিত হয় না।

আমার আবেগের গহীনতম শব্দগুলো নাকি অর্থ বয়ে নেয় না।
ছোট্ট এই জীবনের যেখানেই হাত বাড়াই, আমি হেরে যাই।
এই তো কতবার বদলেছি দেখার বাতায়ন, বদলেছি দৃশ্যপট,
অথচ কেন বারবার লজ্জায় নুয়ে পড়তে বাধ্য হই অসহায় হয়ে?

অদৃশ্য পিঞ্জরের এপাশে আমার একলা বসবাস অহর্নিশ।
জানি এই ফেলে যাওয়া দুপুর আর কোনদিন আসবে না।
জানি এই কার্তিকের সন্ধ্যার বিষাদের কবর এখানেই।
জীবন খুবই ক্ষুদ্র, যে যায়, যারা যায়; চিরতরেই যায়।

হাজারবার ভেবেছি জীবনে এই তো শেষ, এই তো!
এই মহাকাব্যের যেন শেষ নেই। প্রতিটি শব্দ বয়ে যায়
তপ্ত অশ্রুধারা আর বক্ষপিঞ্জরের ভেতরে অগ্ন্যুৎপাতের পর।
এ আমার অনুভূতিমালা, আমার নিঃশব্দ বচন, নিশ্চুপ কোলাহল।

বলো তো, বছরের পর বছর ধরে বলা আমার শব্দগুলো
কেমন করে এতটা অর্থহীন বোধ হতে পারে?
কী গভীর যন্ত্রণা সে প্রতিটি শৃঙ্খলাবদ্ধ আবেগের প্রকাশে
তার হিসেব হবে কোন খাতায়? কবে, কোথায়, কেমন করে?

শূণ্য দিয়ে পূর্ণ করি আমার রিক্ততার ডালা।
অঘ্রাণে সেই মেঠো পথের গন্ধে আমার জীবনটা,
পরাবাস্তব জগতের স্বপ্নগুলো, তিক্ত আর কটু স্বাদ;
অনবরত মুচড়ে ওঠা বুক, হেসে ভুলে যাওয়া।

এমনি করে ভুলে যেতে যেতে ক্লান্ত হই, তবু উন্মত্ত হতে পারিনা।
হাসিমুখ পথ চলি, কিছুমিছু জোগাড় করার ন্যুনতম প্রচেষ্টা।
আমি রিক্ত ছিলাম, আছি, থাকবো হয়ত। আমার রিক্ততা
আমাকে করেছে পড়ে থাকা মেরুদন্ডহীন কেঁচোর মতন।

হয়ত একদিন মানুষ হবো, একজন সত্যিকার মানুষ।
ক্ষতবিক্ষত দেহ-প্রাণের আমি নই, সেই শৈশবের আমি।
মেঠোপথে ভেজা শিশিরে পা গলিয়ে ধনেপাতার ক্ষেতে পাশে
নানীর আঙ্গুল ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলা সেই আমার মতন কেউ…

হয়ত সে কেবলই স্মৃতি, অথবা বিভ্রম?
অথবা আমি নই! সে হয়ত অন্য কেউ…

Posted in কবিতা, ব্লগর ব্লগর | মন্তব্য দিন

নীল

onioto

তখন সন্ধ্যা নাকি বিকেল মনে নেই। আবছা আলো, স্মৃতির চাইতে বেশি ঘোর সঙ্গী। কোথাও কোন শব্দ হচ্ছিলো একটানা, যান্ত্রিক শব্দ। হুলুস্থূল চিৎকার, বেদনাহত মানুষের আহাজারি, রিকসার ক্রিং-ক্রিং বেলের শব্দ, একটা বাচ্চা ছেলের কন্ঠে মা-সংক্রান্ত খিস্তি, মোবাইলে বেজে যাওয়া অনবরত হিন্দি গান। বৃষ্টির শব্দও আছে, একটানা ঝরে যাওয়া। ঝরে যায় ক্রমাগত। এই পথের কোন ভবনের জানালায় কিশোরি পর্দা সরিয়ে তাকিয়ে আছে আনমনে এমনই পথে। দোকানে জ্বলে উঠেছে এনার্জি সেভিং ল্যাম্প।

এমন অনেক মূহুর্ত থাকে প্রতিদিনই। মানুষের মনের দৃশ্যগুলো অন্যরকম হয়ত। ঝরে যায় বৃষ্টি, ঝরে যায় অনুভূতি, ঝরে যায় স্মৃতি। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় অনেক তীব্র অনুভূতিরাও জাঁকিয়ে ওঠে, মাটির সোঁদা গন্ধে হয়ত মস্তিষ্কের ভিতরে অনাহূত যন্ত্রণা জেগে ওঠে। চোখের সামনের দৃশ্য ঝাপসা হয়ে ওঠে, ম্লান হয় বোধ, নিঃশ্বাস গাঢ়…

হেঁটে যাওয়া এই পথ, ঝরে যাওয়া বৃষ্টি। হয়ত পথের শেষ আছে, হয়ত নেই। এই পথ ধরে হেঁটে গেলে ক্লান্তি থাকে হয়ত, হয়ত থাকে না। এই দৃশ্যগুলো হয়ত বিভ্রম, হয়ত না। মানুষে মানুষে আর জনে জনে বোধের জগতে নানান রঙের বিক্ষেপ। অনুভূতিদের হয়ত আলাদা তরঙ্গ আছে, তারা কেবল তাতেই সঞ্চারিত হয়। পাপাচারী আত্মার তরঙ্গ হয়ত প্রশান্ত হৃদয়ের তরঙ্গের চাইতে ভিন্ন। তাদের পথ আলাদা, তারা কেউ কাউকে স্পর্শও করে না। ভিন্ন দ্যোতনায়, ভিন্ন মাত্রায় সঞ্চারণ। বেঁচে থাকার অমোঘ বাস্তব কিছু নিঃসরণ।

বৃষ্টি ঝরে চলেছে গ্রামের মেঠোপথেও। লাল ইট বিছানো, খোয়ার স্তূপের পাশ দিয়ে ট্রাক চলা পথের ভেঙ্গে যাওয়া এই রাস্তা এঁকেবেঁকে যায় বিশাল ভিটে পার করে। রাস্তার পাশেই বড় বটগাছ, আজকাল দেখা যায় না। আগামীতে হয়ত থাকবে না। অনুভূতিরাও কি এভাবে হারায়? আবার, শতবর্ষী এইরকম বটের ছায়ায় হয়ত অনেক মানুষ নিয়েছে ছায়া, অনেক কিশোরের হাতের লাঠি আঘাত করেছে বৃদ্ধ বটের গায়ে। সে তবু আগের মতন আছে, অপরিবর্তিত। বয়স হয়েছে, ঠায় দাঁড়িয়ে সে দেখে গেছে মানুষের কাজ। কত মানুষও এমন বটের মত, দীর্ঘকাল দেখে চলে। চারপাশ বদলায়, তার মাঝেও পরিবর্তন আসে। শাখা-প্রশাখা মেলে ধরে বড় হয়। আয়ুষ্কাল কমতে থাকে বলে একসময় শক্তিও কমে যায়। বার্ধক্য গ্রাস করে ধরে।

কত কিছুই বদলে যায়। একই রকম সন্ধ্যা-রাতের আগমন ঘটেছে সৃষ্টির শুরু থেকেই। আলাদা কীসে প্রতিটি দিন, কোন মানুষের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হয়? কেমন করে সুখী হয় কেউ, দুখী হয়। বটের ধরে থাকা, আঁকড়ে রাখা মাটিতেই মিশে যায় গোটা গ্রামের একের পর এক মানুষ। জন্মে যাওয়া, দৌড়ে চলা, উদ্ধত যৌবন, ম্রীয়মান বার্ধ্যকের পরে মিশে যায় মাটিতে। এক অবিন্যস্ত আত্মার উড়ে চলা ইতস্তত তীব্র ধাক্কায় বয়ে চলা অশ্রুধারা, নীলাভ বেদনা, নীল নীল যন্ত্রণার নখর, প্রচেষ্টা আর ঘটনার অনির্বন্ধ পরিণতি। কিছু হয়, কিছু করে কেউ, কিছু অনড়, কিছু হয়ত অভিশপ্ত, কিছু হয়ত সুযোগ, কিছু বিরতিহীন যন্ত্রনার তুচ্ছার্থক ফল। সবই সময়ের, ফলাফল ভিন্ন। কোন মাপনযন্ত্রে মাপে কে? অসহায়ের চিতকারে কার কী আসে যায়?

নীলাভ্র পাহাড়ের চূড়া, শীতল সুউচ্চ পর্বতারোহণ, সুতীব্র ঝড়ো বাতাস, ছাইচাপা আর্তনাদ, পুড়ে যাওয়া তাঁবুর ধোঁয়া, অদৃশ্য অশরীরি আত্মার মরীচীকার মতন বয়ে চলা, নীল অনুভূতি, নীল আসক্তি, নীল অবগাহন, নীল পারমিতা, নীল অভিশাপ, নীলের বন্ধন, নীল চিৎকার, অবনীল, সুনীল, নীলিমার নীতিহীন অনুভূতির নখরাভিজান। অন্য কোন নীলের প্রবাহ জাগায় কি কোথাও অন্য কোন অন্তরে, নতুন কোন নীলাম্বরীর প্রাণে নীল বিষাক্ততা? কে জানে এই বেদনানীল কাব্যের কোন শেষ পংক্তি আছে কিনা, নাকি হঠাৎ এই শত-সহস্র শব্দ নিরর্থক আঁচড় হয়ে রবে, হয়ত কবির স্থান হবে অবাঞ্ছিত কাতারে, অচ্ছুৎ যন্ত্রণা!!

Posted in ব্লগর ব্লগর | ১ টি মন্তব্য

অরণ্যাকাশ



সুপ্রভা, তুমি কি আকাশের গল্প শুনেছিলে? না না, আমি বন্ধু আকাশের কথা বলছি না। আমি বলছি নীল আকাশের কথা। সে তো আজ সারাদিন কেমন কালো হয়ে ছিলো। সকালে ছিলো তীব্র রোদ, এরপর থেকেই বিষণ্ণ আকাশ। ওর বিষণ্ণতা কেন জানিনা। তপ্ততার সাথে মেঘকালো বিষণ্ণতা মিলে কষ্টকর এক আবহাওয়া ছিলো। আমার মনেরটা কেমন ছিলো জানো? ধুরর! আমি আশাও করিনা তুমি জানবে। কী হবে সব জেনে? জানলে কি আর বৃষ্টি নামাতে পারবে? আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টিতে স্নাত হবার দরকার আমার। আমি তো চেয়েছি রোদের গন্ধ মুছে ফেলে শুদ্ধ হবো। শুদ্ধির স্পর্শে আমি পবিত্র হবো। এসবই আমার প্রলাপ। আজীবনের প্রলাপেই আমার উপায়।

অরণ্যের কথা শুনেছিলে? অরণ্য আমার মতন। কেউ তার কথা শুনে না। গাছগুলোর মাঝে প্রবল বাতাস বয়ে গেলে কেমন শোঁ-শোঁ শব্দ হয়, তাইনা? কড়কড় করে কোন গাছের শাখা হয়ত ভেঙ্গে পড়ে। আমার হৃদয়ও কি কম ভাঙ্গে অমন করে? আমার মনের ভাঙ্গনে কড়কড় না, মটমট করে ভাঙ্গে। প্রতিটি জোড়, প্রতিটি বন্ধন যেন খন্ডিত হয়ে যায়। আমি আর আমার টুকরো হওয়া — এরই মাঝে অরণ্যের ভালোবাসা। তুমি তো অরণ্য চেন না, তাইনা? তুমি মনে হয় সমুদ্র চেন, ঠিক বলেছি?

সমুদ্রের মাঝে আমি নেই। ঐ বিশালতার মাঝে আমার দু’চার ফোঁটা অশ্রুর লোনাজল মিশে থাকতেও পারে। একবার ভৈরবে আমার চোখের জল ফেলেছিলাম। সেই নদী হয়ত তোমার চেনা সমুদ্রে আমার অশ্রুফোঁটাকে বয়ে গিয়ে গেছে। সমুদ্রের লবনাক্ততার মাঝে হয়ত আমার অশ্রুর লোনাজল মিশে গেছে। তুমি তো সেসব বুঝো না।

ওসব আকাশ, অরণ্য আর সমুদ্রের গল্প আমার এই কাঠ-কাঁচ ঘেরা প্রকোষ্ঠে অর্থহীন। আমি এক প্রলাপময় জীবনকে ধারণ করি। অর্থহীন তিক্ত আলাপই আমার জীবন। এসব কথা আর নতুন কী? আমার জীবন অমনই রবে। নতুনত্ব বলতে কোন কিছু আমি চিনিনা। দেখোনি তুমি? কয়েক বছরই হয়ত হলো এসব প্রলাপ লিখিনি আমি।

আরো অনেক কিছু লেখার মতন ছিলো। সময় নেই। মাথা প্রচন্ড ব্যথা। কাল রাত থেকেই এই ব্যথা আমাকে কাবু করে ফেলেছে। ভালোও লাগে না যত্ন নিতে। যত্ন নেবার অনেক কিছুই বাকি। বেঁচে থাকলে শরীরের মতন আরো কয়েক হালি বিষয় আছে যার প্রতিনিয়ত যত্ন দরকার। সময় নেই, সুযোগও নেই সেই কারণেই। অনেকদিন চিঠিও লেখাও হয়না সেই সূত্র ধরেই। ভালো লাগছে না কিচ্ছু। কী করবো জানিনা। অনেকদিন হলো আমার বই পড়তে ভালো লাগে না, টেলিভিশন ভালো লাগে না, ফেসবুক-টুইটারেও লগিন করিনা। মাঝে মাঝে আকাশ দেখি, দুপুরের আকাশ। অফিস থেকে বের হয়ে গিয়ে দেখি। রাতে বাসায় ফেরার পরে বিছানায় শুয়ে পড়ি আধামরার মতন। সিলিং-টা দেখি। এই সিলিংকে চিনি আমি অনেককাল ধরে… অ-নে-ক দিন ধরে।

লিখতে বিরক্ত লাগছে। যাই এবার। একটা রিকসা নিয়ে সোজা ঘরে যাবো। আলো নিভিয়ে দপদপ করা মাথার শিরা-উপশিরাদের অনুভব করবো। যখন মরে যাবো, অমনই এক অন্ধকার ঘরে থাকতে হবে। তখনো কি বুক এমন রবে? অনেক আতঙ্ক থাকবে, তাইনা? আমি কি আরো প্রশান্ত হতে পারিনা? চেষ্টা তো করি হয়ত, তবু কেন হয়না? আসলে হয়ত চেষ্টাই করিনা। সবই আমার ভ্রম, সবই হয়ত আমার অরণ্যাকাশের কথা ভেবে চলা কিছু বিচিত্র কল্পনা।

বিদায়ের কোন কথা লিখতে ভালো লাগে না। সম্ভাসনগুলো ক্লান্তিকর। এখন তবে নামহীন বিদায়, আচ্ছা?

Posted in চিঠি | মন্তব্য দিন

অনুরণ


তীব্র রোদ, অসহায় দু’টি পা
অস্থিরতার কোলাহলে কেটে যাওয়া সময়
একটি দিন, নির্বিষ অজস্র মূহুর্ত।
হারিয়ে যাওয়া এক একটি দিন,
এমন অদৃশ্য শেকলে বন্দী থাকা আর সহ্য হয়না।

পড়ন্ত বিকেলের রোদ্দুর
একের পর এক বিবষ বেলা,
আমার হারানো শব্দগুলো
হুল ফোঁটায় অনুভূতির ত্বকে।

অপেক্ষার অনুরণ কেটে যাওয়ার আশ্বাস।
দুঃস্বপ্নের এমন কিছু ছিন্নজালে ডুবে থাকা
তবু হাসিমুখে কৃতজ্ঞতা।
সবকিছু তো দৃষ্টিভঙ্গিই বটে!

Posted in কবিতা | মন্তব্য দিন

কোন আগমন


অন্তমিল-ছন্দ-মাত্রা সব অনেক আগেই ভুলেছি।
কাব্যকে বিদায় দিয়ে কি অনেক বিমর্ষ আমি? জানিনা তো!
শীতের তীব্রতায় ঠকঠক করে কাঁপন,অনেক পুরোনো কাঁপন।
আচ্ছা, এ কি শুধুই শীতের কাঁপন? আবেগের নয় তো? কষ্টে গুমরে ওঠা?

চোখের পাতায় জমে আসে শিশিরবিন্দু, এক দু’ফোঁটায়, কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে।
এ হয়ত শুধুই শিশির নয়, অশ্রুবিন্দুগুলো অগোচরে জমে যায় চোখের পাতায়।
শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে ধোঁয়া হয়ে বেরিয়ে আসে নিঃশ্বাস,
দীর্ঘশ্বাস নয় তো? কুয়াশার চাদর পেরিয়ে রোদ্দুরের প্রতীক্ষায় অধীর হয়ে থাকা?

স্রোতহীন বদ্ধ জলাধারের মতন জীবন, চাওয়া-পাওয়া ভুলে কেবল অপেক্ষা।
হয়ত সবশেষে এই কুয়াশার চাদরে শীতলতায় স্তব্ধ হয়েই চিরবিদায় হবে।
অথবা, হয়ত এর অবসান হবে কোন রোদ্দুরের আগমনে; হয়ত হবে না।
কিছু হোক কিংবা না হোক, বয়ে যাবে সময়। শীত-গ্রীষ্মের হিসেব তাতে অনর্থক।

Posted in কবিতা | মন্তব্য দিন

নিরর্থক


নিরর্থক সময় কাটানো, নিরর্থক শব্দ লেখা এই জীবনে আমার নতুন কিছু না। এমনটা হয় অনেক, হতেই থাকে… হচ্ছে অনেকদিন, হয়ত হবেও… আমার হয়ত নিয়তিই এমন। এই কথাটা লোকে যেভাবে বুঝবে, আমি তেমন করে লিখিনি। নিয়তি শব্দটা আমি বিশেষার্থে ব্যবহার করি। সেইটা সবার বোঝার দরকার নাই।

অন্ধকার এই নিশুতি রাতে, আমি বাথরুমের বালতিতে টপটপ করে পানি পড়ার শব্দ শুনছি। কিন্তু, তাতে কি? তাতে কিছুই না। আমার আজ ভর করেছে অশরীরি কিছু। ব্যাখ্যাহীন, এক অনন্যসাধারণ যন্ত্রণা। আমি দেখতে দেখতে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। এই টেবিল, এই বইগুলো, এই জীবনের চিন্তা আর চাওয়াগুলো আমি সাজিয়ে রেখেছি অনেককাল ধরে। না পারি ভেঙ্গে ফেলতে, না পারি নতুন কিছু করতে। কারণ, নতুন কিছু সাজিয়ে রাখার স্থান নেই এখানে। আর, ভেঙ্গে ফেলতেও পারিনা। আমি তো ধ্বংস করতে শিখিনি। আমি তো গড়বো বলেই আজীবন দৃপ্ত প্রত্যয় করেছিলাম নিজের সাথে।
Continue reading

Posted in আউলা কথন | 2 টি মন্তব্য

কী পড়লাম এত বছর ধরে? কেন?


যে জিনিসটা আমাকে খুব পীড়া দেয় তা হলো, একটা ১৬ বছরের বিশাল শিক্ষাজীবনে আমাদেরকে মূলত টাকার মেশিন বানাতেই তৈরি করা হয়েছে। অনেকের জীবনে খোঁজ নিয়ে দেখেছি হাতে গোণা কয়েকজন হাইস্কুল শিক্ষক কেবল কিছু ‘মানুষ’ হিসেবে বড় করতে চেষ্টা করেছেন, তাতেই যা হয়েছে। ঘুণে ধরে জীর্ণ ভঙ্গুর বিবেক ও নীতিবোধের এই দেশের পেছনে এই জীবনটাকেই আমার সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে হয়।

খুব কম মানুষ বিশ্বাস করে সে মারা যাবে। এই মূহুর্তে যারা এই লেখা পড়ছে, নিজেকে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন, আপনি এই মূহুর্তে কি বিশ্বাস করছেন যে আপনি সত্যিই মারা যাবেন? আপনি কি একটুও প্রস্তুতি নিয়েছেন সেই নিশ্চিত ঘটনাটার জন্য? একটুও? কেউ সম্ভবত কোন কাজের আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করে না, কেন কাজটা করছি, এতে কারো ক্ষতি হবে কিনা। আমি একাই খেয়ে আর ভোগ করে গেলাম, গোটা সমাজে যারা না খেয়ে, প্রচন্ড কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তাদের কী হবে — এমন চিন্তা মনে হয় খুব কম শিক্ষার্থী করতে শিখে।

আমার মাথায় আসে না একটা গোটা শিক্ষাক্রম কীভাবে কেন শুধু টাকার পেছনে ছুটতে তৈরি করা হয়েছে। পৃথিবীর মাটির উপরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো যখন উন্নতির একমাত্র তুলাদন্ডকে টাকা ধরে নিয়ে দৌড়াতে থাকে, তখন তো সেখানে মনুষ্যত্ববোধ, পরোপকার, ভালোবাসার জায়গাগুলো অহংবোধ, ব্যক্তিতান্ত্রিক ভোগবাদিতা আর অন্যদের প্রতি ঘৃণায় পরিণত হবেই।

গোটা পৃথিবীতে খুব খারাপ একটা সময় আসন্ন। তবে, মানুষেরা, যে ক’জনই হোক, যদি জেগে ওঠে, একটু বদলায় নিজেদের — আশা করা যায় কিছু লোকের অথবা কিছুটা ভোগান্তি কম হবে। তা না হলে, নিশ্চিত যে মৃত্যু, সে সবার কাছে বহুরূপী চেহারায়, বহুমুখী যন্ত্রণায় ছুঁয়ে দিয়ে যাবে। সিকিউরিটি, ব্র্যান্ডেড টুলস, ভালো ডাক্তারের লিঙ্ক আসলে কখনই তেমন কিছু করতে পারে না। মানুষের ক্ষমতা খুবই কম, মানুষ খুবই দুর্বল। রোগে পড়া বিছানায় কাতরানো মানুষকে দেখলে, অথবা মরে যাওয়া লাশটাকে দেখলে এই বিষয়টা স্পষ্ট উপলব্ধি হয়…

Posted in উপলব্ধি | ১ টি মন্তব্য

অনুপ্রাস

meghla_din

উত্তাল রাজপথ মাড়িয়ে এলাম,
কারো ভেতর উন্মাদনা, কারো হাতে অস্ত্র
কারো ভেতর তপ্ত জিঘাংসা, কেউ ভীত-সচকিত
আমি নির্বিকার নিস্তব্ধ, আমি চিন্তিত-করুণাদগ্ধ।
যেন তেমন কেউ মনে হয় জানেনা কেন এ জীবন,
চোখ মুদলেই অন্যরকম অভিযাত্রা, খুব সহজ নয়।

শীতের সকালে আমি আলোর ভিন্ন প্রতিসরণ পাই, স্মৃতির।
ছোটবেলার গ্রামের ভেজা ঘাসে হেঁটে যাওয়া পা ভিজিয়ে।
রুপসা চপ্পলটা একটা কঁচ-কঁচ শব্দ তুলে সঙ্গী হয়।
ধনেপাতার খেত, সরু আইলের মাঝে হেঁতে যাওয়া
সামনের হলুদ সরিসার খেতের সামনে গিয়ে বুক কেমন করে ওঠে।

স্মৃতিগুলো আবছা তবু শক্তিশালী। আমি ফিরে পাই অনুভূতি
এই জীবনটা অমন যেন স্মৃতিই, এই বর্তমান, অতীতগুলো।
আমার আর্তি ছিলো মিষ্টি রোদ্দুরের স্পর্শে কাটানো সকাল,
মুগ্ধ কেটে যাওয়া কয়েক ঘন্টা, বাতাসের ঝাপটা, সুখস্মৃতি।
চাওয়াগুলো না পাওয়ার মাঝে খা-খা অনুভূতি কি আছে?
এইতো ভোরেই কপালটা স্পর্শ করার বেলায় মনে হলো
আমরা তো পেতে আসিনি, পেতে চাই বলে এসেছি।

ক্ষুদ্র আত্মার ক্ষুদ্র যোগ্যতা ছাপিয়ে যায় হৃদয়টা
খুব যেন বড় হয়ে যায় বুকের স্পন্দনগুলো,
ভালোবেসে যাও, করে যাও কাজ। পাবেই একদিন, নিশ্চিত।
প্রাপ্তির চিন্তায় কাজ হয় না, কাজ করে গেলে প্রাপ্তি আসে।
অনেকদিন পর যেন একটু শক্তি পাই, একটু অন্যরকম কিছু…

Posted in কবিতা | ১ টি মন্তব্য

বদ্ধতা কিংবা আবর্তন


এডিটরটা খুলে শিরোনাম দিলাম। আমার কাছে ব্যাপারটা একটু হাস্যকর, কারণ লেখাটা দাঁড় হয়নি। কি লেখা হবে কিনা তাও জানিনা। অনেকদিন লিখিনা যেই সংকোচ বা উন্নাসিকতা থেকে, আজ সেখান থেকে একটু বের হবার চেষ্টা আরকি। সেটা নিয়েই শিরোনাম দিয়ে বসলাম — বদ্ধতা কিংবা আবর্তন। প্রায় ৫ বছর হতে চললো এই ব্লগের বয়স। ক্লাস এইট থেকে ডায়েরি লেখার শুরু ছিলো আমার, ঐটাই ইন্টারনেটে কানেকটেড হবার পর থেকে ব্লগে রূপ নিলো। প্রথম দিকে তো কবিতা আর কিছু সাহিত্যমার্কা চিঠি লেখার বালখিল্য চেষ্টা ছিলো। একসময় দেখলাম ঘুরে ফিরে একই রকম অনুভূতি আমার, কথাগুলাও তাই প্রায় একই রকম। দু’হাজার সালের ডায়েরির পাতাও আজ থেকে চৌদ্দ বছর আগেও এমনটাই মনে হতো। প্রতিটা পাতা প্রায় কাছাকাছি। আমার জীবনে কি বৈচিত্র্য কম? নাকি আসলে মানব জীবনটাই এমন?

ঘুরে ফিরে মানুষের জীবনগুলোও মনে হয় একই রকম। একসময় ছিলাম কিশোর, চারপাশে উচ্ছ্বাসভরা বন্ধুদের বসবাস, নিয়মনীতির এক জালে বেঁচে থাকার প্রাণান্ত। একসময় এলো প্রকৌশলবিদ্যার বন্ধুদের মাঝে যৌবনের বেলা। আমি তখন দ্রষ্টা, চারপাশের যান্ত্রিকতা পেরিয়ে একটু অনুভূতির স্পর্শ পেতে মরিয়া। এরপর থেকে দশটা-ছয়টা এক অদ্ভুত চক্রে ঘুরছি তো ঘুরছিই। চারপাশ অনেক বদলে গেছে, আমি ভাবতাম হয়ত সময় অতিক্রমনে আমার এই বদ্ধতা বদলে যাবে। যায়না আসলে। এই অনতিক্রম্যতার গূঢ় রহস্য পেরিয়ে যেতে আমি থৈ পাইনি কখনো। ম্লান লাগে আমার নিজেকেই, নিজের বোধ, চারপাশ, এই দু’চোখ আর আমার অস্পৃশ্য ভোঁতা অনুভূতিগুলোকে… Continue reading

Posted in ব্লগর ব্লগর